ঢাকা ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কেশবপুরে বেগম খালেদা জিয়া’র রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল পাবনার তিন আসনে ১৮ প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ যশোরে ভোটের মাঠে চূড়ান্ত ৩৪ প্রার্থী: ২২ জানুয়ারি প্রচার শুরু টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে ৬ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন রাজশাহী- ৬ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ নাজমুল হক পেলেন দাঁড়িপাল্লা ঈশ্বরদীতে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ কাশিনাথপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র যেন গণ-শৌচাগার ঈশ্বরদীতে মানবতার সেবা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের কম্বল বিতরন টাকা না দেওয়ায় দুই শিক্ষার্থীকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চালান মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

পৃথিবীর আকৃতির নতুন গ্রহ আবিষ্কার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১২:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ মে ২০২৩ ১৫৫ বার পড়া হয়েছে

এফএনএস তথ্য-প্রযুক্তি: পৃথিবীর আকৃতির সমান নতুন আরও একটি এক্সোপ্লানেট বা গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে। গ্রহটি আবিষ্কার করেছেন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। মিল্কিওয়ের পাশের একটি গ্যালাক্সিতে একটি তারার চারপাশে প্রদক্ষিণরত এ গ্রহটি অসংখ্য সক্রিয় আগ্নেয়গিরি দিয়ে ঢাকা বলে জানিয়েছেন তারা। মিল্কিওয়ের পাশের গ্যালাক্সিতে বিশেষ ওই তারার পাশে এর আগে আরও দুটি গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে। গত বুধবার তৃতীয় গ্রহটির সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি জানান বিজ্ঞানীরা। নতুন এ গ্রহের নাম দেয়া হয়েছে এলপি ৭৯১-১৮ডি। গ্রহটি আগ্নেয়গিরিতে আচ্ছ্বাদিত। আর এই আগ্নেয়গিরিগুলো অনেকটাই বৃহস্পতির চাঁদ আইওতে থাকা আগ্নেয়গিরির মতো হয়ে থাকতে পারে। তবে গ্রহটি পৃথিবীর আকৃতির হলেও এতে জীবন ধারণের কোনো প্রাথমিক চিহ্ন খুঁজে পাওয়ার বিষয়ে কিছু জানায়নি নাসা বা এর সংশ্লিষ্ট গবেষকরা।

এতে আগ্নেয়গিরির ধারণা বিজ্ঞানীরা পেয়েছেন তার কক্ষপথে বৃহস্পতির চাঁদ আইওর সাদৃশ্য থাকায়। ইউনিভার্সিটি অব কানসাসের পদার্থ ও জ্যোতির্বিদ্যার অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ইয়ান ক্রসফিল্ড বলেন, ‘আমরা জানি না সেখানে আদৌ আগ্নেয়গিরি আছে কি না।’ কিন্তু বৃহস্পতির চাঁদ আইওর কক্ষপথের কারণেই সেখানে আগ্নেয়গিরি দেখা যায়। আর একইরকম কক্ষপথ রয়েছে এলপি ৭৯১-১৮ডি নামক এক্সোপ্ল্যানেটে। এক্সোপ্ল্যানেটটি নিজ অবস্থানে ঘোরে না, অর্থাৎ এক স্থানে সবসময় দিন থাকে ও অপর স্থানে সবসময় রাত, আইওর অবস্থানও এমন। সে কারণেই ভাবা হচ্ছে, এক্সোপ্ল্যানেটটি আগ্নেয়গিরিতে আচ্ছ্বাদিত। পৃথিবীতে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি থাকলেও আমাদের সৌরজগতে প্রদক্ষিণরত সবগুলো গ্রহ ও চাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্নেয়গিরি আছে এই আইওতেই। গ্রহটিকে খুঁজে পেতে জ্যোতির্বিদরা নাসার গ্রহ খুঁজে বের করার ‘ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট’, স্পিটজার স্পেস টেলিস্কোপ ও অন্যান্য কিছু স্থলভিত্তিক টেলিস্কোপ থেকে সংগৃহীত ডেটা ব্যবহার করেছেন।

নেচার জার্নালে এ-সংক্রান্ত গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। নাসার একটি ভ্যারিফায়েড টুইটার পেজ থেকেও বুধবার (১৭ মে) এক টুইটবার্তায় নতুন এক্সোপ্ল্যানেট খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছে। এলপি ৭৯১-১৮ডি এক্সোপ্ল্যানেটটির অবস্থান পৃথিবী থেকে ৯০ আলোকবর্ষ দূরে ক্রেটার নক্ষত্র মণ্ডলে। এটি একটি লাল বামন নক্ষত্রকে ঘিরে ঘুরছে। আলো সেকেন্ডে ৩ লাখ ৮ হাজার কিলোমিটার বেগে ছোটে। এই আলোই এক বছরে যত দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে, তাকেই এক আলোকবর্ষ বলা হয়। গবেষণা প্রবন্ধে আরও বলা হয়েছে, এর পাশাপাশি আরও দুটি এক্সোপ্ল্যানেটও একই নক্ষত্রকে ঘিরে ঘুরছে, যার আকৃতি খুব সম্ভব পৃথিবী থেকে ২০ শতাংশ বেশি। আমাদের সৌরজগতের বাইরে খুঁজে পাওয়া গ্রহগুলোকেই এক্সোপ্ল্যানেট বলা হয়। ১৯৯৫ সালে প্রথম এক্সোপ্ল্যানেট শনাক্তের পর থেকে এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা ৪ হাজারেরও বেশি এক্সোপ্ল্যানেট খুঁজে পেয়েছেন। এর মধ্যে ‘কেপলার-২২বি’-এর মতো কিছু গ্রহ রয়েছে, যেগুলো সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এতে প্রাণ না থাকলেও প্রাণ ধারণের উপযোগী পরিবেশ থাকতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পৃথিবীর আকৃতির নতুন গ্রহ আবিষ্কার

আপডেট সময় : ০৯:১২:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ মে ২০২৩

এফএনএস তথ্য-প্রযুক্তি: পৃথিবীর আকৃতির সমান নতুন আরও একটি এক্সোপ্লানেট বা গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে। গ্রহটি আবিষ্কার করেছেন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। মিল্কিওয়ের পাশের একটি গ্যালাক্সিতে একটি তারার চারপাশে প্রদক্ষিণরত এ গ্রহটি অসংখ্য সক্রিয় আগ্নেয়গিরি দিয়ে ঢাকা বলে জানিয়েছেন তারা। মিল্কিওয়ের পাশের গ্যালাক্সিতে বিশেষ ওই তারার পাশে এর আগে আরও দুটি গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে। গত বুধবার তৃতীয় গ্রহটির সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি জানান বিজ্ঞানীরা। নতুন এ গ্রহের নাম দেয়া হয়েছে এলপি ৭৯১-১৮ডি। গ্রহটি আগ্নেয়গিরিতে আচ্ছ্বাদিত। আর এই আগ্নেয়গিরিগুলো অনেকটাই বৃহস্পতির চাঁদ আইওতে থাকা আগ্নেয়গিরির মতো হয়ে থাকতে পারে। তবে গ্রহটি পৃথিবীর আকৃতির হলেও এতে জীবন ধারণের কোনো প্রাথমিক চিহ্ন খুঁজে পাওয়ার বিষয়ে কিছু জানায়নি নাসা বা এর সংশ্লিষ্ট গবেষকরা।

এতে আগ্নেয়গিরির ধারণা বিজ্ঞানীরা পেয়েছেন তার কক্ষপথে বৃহস্পতির চাঁদ আইওর সাদৃশ্য থাকায়। ইউনিভার্সিটি অব কানসাসের পদার্থ ও জ্যোতির্বিদ্যার অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ইয়ান ক্রসফিল্ড বলেন, ‘আমরা জানি না সেখানে আদৌ আগ্নেয়গিরি আছে কি না।’ কিন্তু বৃহস্পতির চাঁদ আইওর কক্ষপথের কারণেই সেখানে আগ্নেয়গিরি দেখা যায়। আর একইরকম কক্ষপথ রয়েছে এলপি ৭৯১-১৮ডি নামক এক্সোপ্ল্যানেটে। এক্সোপ্ল্যানেটটি নিজ অবস্থানে ঘোরে না, অর্থাৎ এক স্থানে সবসময় দিন থাকে ও অপর স্থানে সবসময় রাত, আইওর অবস্থানও এমন। সে কারণেই ভাবা হচ্ছে, এক্সোপ্ল্যানেটটি আগ্নেয়গিরিতে আচ্ছ্বাদিত। পৃথিবীতে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি থাকলেও আমাদের সৌরজগতে প্রদক্ষিণরত সবগুলো গ্রহ ও চাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্নেয়গিরি আছে এই আইওতেই। গ্রহটিকে খুঁজে পেতে জ্যোতির্বিদরা নাসার গ্রহ খুঁজে বের করার ‘ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট’, স্পিটজার স্পেস টেলিস্কোপ ও অন্যান্য কিছু স্থলভিত্তিক টেলিস্কোপ থেকে সংগৃহীত ডেটা ব্যবহার করেছেন।

নেচার জার্নালে এ-সংক্রান্ত গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। নাসার একটি ভ্যারিফায়েড টুইটার পেজ থেকেও বুধবার (১৭ মে) এক টুইটবার্তায় নতুন এক্সোপ্ল্যানেট খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছে। এলপি ৭৯১-১৮ডি এক্সোপ্ল্যানেটটির অবস্থান পৃথিবী থেকে ৯০ আলোকবর্ষ দূরে ক্রেটার নক্ষত্র মণ্ডলে। এটি একটি লাল বামন নক্ষত্রকে ঘিরে ঘুরছে। আলো সেকেন্ডে ৩ লাখ ৮ হাজার কিলোমিটার বেগে ছোটে। এই আলোই এক বছরে যত দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে, তাকেই এক আলোকবর্ষ বলা হয়। গবেষণা প্রবন্ধে আরও বলা হয়েছে, এর পাশাপাশি আরও দুটি এক্সোপ্ল্যানেটও একই নক্ষত্রকে ঘিরে ঘুরছে, যার আকৃতি খুব সম্ভব পৃথিবী থেকে ২০ শতাংশ বেশি। আমাদের সৌরজগতের বাইরে খুঁজে পাওয়া গ্রহগুলোকেই এক্সোপ্ল্যানেট বলা হয়। ১৯৯৫ সালে প্রথম এক্সোপ্ল্যানেট শনাক্তের পর থেকে এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা ৪ হাজারেরও বেশি এক্সোপ্ল্যানেট খুঁজে পেয়েছেন। এর মধ্যে ‘কেপলার-২২বি’-এর মতো কিছু গ্রহ রয়েছে, যেগুলো সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এতে প্রাণ না থাকলেও প্রাণ ধারণের উপযোগী পরিবেশ থাকতে পারে।