ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কেশবপুরে বেগম খালেদা জিয়া’র রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল পাবনার তিন আসনে ১৮ প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ যশোরে ভোটের মাঠে চূড়ান্ত ৩৪ প্রার্থী: ২২ জানুয়ারি প্রচার শুরু টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে ৬ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন রাজশাহী- ৬ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ নাজমুল হক পেলেন দাঁড়িপাল্লা ঈশ্বরদীতে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ কাশিনাথপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র যেন গণ-শৌচাগার ঈশ্বরদীতে মানবতার সেবা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের কম্বল বিতরন টাকা না দেওয়ায় দুই শিক্ষার্থীকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চালান মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

ছয় কংগ্রেসম্যানের বিপরীতে এবার বাংলাদেশের পক্ষে ১৯২ জনের চিঠি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জুন ২০২৩ ১৪৩ বার পড়া হয়েছে

এফএনএস

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ছয় কংগ্রেসম্যান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে যে চিঠি দিয়েছিলেন সেই চিঠির বিপরীতে এবার পাল্টা চিঠি দিয়েছেন ১৯২ জন। চিঠিদাতা ১৯২ জনের সবাই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিশিষ্ট মার্কিন নাগরিক। চিঠিদাতারা বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে ছয় মার্কিন কংগ্রেসম্যানের দেওয়া বক্তব্যকে অসত্য উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এক যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কংগ্রেসম্যানরা দাবি করেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান সরকারের সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। তবে বিষয়টি মিথ্যা দাবি করে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা, নিম্নস্বাক্ষরকারী বাংলাদেশি-আমেরিকানরা, কংগ্রেসম্যানদের চিঠি থেকে মিথ্যা তথ্য প্রত্যাহার করার জন্য অনুরোধ করছি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনকে দেওয়া মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের চিঠিতে থাকা এই ‘ভুল তথ্য’ কেবল বাংলাদেশের সংখ্যালঘু অধিকারের বিষয়ে কংগ্রেসম্যানদের অবস্থানের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই ক্ষুন্ন করবে না, অধিকন্তু নিম্নস্বাক্ষরকারী বাংলাদেশি-আমেরিকানদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। এতে বলা হয়, সবচেয়ে খারাপ দিকটি হচ্ছে, (মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের) এসব মিথ্যা বিবৃতি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের দুর্দশা আরও বাড়িয়ে তুলবে। বাংলাদেশি আমেরিকানরা উল্লেখ করেছে যে, কংগ্রেসম্যানদের বিবৃতি অক্টোবর ২০০১-এর সংসদীয় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতাকে উপেক্ষা করেছে। ওই নির্বাচনে ‘বিজয়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময়ে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সহিংস নির্যাতন সংঘটিত হয়েছিল। তারা বলেছেন, কংগ্রেসম্যানদের বিবৃতিতে বর্তমান সরকারের অধীনে বাংলাদেশে খ্রিস্টান জনসংখ্যার নিপীড়ন সম্পর্কে বানোয়াট তথ্য রয়েছে। বাংলাদেশি-আমেরিকানরা এটাও স্বীকার করেছে যে, তারা ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বাংলাদেশ ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নিপীড়ন দেখেছিল। ওই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসাবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসে। তারা বিবৃতিতে আরও বলেন, আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই যে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার জন্য একই গোষ্ঠীগুলোই দায়ী। সেই সঙ্গে বিদেশি ও ব্লগার-অ্যাক্টিভিস্টদের হত্যা এবং দেশজুড়ে বোমা হামলা চালানোর জন্যও তারা দায়ী। এতে আরও বলা হয়, একই গোষ্ঠীর এজেন্টরা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের লক্ষ্যে ভুল তথ্য সরবরাহ করছে যাতে লঙ্ঘনকারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায় আনা হয়। কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু অধিকারের জন্য সক্রিয়ভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়া এই প্রবাসীরা বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সুস্থতার জন্য কংগ্রেসম্যানদের চিঠি থেকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য’ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন-মিলবোর্ন সিটির মেয়র মাহবুবুল আলম তৈয়ব, কাউন্সিলম্যান ড. নূরন নবী (এমজে), নূরুল হাসান (এনএইচ), রাজ্য প্রতিনিধি আবুল খান (এনএইচ), অধ্যাপক এবিএম নাসির (এনসি), ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ (পিএ), নবেন্দু দত্ত (এনওয়াই), বিজ্ঞানী ড. সুফিয়ান এ খন্দকার, ড. জিনা নবী (এনজে), আন্তর্জাতিক টেকসই উন্নয়নের পরিচালক ইকবাল ইউসুফ, হিউজ নেটওয়ার্কের সিইও নিজামউদ্দিন আহমেদ (ভিএ), প্রকৌশলী রানা হাসান মাহমুদ (সিএ), আহাদ আহমেদ (এমআই), প্রাণবন্ধু চক্রবর্তী (এনওয়াই), লেখক ড. জ্যোতি প্রকাশ দত্ত (এফএল), ড. পূরবী বসু (এফএল), অ্যাক্টিভিস্ট সফেদা বসু (এমএ), সবিতা দাস (এনওয়াই), কমিউনিটি নেতা গোপাল স্যানাল (এনওয়াই), ড. খন্দকার মনসুর (এনওয়াই), শ্যামল চক্রবর্তী (এনওয়াই), পরিমল কর্মকার (এনওয়াই), সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জামাল উদ্দিন হোসেন (আ.), শিল্পী রথীন্দ্র নাথ রায় (এনওয়াই), গৌরব গল্প (ভিএ), সাংবাদিক দস্তগীর জাহাঙ্গীর (ভিএ), সিতাংশু গুহ (এনওয়াই), শিক্ষক ড. দিলীপ নাথ (এনওয়াই), পিএইচডি ছাত্র তৌজিয়াত আহমেদ (এনওয়াই), ব্যবসায়ী ফারুক আহমেদ (এনওয়াই), সৈয়দ রশিদ আহমেদ করমানি (এনওয়াই) প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ছয় কংগ্রেসম্যানের বিপরীতে এবার বাংলাদেশের পক্ষে ১৯২ জনের চিঠি

আপডেট সময় : ০২:০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জুন ২০২৩

এফএনএস

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ছয় কংগ্রেসম্যান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে যে চিঠি দিয়েছিলেন সেই চিঠির বিপরীতে এবার পাল্টা চিঠি দিয়েছেন ১৯২ জন। চিঠিদাতা ১৯২ জনের সবাই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিশিষ্ট মার্কিন নাগরিক। চিঠিদাতারা বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে ছয় মার্কিন কংগ্রেসম্যানের দেওয়া বক্তব্যকে অসত্য উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এক যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কংগ্রেসম্যানরা দাবি করেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান সরকারের সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। তবে বিষয়টি মিথ্যা দাবি করে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা, নিম্নস্বাক্ষরকারী বাংলাদেশি-আমেরিকানরা, কংগ্রেসম্যানদের চিঠি থেকে মিথ্যা তথ্য প্রত্যাহার করার জন্য অনুরোধ করছি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনকে দেওয়া মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের চিঠিতে থাকা এই ‘ভুল তথ্য’ কেবল বাংলাদেশের সংখ্যালঘু অধিকারের বিষয়ে কংগ্রেসম্যানদের অবস্থানের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই ক্ষুন্ন করবে না, অধিকন্তু নিম্নস্বাক্ষরকারী বাংলাদেশি-আমেরিকানদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। এতে বলা হয়, সবচেয়ে খারাপ দিকটি হচ্ছে, (মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের) এসব মিথ্যা বিবৃতি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের দুর্দশা আরও বাড়িয়ে তুলবে। বাংলাদেশি আমেরিকানরা উল্লেখ করেছে যে, কংগ্রেসম্যানদের বিবৃতি অক্টোবর ২০০১-এর সংসদীয় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতাকে উপেক্ষা করেছে। ওই নির্বাচনে ‘বিজয়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময়ে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সহিংস নির্যাতন সংঘটিত হয়েছিল। তারা বলেছেন, কংগ্রেসম্যানদের বিবৃতিতে বর্তমান সরকারের অধীনে বাংলাদেশে খ্রিস্টান জনসংখ্যার নিপীড়ন সম্পর্কে বানোয়াট তথ্য রয়েছে। বাংলাদেশি-আমেরিকানরা এটাও স্বীকার করেছে যে, তারা ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বাংলাদেশ ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নিপীড়ন দেখেছিল। ওই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসাবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসে। তারা বিবৃতিতে আরও বলেন, আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই যে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার জন্য একই গোষ্ঠীগুলোই দায়ী। সেই সঙ্গে বিদেশি ও ব্লগার-অ্যাক্টিভিস্টদের হত্যা এবং দেশজুড়ে বোমা হামলা চালানোর জন্যও তারা দায়ী। এতে আরও বলা হয়, একই গোষ্ঠীর এজেন্টরা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের লক্ষ্যে ভুল তথ্য সরবরাহ করছে যাতে লঙ্ঘনকারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায় আনা হয়। কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু অধিকারের জন্য সক্রিয়ভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়া এই প্রবাসীরা বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সুস্থতার জন্য কংগ্রেসম্যানদের চিঠি থেকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য’ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন-মিলবোর্ন সিটির মেয়র মাহবুবুল আলম তৈয়ব, কাউন্সিলম্যান ড. নূরন নবী (এমজে), নূরুল হাসান (এনএইচ), রাজ্য প্রতিনিধি আবুল খান (এনএইচ), অধ্যাপক এবিএম নাসির (এনসি), ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ (পিএ), নবেন্দু দত্ত (এনওয়াই), বিজ্ঞানী ড. সুফিয়ান এ খন্দকার, ড. জিনা নবী (এনজে), আন্তর্জাতিক টেকসই উন্নয়নের পরিচালক ইকবাল ইউসুফ, হিউজ নেটওয়ার্কের সিইও নিজামউদ্দিন আহমেদ (ভিএ), প্রকৌশলী রানা হাসান মাহমুদ (সিএ), আহাদ আহমেদ (এমআই), প্রাণবন্ধু চক্রবর্তী (এনওয়াই), লেখক ড. জ্যোতি প্রকাশ দত্ত (এফএল), ড. পূরবী বসু (এফএল), অ্যাক্টিভিস্ট সফেদা বসু (এমএ), সবিতা দাস (এনওয়াই), কমিউনিটি নেতা গোপাল স্যানাল (এনওয়াই), ড. খন্দকার মনসুর (এনওয়াই), শ্যামল চক্রবর্তী (এনওয়াই), পরিমল কর্মকার (এনওয়াই), সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জামাল উদ্দিন হোসেন (আ.), শিল্পী রথীন্দ্র নাথ রায় (এনওয়াই), গৌরব গল্প (ভিএ), সাংবাদিক দস্তগীর জাহাঙ্গীর (ভিএ), সিতাংশু গুহ (এনওয়াই), শিক্ষক ড. দিলীপ নাথ (এনওয়াই), পিএইচডি ছাত্র তৌজিয়াত আহমেদ (এনওয়াই), ব্যবসায়ী ফারুক আহমেদ (এনওয়াই), সৈয়দ রশিদ আহমেদ করমানি (এনওয়াই) প্রমুখ।