ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈশ্বরদীতে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের মাটি পর্যন্ত খেয়ে ফেলবে : রফিকুল ইসলাম খান ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে কুকুরের ৮ ছানাকে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যা বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ায় সংবাদ সম্মেলন ঈশ্বরদীতে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল নাজনীন মুন্নির টকশো বাণিজ্যে ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মাত্র ২ ঘন্টায় শেষ দর্শনার্থীহীন ঈশ্বরদীর প্রাণী সম্পদ প্রদর্শনী মেলা হাবিবের মনোনয়ন প্রত্যাহারের দাবিতে ঈশ্বরদীতে মশাল মিছিল রাজনৈতিক আশ্রয় না পেয়ে দেশে ফিরলেন নাজনীন মুন্নি কিশোর-কিশোরীদের জন্য কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা : তোমার ডিজিটাল বন্ধু

এক যুগে রেলের আয়ের তুলনায় ব্যয় দ্বিগুণ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৭:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুলাই ২০২৩ ৯০ বার পড়া হয়েছে

এফএনএস
আয়ের চেয়ে বেশি ব্যয় হচ্ছে রেলের। ২০২০-২১ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। লোকসানের সঙ্গে সঙ্গে কমেছে রেলওয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাও। ২৫ বছর আগে যেখানে রেলকে ১ টাকা আয় করতে ৯৬ পয়সা ব্যয় করতে হতো, সেখানে বর্তমানে ১ টাকা আয় করতে গিয়ে রেলওয়ের ব্যয় হচ্ছে ২ টাকা ৭৮ পয়সা। এ অবস্থার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নিজেদের সম্পদ ও জনবলের সুষ্ঠু ব্যবহার করতে পারছে না রেল। প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতার পাশাপাশি দুর্নীতিও রেলের ধারাবাহিক লোকসানের জন্য দায়ী। বিশেষজ্ঞদের এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত রেলপথ মন্ত্রণালয়ও। রেলপথ মন্ত্রণালয়ও বলছে- দুর্নীতি-অনিয়ম বন্ধ করা না হলে, রেলের সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে এবং যাত্রীসেবার মান না বাড়ানো হলে রেলের লোকসান কমানো কষ্টকর হবে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছর বাংলাদেশ রেলওয়ের অপারেটিং রেশিও ছিল ৯৫ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ ওই অর্থবছরে প্রতি ১ টাকা আয় করতে গিয়ে রেলওয়ের ব্যয় হয়েছিল ৯৫ দশমিক ৯ পয়সা। পরবর্তী সময়ে সংস্থাটি অপারেটিং রেশিওর এ হার আর ধরে রাখতে পারেনি। ২০০৮-০৯ অর্থবছর এ রেশিও ছিল ১৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ ওই অর্থবছরে প্রতি ১ টাকা আয় করতে গিয়ে রেলওয়েকে প্রায় ১ টাকা ৫৯ পয়সা ব্যয় করতে হয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছর রেলওয়ের অপারেটিং রেশিও ছিল ২১৭ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ রেশিও বেড়ে দাঁড়ায় ২৪৬ দশমিক ২ শতাংশে। আর ২০২০-২১ অর্থবছরে অপারেটিং রেশিও পৌঁছেছে ২৭৭ দশমিক ৮৩ শতাংশে। অর্থাৎ বর্তমানে প্রতি ১ টাকা আয় করতে গিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের খরচ হচ্ছে প্রায় ২ টাকা ৭৮ পয়সা। সূত্র জানায়, রেল যে শুধু আয় অনুপাতে ব্যয় বেশি করছে তা-ই নয়, দেশের পরিবহন ব্যবস্থায়ও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারছে না। দেশের মোট যাত্রীর মাত্র ৪ শতাংশ পরিবহন করছে সংস্থাটি। একইভাবে মোট পণ্যের মাত্র ৪ শতাংশ পরিবহন করছে রেল। যদিও বাংলাদেশ রেলওয়ের আয়ের প্রধান খাত যাত্রী পরিবহন। মোট আয়ের ৬০ শতাংশের বেশি আসে এ খাত থেকে। অন্যদিকে সংস্থাটির মোট আয়ের ২০ শতাংশ আসে পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে। জমি ইজারা, ক্যাটারিংসহ বিবিধ খাত থেকে আসে অবশিষ্ট আয়। বিপরীতে সংস্থাটির পরিচালন ব্যয়ের সবচেয়ে বড় খাত ইঞ্জিন-কোচ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ। মোট ব্যয়ের ৩০ শতাংশের বেশি হয় এ খাতে। এর বাইরে মোট ব্যয়ের প্রায় ১৭ শতাংশ জ¦ালানি তেল খাতে, প্রায় ১২ শতাংশ কর্মীদের বেতন-ভাতা খাতে, প্রায় ৯ শতাংশ প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা খাতে এবং প্রায় ২৯ শতাংশ ব্যয় হয় বিবিধ খাতে। সূত্র আরো জানায়, গত আড়াই দশকে মোটা অংকের বিনিয়োগ পেয়েছে রেল খাত। রেলওয়ে বিভাগকে উত্তীর্ণ করা হয় মন্ত্রণালয়ে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয় ৮৩টি উন্নয়ন প্রকল্প। এতে ব্যয় হয় ২০ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। বর্তমানে চলমান রয়েছে ৩৪টি প্রকল্প, যেগুলোর প্রাক্কলিত ব্যয় ১ লাখ ৪১ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। যদিও এ বিপুল ব্যয় সংস্থাটিকে লাভজনক করতে পারেনি। উল্টো বছর বছর বড় হয়েছে লোকসানের পরিমাণ। ২০২০-২১ বছরে সব মিলিয়ে ২ হাজার ১০২ কোটি টাকা লোকসান করেছে সংস্থাটি। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত কয়েক বছরে রেলওয়েতে বড় বড় বিনিয়োগ করা হচ্ছে। কিন্তু সেগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের একটা বড় ঘাটতি আছে। কোন কাজটি আগে করতে হবে, কোনটি পরে হবে-তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে না। পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে রেলের একটা বাধাধরা আয় আসতে পারে। একই রকম আয় আসতে পারে সম্পদ ব্যবস্থাপনা থেকে। উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া উচিত ছিল এসব বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে। পাশাপাশি গুরুত্ব দেয়া উচিত ছিল ট্রেনের গতি বাড়িয়ে, শিডিউল বিপর্যয় কমিয়ে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন করা। কিন্তু এগুলো রেল করতে পারেনি। ফলে সংস্থাটির লোকসানের পরিমাণ বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে উন্নয়ন ব্যয়ের রিটার্ন। যদিও রেলের কর্মকর্তারা সব সময় বলেন, তারা অর্ধেক জনবল নিয়ে চলছেন। জনবল কম হলে তো বেতন-ভাতা বাবদ পরিচালন ব্যয় কমে আসার কথা। কিন্তু রেলের কর্মীদের দায়িত্বে অবহেলা ও দুর্নীতির কথা প্রতিনিয়ত শোনা যায়। আর এভাবে চললে দিন দিন সংস্থাটির লোকসানের পাল্লা ভারী হওয়ারই কথা। এদিকে দিন দিন রেলের অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে তা মানতে নারাজ রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। তার মতে, যুগ আগের তুলনায় বর্তমানে রেল অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে। ট্রেন চলাচলের সময়সূচিতে উন্নতি হয়েছে। আধুনিক ইঞ্জিন-কোচ সংযোজন করা হয়েছে ও হচ্ছে। পুরনো রেলপথ সংস্কার, নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে। যমুনা নদীতে রেলের জন্য পৃথক সেতু তৈরি হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ রেলপথগুলো ডাবল লাইনে উন্নীত করা হচ্ছে। চলমান প্রকল্পগুলো শেষ হলে রেল পরিবহন সেবায় আরো ভালো অবস্থানে পৌঁছে যাবে। একই সঙ্গে রেল লোকসানের ধারা থেকেও বেরিয়ে আসবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

এক যুগে রেলের আয়ের তুলনায় ব্যয় দ্বিগুণ

আপডেট সময় : ১০:৫৭:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুলাই ২০২৩

এফএনএস
আয়ের চেয়ে বেশি ব্যয় হচ্ছে রেলের। ২০২০-২১ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। লোকসানের সঙ্গে সঙ্গে কমেছে রেলওয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাও। ২৫ বছর আগে যেখানে রেলকে ১ টাকা আয় করতে ৯৬ পয়সা ব্যয় করতে হতো, সেখানে বর্তমানে ১ টাকা আয় করতে গিয়ে রেলওয়ের ব্যয় হচ্ছে ২ টাকা ৭৮ পয়সা। এ অবস্থার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নিজেদের সম্পদ ও জনবলের সুষ্ঠু ব্যবহার করতে পারছে না রেল। প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতার পাশাপাশি দুর্নীতিও রেলের ধারাবাহিক লোকসানের জন্য দায়ী। বিশেষজ্ঞদের এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত রেলপথ মন্ত্রণালয়ও। রেলপথ মন্ত্রণালয়ও বলছে- দুর্নীতি-অনিয়ম বন্ধ করা না হলে, রেলের সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে এবং যাত্রীসেবার মান না বাড়ানো হলে রেলের লোকসান কমানো কষ্টকর হবে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছর বাংলাদেশ রেলওয়ের অপারেটিং রেশিও ছিল ৯৫ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ ওই অর্থবছরে প্রতি ১ টাকা আয় করতে গিয়ে রেলওয়ের ব্যয় হয়েছিল ৯৫ দশমিক ৯ পয়সা। পরবর্তী সময়ে সংস্থাটি অপারেটিং রেশিওর এ হার আর ধরে রাখতে পারেনি। ২০০৮-০৯ অর্থবছর এ রেশিও ছিল ১৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ ওই অর্থবছরে প্রতি ১ টাকা আয় করতে গিয়ে রেলওয়েকে প্রায় ১ টাকা ৫৯ পয়সা ব্যয় করতে হয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছর রেলওয়ের অপারেটিং রেশিও ছিল ২১৭ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ রেশিও বেড়ে দাঁড়ায় ২৪৬ দশমিক ২ শতাংশে। আর ২০২০-২১ অর্থবছরে অপারেটিং রেশিও পৌঁছেছে ২৭৭ দশমিক ৮৩ শতাংশে। অর্থাৎ বর্তমানে প্রতি ১ টাকা আয় করতে গিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের খরচ হচ্ছে প্রায় ২ টাকা ৭৮ পয়সা। সূত্র জানায়, রেল যে শুধু আয় অনুপাতে ব্যয় বেশি করছে তা-ই নয়, দেশের পরিবহন ব্যবস্থায়ও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারছে না। দেশের মোট যাত্রীর মাত্র ৪ শতাংশ পরিবহন করছে সংস্থাটি। একইভাবে মোট পণ্যের মাত্র ৪ শতাংশ পরিবহন করছে রেল। যদিও বাংলাদেশ রেলওয়ের আয়ের প্রধান খাত যাত্রী পরিবহন। মোট আয়ের ৬০ শতাংশের বেশি আসে এ খাত থেকে। অন্যদিকে সংস্থাটির মোট আয়ের ২০ শতাংশ আসে পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে। জমি ইজারা, ক্যাটারিংসহ বিবিধ খাত থেকে আসে অবশিষ্ট আয়। বিপরীতে সংস্থাটির পরিচালন ব্যয়ের সবচেয়ে বড় খাত ইঞ্জিন-কোচ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ। মোট ব্যয়ের ৩০ শতাংশের বেশি হয় এ খাতে। এর বাইরে মোট ব্যয়ের প্রায় ১৭ শতাংশ জ¦ালানি তেল খাতে, প্রায় ১২ শতাংশ কর্মীদের বেতন-ভাতা খাতে, প্রায় ৯ শতাংশ প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা খাতে এবং প্রায় ২৯ শতাংশ ব্যয় হয় বিবিধ খাতে। সূত্র আরো জানায়, গত আড়াই দশকে মোটা অংকের বিনিয়োগ পেয়েছে রেল খাত। রেলওয়ে বিভাগকে উত্তীর্ণ করা হয় মন্ত্রণালয়ে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয় ৮৩টি উন্নয়ন প্রকল্প। এতে ব্যয় হয় ২০ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। বর্তমানে চলমান রয়েছে ৩৪টি প্রকল্প, যেগুলোর প্রাক্কলিত ব্যয় ১ লাখ ৪১ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। যদিও এ বিপুল ব্যয় সংস্থাটিকে লাভজনক করতে পারেনি। উল্টো বছর বছর বড় হয়েছে লোকসানের পরিমাণ। ২০২০-২১ বছরে সব মিলিয়ে ২ হাজার ১০২ কোটি টাকা লোকসান করেছে সংস্থাটি। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত কয়েক বছরে রেলওয়েতে বড় বড় বিনিয়োগ করা হচ্ছে। কিন্তু সেগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের একটা বড় ঘাটতি আছে। কোন কাজটি আগে করতে হবে, কোনটি পরে হবে-তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে না। পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে রেলের একটা বাধাধরা আয় আসতে পারে। একই রকম আয় আসতে পারে সম্পদ ব্যবস্থাপনা থেকে। উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া উচিত ছিল এসব বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে। পাশাপাশি গুরুত্ব দেয়া উচিত ছিল ট্রেনের গতি বাড়িয়ে, শিডিউল বিপর্যয় কমিয়ে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন করা। কিন্তু এগুলো রেল করতে পারেনি। ফলে সংস্থাটির লোকসানের পরিমাণ বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে উন্নয়ন ব্যয়ের রিটার্ন। যদিও রেলের কর্মকর্তারা সব সময় বলেন, তারা অর্ধেক জনবল নিয়ে চলছেন। জনবল কম হলে তো বেতন-ভাতা বাবদ পরিচালন ব্যয় কমে আসার কথা। কিন্তু রেলের কর্মীদের দায়িত্বে অবহেলা ও দুর্নীতির কথা প্রতিনিয়ত শোনা যায়। আর এভাবে চললে দিন দিন সংস্থাটির লোকসানের পাল্লা ভারী হওয়ারই কথা। এদিকে দিন দিন রেলের অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে তা মানতে নারাজ রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। তার মতে, যুগ আগের তুলনায় বর্তমানে রেল অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে। ট্রেন চলাচলের সময়সূচিতে উন্নতি হয়েছে। আধুনিক ইঞ্জিন-কোচ সংযোজন করা হয়েছে ও হচ্ছে। পুরনো রেলপথ সংস্কার, নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে। যমুনা নদীতে রেলের জন্য পৃথক সেতু তৈরি হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ রেলপথগুলো ডাবল লাইনে উন্নীত করা হচ্ছে। চলমান প্রকল্পগুলো শেষ হলে রেল পরিবহন সেবায় আরো ভালো অবস্থানে পৌঁছে যাবে। একই সঙ্গে রেল লোকসানের ধারা থেকেও বেরিয়ে আসবে।