সিকিমে বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যার প্রভাবে আতঙ্কে বাংলাদেশের তিস্তা জনপদে মানুষ
- আপডেট সময় : ০২:৫৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৩ ১০৮ বার পড়া হয়েছে
এফএনএস
ভারতের উত্তর সিকিমে অতিভারী বর্ষণের সেখানকার জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ড্যাম (বাঁধ) ভেঙে গিয়ে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেই পানি ঢলে লালমনিরহাট ও নীলফামারীতে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে জনপদের মানুষ। অনেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার বিকেল ৩টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহের উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ মিটার ৮ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার (বিপৎসীমা ৫২ মিটার ১৫ সেন্টিমিটার) নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে দুপুর ২টায় একই পয়েন্টে পানিপ্রবাহের উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৫১ মিটার ৯০ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় পানি প্রবাহ বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে সকাল থেকে দ্রুত বাড়ছে। এই পয়েন্টে তিস্তার পানি গতকাল বুধবার বিপৎসীমা অতিক্রম করে মধ্যরাতে বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদী অববাহিকার জনপদ প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে ডালিয়া পাউবো জানিয়েছে, ভারতীয় আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ভারতের সিকিম অঞ্চলে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এর ফলে তিস্তা নদীর পাশের এলাকাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদ্দৌলা বলেন, তিস্তা অববাহিকায় স্বল্প মেয়াদি বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা মানুষকে সচেতন করছি। কোথাও কোনো সমস্যা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড তা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নুর-ই-আলম সিদ্দিকী জানান, অবস্থা মোকাবিলায় জনগণকে সতর্ক করতে সকাল থেকে তিস্তা পাড়ে মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়া লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণকে সতর্ক করতে মাইকিং করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত সতর্কবার্তা জারি করেন জেলার প্রশাসক মোহাম্মদ উল্ল্যা। তবে বিকেল বা সন্ধ্যা নাগাদ লালমনিরহাট অংশে ভয়াবহ পানির চাপ হানা দিতে পারে বলে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দাবি। জানা গেছে, ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর নীলফামারী জেলার কালীগঞ্জ সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ঐতিহাসিক তিস্তা নদী। যা লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী বন্দর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে মিশেছে। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার হলেও বাংলাদেশ অংশে রয়েছে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার। গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণ করে উজানের প্রতিবেশী দেশ ভারত সরকার একতরফা তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রণ করায় বর্ষা শেষেই বাংলাদেশ অংশে তিস্তা মরুভূমিতে পরিণত হয়। বর্ষাকালে বন্যা আর নদী ভাঙনের মুখে পড়ে তিস্তাপাড়ের মানুষ। ভাঙন ও প্রবল স্রোতে ভেসে যায় ফসলি জমি বসতভিটাসহ স্থাপনা। দিশেহারা হয়ে পড়ে নদীপাড়ের মানুষ। তিস্তা নদীর উজানে ভারতের সিকিমে একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় তিস্তা নদীতে উজানের ঢেউ বেড়েছে। ফলে সিমিকের ভিটিতে থাকা অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা করা হচ্ছে। এ ভয়াবহ বন্যার চাপ বাংলাদেশ অংশেও পড়তে পারে। তাই বাংলাদেশ অংশের তিস্তা নদীর তীরবর্তী জনপদকে সরকারিভাবে সতর্কবার্তা দিয়ে নিরাপদে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিস্তা নদী লালমনিরহাট জেলার দক্ষিণ পাশ দিয়ে পুরো জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা পাড়ে বন্যা দেখা দিলে তারা ৫টি উপজেলায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তবে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাতীবান্ধা উপজেলা। তিস্তা পাড়ে বন্যা হলে প্রথমে পাটগ্রাম উপজেলা প্লাবিত হয়। শেষ হয় সদর উপজেলা হয়ে। মূলত ৫টি উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় তিস্তা নদীর বন্যায়। আসন্ন ভয়াবহ বন্যা থেকে নিরাপদ স্থানে সতর্ক থাকতে জনগণকে সতর্ক করছে জেলা প্রশাসন। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সব প্রচার মাধ্যমে তা প্রচার করার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্ল্যা। তিস্তা ব্যারেজে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দুপুরের পরেই তিস্তা পাড়ে বন্যা দেখা দিতে পারে। তবে কি পরিমাণ পানির চাপ বাড়তে পারে তা বলা যাচ্ছে না। তবে নদীপাড়ের মানুষদের সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী আসফা উদ দৌলা বলেন, দুপুরের পরে ব্যারেজ এলাকায় তিস্তা নদীর পানি ব্যাপক হারে বাড়তে পারে। বন্যার আশঙ্কায় নদীপাড়ের মানুষদের নিরাপদে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উজানে ভারতের সিকিমে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় এ সতর্ক বার্তা বলেও জানান তিনি। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্ল্যা বলেন, আসন্ন ভয়াবহ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নদীপাড়ে মাইকিং করা হচ্ছে, বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রগুলো খুলে রাখা হয়েছে। এ বন্যা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
















