পাবনা বিপুল পরিমাণ টাকাসহ পাউবো ০২ প্রকৌশলী আটক, পালিয়ে গেলেন ঠিকাদার
- আপডেট সময় : ০২:২৪:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪ ৩০৩ বার পড়া হয়েছে
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডে (পাউবো) বিপুল পরিমাণ অর্থসহ দুই উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীকে আটক করেছে পুলিশ। উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান ঠিকাদার রাজিব ও কনকসহ কয়েকজন। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারের সঙ্গে অবৈধ এ টাকা লেনদেনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।
সূত্র বলছে, ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। অনুসন্ধানে পাউবো অফিসে যান সাংবাদিকরা। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাসুদ রানার কক্ষে গেলে ওই কক্ষ ভেতর থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। কয়েকবার নক করার পর মাসুদ রানা দরজা খুলেন। ভেতরে ঠিকাদার আরিফুজ্জামান রাজিব, কমিশনার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডি মোশাররফসহ কয়েকজনকে দেখা যায়।
এ সময় টেবিলে বিপুল অর্থও দেখতে পান সাংবাদিকরা। এরপরই আরেক ঠিকাদার কনক হাজির হন। সরকারি অফিসে ঠিকাদারের সঙ্গে বন্ধ কক্ষে কিসের অর্থ লেনদেন হচ্ছে জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি তারা। বিষয়টি সন্দেজনক মনে হওয়ায় পুলিশকে জানানো হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় দুদকও তদন্ত শুরু করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দ সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, ২০২২-২০২৩ ও ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সদ্য সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এবং সুনামগঞ্জের হাওড়ে বাঁধ নির্মাণকাজের দুর্নীতির দায়ে বার বার প্রত্যাহার নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিনের তত্ত¡াবধানে মাসুদ রানা ও এসডি মোশারফের সহযোগিতায় ডিডিএম ও আরএফকিউ পদ্ধতিতে বিভিন্ন ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে বিল ভাইচারের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। রাফি কনষ্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার আরিফুজ্জামান রাজিব সাবেক কমিশনার এবং ঠিকাদার কনকের প্রতিষ্ঠানের নামে এসব টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষটে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক গোয়োন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। এসব তদন্তে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে বলে জানান ওই গোয়োন্দা কর্মকর্তা।
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, ঘটনাটি জানতে পেরেছি। দুদক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি দেখছেন। কোথাকার টাকা, কীভাবে লেনদেন হলো সে বিষয়ে খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মাসুদ আলম বলেন, দুই কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। টাকাগুলো জব্দ করা হয়েছে। টাকা গণনা চলছে। টাকার উৎসও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।









