ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সভাপতি হাফিজ সম্পাদক হাবিব বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সভাপতি হাফিজ সম্পাদক হাবিব ঈশ্বরদীতে জমি দখলের চেষ্টা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ পাবনা-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হাবিব এর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা যৌথ বাহিনীর অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার, আটক ২ পাবনা-৪ আসনে জামায়াতের এমপি র্প্রাথীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা দরগা বাজার হাট পুনর্জীবিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে : আশরাফ হোসেন আকবর সকাল প্রি-ক্যাডেট স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণ মাতৃছায়া কিন্ডারগার্টেন স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত বিএনপির পাকা ধান মোটরসাইকেলে করে দাঁড়িপাল্লায় তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে – হাবিব

ব্রিটেনের নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৪ প্রার্থীর বাজিমাত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৩:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুলাই ২০২৪ ১৪৫ বার পড়া হয়েছে

আরা ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে এবার বাজিমাত করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীরা। লন্ডনের হ্যামস্টেড ও হাইগেট আসন থেকে টানা চতুর্থবার বিজয়ী হয়েছেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র টিউলিপ সিদ্দিক। এই আসনে বিপুল সংখ্যক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। এদিকে, টাওয়ার হ্যামলেটসের বেথনাল গ্রিন ও স্টেপনি আসন থেকে টানা পঞ্চমবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রোশনারা আলী। বাংলাদেশি পপলার অ্যান্ড লাইম হাউজ আসন থেকে আপসানা বেগম দ্বিতীয়বার জয়লাভ করেছেন। আর লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল ও একটন আসনে টানা চতুর্থবার জয়ী হয়েছেন ড. রূপা হক। তারা সবাই বিরোধী লেবার পার্টির প্রার্থী।
টিউলিপ সিদ্দিক : হ্যামস্টেড ও হাইগেট আসনে মোট ২৩ হাজার ৪৩২টি ভোট পেয়েছেন টিউলিপ। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির ডন উইলিয়ামস ভোট পেয়েছেন মাত্র ৮ হাজার ৪৬২টি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ৪১ বছর বয়সী টিউলিপকে লেবার পার্টির অভ্যন্তরে নতুন প্রজন্মের তুমুল সম্ভাবনাময় রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখছেন। ২০১৫ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টির নিরাপদ বা ‘সেফ সিট’ নয় এমন আসনে মনোনয়ন পেয়ে প্রথমবারই বাজিমাত করেন টিউলিপ। দুবার পার্টির ছায়া মন্ত্রিসভায় স্থান পান তিনি। লেবার পার্টি যুক্তরাজ্যের ক্ষমতায় আসায় এবার তিনি মন্ত্রিসভাতেও জায়গা পেতে পারেন।
রোশনারা আলী : মোট ১৫ হাজার ৮৯৬টি ভোট পেয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো জিতেছেন রোশনারা আলী। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আজমল মাশরুর পেয়েছেন ১৪ হাজার ২০৭টি ভোট। ৪ হাজার ৭৭৭ ভোটে তৃতীয় হয়েছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী রাবিনা খান। এ আসনের অপর দুই স্বতন্ত্র বাংলাদেশি প্রার্থী স্যাম উদ্দীন ৩২৫ এবং মো. সুমন আহমদ ৩১৫ ভোট পেয়েছেন।
আপসানা বেগম : বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার বিজয়ী হয়েছেন লেবার পার্টির আপসানা বেগম। মোট ১৮ হাজার ৫৩৫ ভোট পেয়েছে তিনি। আপসানার প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রিন পার্টির নাথালি বেইনফিট ৫ হাজার ৯৭৫, কনজারভেটিভ পার্টির ফ্রেডি ডউনিং ৪ হাজার ৭৩৮, স্বতন্ত্র প্রার্থী আপসানার প্রাক্তন স্বামী এহতেশামুল হক ৪ হাজার ৫৫৪ ভোট পেয়েছেন। পূর্ব লন্ডনের অপর আসনটিতে গতবার লেবার পার্টির বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের বিরোধিতার মুখেই লেবারের মনোনয়ন পান এবং নির্বাচনে জয়ী হন আপসানা বেগম। টাওয়ার হ্যামলেটসের শ্যাডওয়েলে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। বাংলাদেশে তার বাবার বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে। আপসানার বাবা মনির উদ্দিন টাওয়ার হ্যামলেটসের কাউন্সিলর ছিলেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার এমপির মধ্যে আপসানাই বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সভা সমাবেশে সবচেয়ে বেশি সময় দেন।
ড. রূপা হক : লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল ও একটন আসনে লেবার পার্টির মনোনয়নে ড. রূপা হক ২২ হাজার ৩৪০ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির জেমস উইন্ডসর ক্লাইভ পেয়েছেন ৮ হাজার ৩৪৫ ভোট।

পুরোদস্তুর রাজনীতিতে নাম লেখানোর আগে ৫২ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ বাংলাদেশি কন্যা লন্ডনের কিংসটন বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানে শিক্ষকতা করতেন। কিংসটন ইউনিভার্সিটিতে সর্বশেষ সিনিয়র লেকচারার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এই কলামিস্ট ও লেখক। ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ থেকে ব্রিটেনে আসা মোহাম্মদ হক ও রওশন আরা হক দম্পতির তিন কন্যার মধ্যে বড় রুপা হক। তার বাবার বাড়ি পাবনা শহরের কুঠিপাড়ায়। সাদামাটা জীবনযাপন ও বিনয়ী ব্যবহারের জন্য সবার প্রিয় তিনি।
হারলেন যারা : লেবার পার্টি থেকে প্রথমবার মনোনয়ন পেয়ে তুমুল প্রতিদ্বন্দিতা সত্ত্বেও অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী রুফিয়া আশরাফ ও রুমী চৌধুরী। যে আসনগুলোতে তারা হেরেছেন, সেগুলো কনজারভেটিভের দুর্গ ও ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। সাবেক মেয়র রুফিয়া আশরাফ সাউথ নর্থামটনশায়ার আসনে ১৫ হাজার ৫০৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। এই আসনে ১৯ হাজার ১৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন কনজারভেটিভ পার্টির সারাহ বুল। উইথাম আসনে কনজারভেটিভের তারকা প্রার্থী প্রীতি প্যাটেল ১৮ হাজার ৮২৭ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। এই আসনে ১৩ হাজার ৬৮২ ভোট পেয়েছেন কাউন্সিলর রুমী চৌধুরী।- সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ব্রিটেনের নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৪ প্রার্থীর বাজিমাত

আপডেট সময় : ০৬:০৩:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুলাই ২০২৪

আরা ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে এবার বাজিমাত করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীরা। লন্ডনের হ্যামস্টেড ও হাইগেট আসন থেকে টানা চতুর্থবার বিজয়ী হয়েছেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র টিউলিপ সিদ্দিক। এই আসনে বিপুল সংখ্যক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। এদিকে, টাওয়ার হ্যামলেটসের বেথনাল গ্রিন ও স্টেপনি আসন থেকে টানা পঞ্চমবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রোশনারা আলী। বাংলাদেশি পপলার অ্যান্ড লাইম হাউজ আসন থেকে আপসানা বেগম দ্বিতীয়বার জয়লাভ করেছেন। আর লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল ও একটন আসনে টানা চতুর্থবার জয়ী হয়েছেন ড. রূপা হক। তারা সবাই বিরোধী লেবার পার্টির প্রার্থী।
টিউলিপ সিদ্দিক : হ্যামস্টেড ও হাইগেট আসনে মোট ২৩ হাজার ৪৩২টি ভোট পেয়েছেন টিউলিপ। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির ডন উইলিয়ামস ভোট পেয়েছেন মাত্র ৮ হাজার ৪৬২টি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ৪১ বছর বয়সী টিউলিপকে লেবার পার্টির অভ্যন্তরে নতুন প্রজন্মের তুমুল সম্ভাবনাময় রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখছেন। ২০১৫ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টির নিরাপদ বা ‘সেফ সিট’ নয় এমন আসনে মনোনয়ন পেয়ে প্রথমবারই বাজিমাত করেন টিউলিপ। দুবার পার্টির ছায়া মন্ত্রিসভায় স্থান পান তিনি। লেবার পার্টি যুক্তরাজ্যের ক্ষমতায় আসায় এবার তিনি মন্ত্রিসভাতেও জায়গা পেতে পারেন।
রোশনারা আলী : মোট ১৫ হাজার ৮৯৬টি ভোট পেয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো জিতেছেন রোশনারা আলী। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আজমল মাশরুর পেয়েছেন ১৪ হাজার ২০৭টি ভোট। ৪ হাজার ৭৭৭ ভোটে তৃতীয় হয়েছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী রাবিনা খান। এ আসনের অপর দুই স্বতন্ত্র বাংলাদেশি প্রার্থী স্যাম উদ্দীন ৩২৫ এবং মো. সুমন আহমদ ৩১৫ ভোট পেয়েছেন।
আপসানা বেগম : বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার বিজয়ী হয়েছেন লেবার পার্টির আপসানা বেগম। মোট ১৮ হাজার ৫৩৫ ভোট পেয়েছে তিনি। আপসানার প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রিন পার্টির নাথালি বেইনফিট ৫ হাজার ৯৭৫, কনজারভেটিভ পার্টির ফ্রেডি ডউনিং ৪ হাজার ৭৩৮, স্বতন্ত্র প্রার্থী আপসানার প্রাক্তন স্বামী এহতেশামুল হক ৪ হাজার ৫৫৪ ভোট পেয়েছেন। পূর্ব লন্ডনের অপর আসনটিতে গতবার লেবার পার্টির বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের বিরোধিতার মুখেই লেবারের মনোনয়ন পান এবং নির্বাচনে জয়ী হন আপসানা বেগম। টাওয়ার হ্যামলেটসের শ্যাডওয়েলে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। বাংলাদেশে তার বাবার বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে। আপসানার বাবা মনির উদ্দিন টাওয়ার হ্যামলেটসের কাউন্সিলর ছিলেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার এমপির মধ্যে আপসানাই বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সভা সমাবেশে সবচেয়ে বেশি সময় দেন।
ড. রূপা হক : লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল ও একটন আসনে লেবার পার্টির মনোনয়নে ড. রূপা হক ২২ হাজার ৩৪০ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির জেমস উইন্ডসর ক্লাইভ পেয়েছেন ৮ হাজার ৩৪৫ ভোট।

পুরোদস্তুর রাজনীতিতে নাম লেখানোর আগে ৫২ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ বাংলাদেশি কন্যা লন্ডনের কিংসটন বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানে শিক্ষকতা করতেন। কিংসটন ইউনিভার্সিটিতে সর্বশেষ সিনিয়র লেকচারার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এই কলামিস্ট ও লেখক। ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ থেকে ব্রিটেনে আসা মোহাম্মদ হক ও রওশন আরা হক দম্পতির তিন কন্যার মধ্যে বড় রুপা হক। তার বাবার বাড়ি পাবনা শহরের কুঠিপাড়ায়। সাদামাটা জীবনযাপন ও বিনয়ী ব্যবহারের জন্য সবার প্রিয় তিনি।
হারলেন যারা : লেবার পার্টি থেকে প্রথমবার মনোনয়ন পেয়ে তুমুল প্রতিদ্বন্দিতা সত্ত্বেও অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী রুফিয়া আশরাফ ও রুমী চৌধুরী। যে আসনগুলোতে তারা হেরেছেন, সেগুলো কনজারভেটিভের দুর্গ ও ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। সাবেক মেয়র রুফিয়া আশরাফ সাউথ নর্থামটনশায়ার আসনে ১৫ হাজার ৫০৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। এই আসনে ১৯ হাজার ১৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন কনজারভেটিভ পার্টির সারাহ বুল। উইথাম আসনে কনজারভেটিভের তারকা প্রার্থী প্রীতি প্যাটেল ১৮ হাজার ৮২৭ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। এই আসনে ১৩ হাজার ৬৮২ ভোট পেয়েছেন কাউন্সিলর রুমী চৌধুরী।- সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন