ঢাকা ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সভাপতি হাফিজ সম্পাদক হাবিব বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সভাপতি হাফিজ সম্পাদক হাবিব ঈশ্বরদীতে জমি দখলের চেষ্টা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ পাবনা-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হাবিব এর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা যৌথ বাহিনীর অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার, আটক ২ পাবনা-৪ আসনে জামায়াতের এমপি র্প্রাথীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা দরগা বাজার হাট পুনর্জীবিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে : আশরাফ হোসেন আকবর সকাল প্রি-ক্যাডেট স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণ মাতৃছায়া কিন্ডারগার্টেন স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত বিএনপির পাকা ধান মোটরসাইকেলে করে দাঁড়িপাল্লায় তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে – হাবিব

হত্যা কে কেন্দ্র করে কোটি টাকার ক্ষতি মাছসহ মালামাল লুটপাট ও ভাঙচুর

জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
  • আপডেট সময় : ০৬:০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫ ৪৮ বার পড়া হয়েছে

নেত্রকোনা সদর উপজেলার মৌগাতি ইউনিয়নের জামাটি গ্রামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের জেরে পাঁচ পরিবারের ওপর সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত।

এ ঘটনায় পাঁচটি ঘর তছনছ করার পাশাপাশি ১০টি পুকুর থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকার মাছ লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া লুট হয়ে গেছে মোটরসাইকেল, সোনার অলংকার, নগদ অর্থ, ফার্নিচার,আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী সহ ঘরোয়া নানা মালামাল।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জানায়, সন্ত্রাসীরা মনু মিয়ার দুটি, মাতু মিয়ার দুটি ও মজনু মিয়ার একটি ঘরে হামলা চালায়। অভিযুক্তদের তালিকায় মোফাজ্জল হোসেন, তরিকুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, শবিকুল ইসলাম , আব্দুল,শিপনসহ আরও ১৫–২০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে এইসব ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায় ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত ৩০ আগস্ট রাতে রফিকের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় রফিকের ভাতিজা নূর মোহাম্মদ (২৯) নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।

হত্যাকান্ডের দিন প্রত্যক্ষদর্শী রফিক বলেন, সেদিন রাতে হঠাৎ একদল সংঘবদ্ধ লোক আমাদের বসত বাড়ীতে আক্রমণ চালায়। আক্রমণের শিকার হয়ে আমার ভাতিজা নূর মোহাম্মদ ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আমি নিজেও গুরুতর আহত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি ছিলাম। কে বা কারা পরে তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে, তা আমি জানি না।

ক্ষতিগ্রস্ত এই ৫ পরিবারের শিশু , নারী- পুরুষ সহ প্রাণনাশের চরম হুমকির মুখে আছে বলে জানায় ভুক্তভোগী পরিবারের সকল সদস্য গন, অসহায় হয়ে বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে তাদের, যেতে পারছেনা নিজেদের বাড়ি ঘরে।

অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মাতু মিয়া বলেন,হত্যাকাণ্ড কারা করেছে আমরা জানি না। কিন্তু আমাদের অহেতুক আসামি করে ভীতি ও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। সেই সুযোগে সব লুট করে নেওয়া হয়েছে। ৫ টি পরিবারের পুকুরের মাছ সহ সোয়া কোটি টাকার লুটপাট করেছে দুর্বৃত্তরা। থানায় ও
যেতে পথে বাঁধা দিচ্ছে ।

ভুক্তভোগী পরিবার গুলোর অসহায় সদস্য গন নিরুপায় হয়ে সাংবাদিকদের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি প্রার্থনা করেন ও উপজেলা সহ জেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।।

লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত মজনু মিয়া বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিচার হোক আমরা ও চাই। কিন্তু এ ঘটনার জেরে আমার সর্বনাশ হয়ে গেছে। সব লুট হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবো বুঝতে পারছি না। বাড়িতে গেলে আবার হামলার আশঙ্কা আছে আমরা এর সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা চাই।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হত্যা কে কেন্দ্র করে কোটি টাকার ক্ষতি মাছসহ মালামাল লুটপাট ও ভাঙচুর

আপডেট সময় : ০৬:০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

নেত্রকোনা সদর উপজেলার মৌগাতি ইউনিয়নের জামাটি গ্রামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের জেরে পাঁচ পরিবারের ওপর সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত।

এ ঘটনায় পাঁচটি ঘর তছনছ করার পাশাপাশি ১০টি পুকুর থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকার মাছ লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া লুট হয়ে গেছে মোটরসাইকেল, সোনার অলংকার, নগদ অর্থ, ফার্নিচার,আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী সহ ঘরোয়া নানা মালামাল।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জানায়, সন্ত্রাসীরা মনু মিয়ার দুটি, মাতু মিয়ার দুটি ও মজনু মিয়ার একটি ঘরে হামলা চালায়। অভিযুক্তদের তালিকায় মোফাজ্জল হোসেন, তরিকুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, শবিকুল ইসলাম , আব্দুল,শিপনসহ আরও ১৫–২০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে এইসব ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায় ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত ৩০ আগস্ট রাতে রফিকের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় রফিকের ভাতিজা নূর মোহাম্মদ (২৯) নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।

হত্যাকান্ডের দিন প্রত্যক্ষদর্শী রফিক বলেন, সেদিন রাতে হঠাৎ একদল সংঘবদ্ধ লোক আমাদের বসত বাড়ীতে আক্রমণ চালায়। আক্রমণের শিকার হয়ে আমার ভাতিজা নূর মোহাম্মদ ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আমি নিজেও গুরুতর আহত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি ছিলাম। কে বা কারা পরে তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে, তা আমি জানি না।

ক্ষতিগ্রস্ত এই ৫ পরিবারের শিশু , নারী- পুরুষ সহ প্রাণনাশের চরম হুমকির মুখে আছে বলে জানায় ভুক্তভোগী পরিবারের সকল সদস্য গন, অসহায় হয়ে বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে তাদের, যেতে পারছেনা নিজেদের বাড়ি ঘরে।

অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মাতু মিয়া বলেন,হত্যাকাণ্ড কারা করেছে আমরা জানি না। কিন্তু আমাদের অহেতুক আসামি করে ভীতি ও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। সেই সুযোগে সব লুট করে নেওয়া হয়েছে। ৫ টি পরিবারের পুকুরের মাছ সহ সোয়া কোটি টাকার লুটপাট করেছে দুর্বৃত্তরা। থানায় ও
যেতে পথে বাঁধা দিচ্ছে ।

ভুক্তভোগী পরিবার গুলোর অসহায় সদস্য গন নিরুপায় হয়ে সাংবাদিকদের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি প্রার্থনা করেন ও উপজেলা সহ জেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।।

লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত মজনু মিয়া বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিচার হোক আমরা ও চাই। কিন্তু এ ঘটনার জেরে আমার সর্বনাশ হয়ে গেছে। সব লুট হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবো বুঝতে পারছি না। বাড়িতে গেলে আবার হামলার আশঙ্কা আছে আমরা এর সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা চাই।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।