নাজনীন মুন্নির টকশো বাণিজ্যে ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৯:০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
গ্লোবাল টেলিভিশনের আলোচিত টকশো ‘প্রশ্নগুলো সহজ’-এ অখ্যাত ব্যক্তিদের মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে অতিথি বানিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এমন অভিযোগ উঠেছে সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক উপ-প্রেসসচিব আশরাফুল আলম খোকনের ঘনিষ্ঠজন ও বিতর্কিত নাজনীন মুন্নির বিরুদ্ধে। চ্যানেলটির এক প্রযোজক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রতি পর্বেই আলোচিত অতিথির সঙ্গে অখ্যাত কাউকে বসানো হতো, আর সেই সুযোগ করে দিতে নাজনীন মুন্নিকে দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত গুনতে হতো ব্যবসায়ী, শিল্পপতি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের এই অখ্যাত ব্যক্তিদের। বিশেষ করে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী ঘরানার কিছু বিতর্কিত নেতা একাধিকবার অর্থের বিনিময়ে টকশোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তার হাত ধরেই।
এমন অভিযোগ সামনে আসার পর গ্লোবাল টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ তাকে টকশোর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। তবে দায়িত্ব ফিরে পেতে নাজনীন মুন্নি এখন বিভিন্ন জায়গায় প্রভাব খাটিয়ে টেলিভিশনটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি রাজনৈতিক আশ্রয়ের খোঁজে হিজাব–বোরখা–মাস্ক পরে গোপনে দেশ ছাড়েন নাজনীন মুন্নি। বিমানে ওঠার পরই প্রশাসনকে উপহাস করে নিজের ফেসবুক পেজে দেশত্যাগের স্ট্যাটাস দেন তিনি। এতে অনেকে ধারণা করেছিলেন তিনি আর দেশে ফিরবেন না। কিন্তু ১৫ দিন যুক্তরাষ্ট্রে কাটানোর পর আশ্রয় না পেয়ে আবার দেশে ফিরে আসেন তিনি। তার এই স্বল্প সফরের সঙ্গে অর্থপাচার সংক্রান্ত কোনো বিষয় জড়িত থাকতে পারে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই।
ফেরার পর নাজনীন মুন্নি আবারো গ্লোবাল টিভিতে অফিস করা শুরু করেছেন। যে টকশো থেকে তাকে সরানো হয়েছিল, সেটির দায়িত্ব এখন পালন করছেন কালের কণ্ঠের যুগ্ম সম্পাদক সাঈদ খান। কিন্তু দেশে ফিরে তিনি আবারও সাঈদ খানকে সরিয়ে নিজের জায়গা ফিরে পেতে নানাভাবে তদবির চালাচ্ছেন এমন অভিযোগও ঘনিষ্ঠ সূত্রের।
এতে গণমাধ্যম অঙ্গনে নতুন প্রশ্ন উঠেছে গ্লোবাল টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ কেনো বারবার এই বিতর্কিত নারীকে আশ্রয় দিচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব, আর্থিক লেনদেন নাকি ভিন্ন কোনো চুক্তি এ নিয়ে গণমাধ্যমপাড়ায় নানান আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে – জুলাই অভ্যুত্থান–সমর্থক শক্তিগুলো নাজনীন মুন্নির চলাফেরা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। গ্লোবাল টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তারা টিভির সামনে আন্দোলনে নামবে বলেও ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে। তাদের বক্তব্য – ফ্যাসিস্ট ঘরানার দোসরদের কোনোভাবেই পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া যাবে না।












