ঢাকা ০৭:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈশ্বরদীতে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ কাশিনাথপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র যেন গণ-শৌচাগার ঈশ্বরদীতে মানবতার সেবা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের কম্বল বিতরন টাকা না দেওয়ায় দুই শিক্ষার্থীকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চালান মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন খালেদা জিয়ার স্মরণে আটঘরিয়ায় বিএনপির দোয়া মাহফিল পাবনাতে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ৩হাজার গাছ কাটার অভিযোগ কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা স্বাস্থ্যসেবায় জেলার সেরা শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সীমান্তে পৃথক অভিযানে ১০ টি ভারতীয় গরু ও মহিষ জব্দ

কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা

হুসাইন বিন আফতাব, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা
  • আপডেট সময় : ০৮:৩০:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম শুরু হওয়ায় সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের নদ-নদীতে আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে কাঁকড়া আহরণে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। তবে এ সময়ে মাছ আহরণে কোনো বাধা থাকবে না বলে জানিয়েছে বনবিভাগ।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় গহিন সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে ফিরতে শুরু করেছেন কাঁকড়া ধরা জেলেরা। বুড়িগোয়ালিনী বনবিভাগের স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. জিয়াউর রহমান জানান, সুন্দরবনের নদ-নদীতে কাঁকড়ার প্রজনন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে দুই মাসব্যাপী আহরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে কাঁকড়া নদীতে উঠে এসে ডিম পাড়ে। এ সময় প্রজনন সুরক্ষায় টহল জোরদার করা হয়েছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের জলভাগে মোট ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া রয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জের চুনকুড়ি নদীর তীরে এ সময়ে লোকালয়ে ফিরে আসা অসংখ্য কাঁকড়া ধরা নৌকা দেখা গেছে।

কাঁকড়া ধরা জেলে নূর হোসেন বলেন, বনদস্যুদের ভয়ে এবার খুব বেশি কাঁকড়া ধরা সম্ভব হয়নি। ফলে নিষেধাজ্ঞাকালীন সংসার চালানোর মতো সঞ্চয় নেই। মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চলতে হবে। এ সময় সরকারি সহায়তার দাবি জানান তিনি।

শ্যামনগর উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২২ হাজার ২২০ জন, যার প্রায় অর্ধেক কাঁকড়া আহরণে জড়িত।

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. ফজলুল হক বলেন, কাঁকড়া বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম হাতিয়ার। প্রজনন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞাকালে কাঁকড়া আহরণ না করতে জেলেদের কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং এ সময়ে কাঁকড়া আহরণের সব পাস-পারমিট বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে মাছ ধরার অনুমতি অব্যাহত থাকবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা

আপডেট সময় : ০৮:৩০:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম শুরু হওয়ায় সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের নদ-নদীতে আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে কাঁকড়া আহরণে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। তবে এ সময়ে মাছ আহরণে কোনো বাধা থাকবে না বলে জানিয়েছে বনবিভাগ।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় গহিন সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে ফিরতে শুরু করেছেন কাঁকড়া ধরা জেলেরা। বুড়িগোয়ালিনী বনবিভাগের স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. জিয়াউর রহমান জানান, সুন্দরবনের নদ-নদীতে কাঁকড়ার প্রজনন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে দুই মাসব্যাপী আহরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে কাঁকড়া নদীতে উঠে এসে ডিম পাড়ে। এ সময় প্রজনন সুরক্ষায় টহল জোরদার করা হয়েছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের জলভাগে মোট ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া রয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জের চুনকুড়ি নদীর তীরে এ সময়ে লোকালয়ে ফিরে আসা অসংখ্য কাঁকড়া ধরা নৌকা দেখা গেছে।

কাঁকড়া ধরা জেলে নূর হোসেন বলেন, বনদস্যুদের ভয়ে এবার খুব বেশি কাঁকড়া ধরা সম্ভব হয়নি। ফলে নিষেধাজ্ঞাকালীন সংসার চালানোর মতো সঞ্চয় নেই। মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চলতে হবে। এ সময় সরকারি সহায়তার দাবি জানান তিনি।

শ্যামনগর উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২২ হাজার ২২০ জন, যার প্রায় অর্ধেক কাঁকড়া আহরণে জড়িত।

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. ফজলুল হক বলেন, কাঁকড়া বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম হাতিয়ার। প্রজনন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞাকালে কাঁকড়া আহরণ না করতে জেলেদের কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং এ সময়ে কাঁকড়া আহরণের সব পাস-পারমিট বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে মাছ ধরার অনুমতি অব্যাহত থাকবে।