টাকা না দেওয়ায় দুই শিক্ষার্থীকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চালান
- আপডেট সময় : ০৭:৫৯:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
পরিবারের নিকট থেকে চাহিদামত টাকা না পাওয়ায় দুই শিক্ষার্থীকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আর একই ঘটনায় টাকা নিয়ে আটক অপর তিনজনকে ভ্রাম্যমান আদালত করানোর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ঈশ্বরদী থানা পুলিশের ভুমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
গত ৩১ ডিসেম্বর/২৫ পাবনার ঈশ্বরদী থানায় এসব ঘটনা ঘটে। আটককৃত দুই শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন অনার্স পড়ুয়া অপরজন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারী। একই ঘটনায় টাকা নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৫ দিনের সাজা প্রাপ্তরা হলেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার বালির দিয়াড় এলাকার জুয়েল হোসেনের ছেলে সিয়াম হোসেন (২০), ভেড়ামার থানার কাজিরহাট এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে মাহফুজ আলী (২২) ও একই থানার শরীফের টোল এলাকার মাহাবুলের ছেলে মাহফুজ আল হাসান (২১)।
আটককৃতদের পরিবার, থানাসহ বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, ঈশ্বরদী শহরের হিন্দু পরিবারের দুই শিক্ষার্থীসহ ওই তিন শিক্ষার্থী নতুনহাট গ্রিনসিটি সংলগ্ন কেরু এন্ড কোম্পানির গ্যালাক্সি মদের বার থেকে হান্টার বিয়ার ক্রয় করেন। তিন শিক্ষার্থী বারেই হান্টার পান করেন আর দুই শিক্ষার্থী ক্রয়কৃত তিন বোতল হান্টার বোতল নিয়ে গ্যালাক্সি বার থেকে নিচে নামেন।
এই সময় সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ঈশ্বরদী থানার এসআই রাসেল আলী ও এএসআই মো. বুলবুল তাদের আটক করেন। এরপর পূর্ব পরিচয়ের সুত্র ধরে এএসআই মো.বুলবুল তিন শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাহিদাকৃত টাকা গ্রহন করেন। আর ঈশ্বরদী শহরের দুই শিক্ষার্থী ভয়ে তাদের পরিবারের নিকট ফোন না দিয়ে তাদের বন্ধু, আত্মীয় স্বজনদের নিকট থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টাকা চান। দুই শিক্ষার্থী অপহরণ হয়েছে ধারনা করে তাদের স্বজনরা টাকা পাঠিয়ে পরিবারকে জানান। এরপর পরিবারের লোকজন চাহিদাকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করেন।
একই সঙ্গে বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের ফোনে কল দেওয়ানো হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই রাসেল ও এএসআই মো. বুলবুল ক্ষিপ্ত হয়ে দুই শিক্ষার্থীকে মারপিট করে প্রায় দুই ঘন্টাপর থানায় নিয়ে আসেন। পরের দিন একই ঘটনায় টাকা দেওয়া তিন শিক্ষার্থীকে ভ্রাম্যমান আদালতে পাঠানো হয়। আর টাকা না দেওয়া দুই শিক্ষার্থীকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে নিয়মিত মামলা দিয়ে কোর্টে প্রেরণ করা হয়।
উপজেলার চরসাহাপুর নতুনহাট সংলগ্ন গ্রিনসিটি এলাকাস্থ কেরু এন্ড কো. গ্যালাক্সি মদের বারের একাধিক সুত্র জানান, বারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এলাকার উঠতি বয়সী ও শিক্ষার্থীদের নিকট অবৈধভাবে মদ, বিয়ার বিক্রয় করেন। এরপর পুলিশে খবর দেন। বার থেকে বের হলেও প্রাপ্ত তথ্যে ওইসব শিক্ষার্থী, যুবকসহ ব্যক্তিদের আটক করা হয়। অধিকাংশ সময়ই গ্রিনসিটি এলাকাতেই আটককৃতদের পরিবারের সঙ্গে রফাদফা করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে রফাদফায় প্রাপ্ত টাকা পুলিশ ও বারের ওইসব ব্যক্তিরা ভাগাভাগি করে নেন।
আটক ঈশ্বরদীর দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা জানান, তাদের ছেলে দুটো বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। তাদের ছাত্রজীবন ধ্বংস হওয়ার পথে। জেলে থাকায় কারণে একজন অনার্স তৃতীয় বর্ষে ও আরেকজনের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই ব্যপারে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কেরু এন্ড কোম্পানির গ্যালাক্সি মদ বারের ব্যবস্থাপক রিপন মোবাইল ফোনে জানান, মদপানের লাইসেন্সপ্রাপ্তদের নিকট ছাড়া মদ বিক্রয় করা হয় না। তবে বিশেষ কিছু সুপারিশে বারের লোকজন নিজেরাই মদ উত্তোলন করে নিচে এসে ক্রেতাদের নিকট পৌছে দেন। গ্যালাক্সি বারের নিচ থেকে ওই শিক্ষার্থীদের আটকের বিষয়টি দূঃখজনক। এই বিষয়ে থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলা হবে।
এ বিষয়ে এএসআই মো. বুলবুল মোবাইল ফোনে জানান, আমি এএসআই। আমার কিছু করার নেই। এসআই রাসেল স্যার এবং ওসি স্যারের নির্দেশে তিনজনকে ভ্রাম্যমান আদালত করানো হয়েছে। অপর দুই শিক্ষার্থীকে মাদক ব্যবসায়ৗ হিসেবে নিয়মিত মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে আটককৃতদের পরিবারের নিকট থেকে টাকা গ্রহনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এ বিষয়ে থানার এসআই রাসেল আলী মোবাইল ফোনে জানান, এসপি ও ওসি স্যারের নির্দেশে তিনজনকে ভ্রাম্যমান ও দুইজনকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে নিয়মিত মামলার আসামী করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরিবারের নিকট থেকে টাকা চাওয়া ও তিনজনের পরিবার থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি জানান, এবিষয়ে বেশি কিছু জানতে হলে ওসি ও এসপি স্যারের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।











