ঢাকা ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল ঈশ্বরদীতে সারের ডিলার বাতিলের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন,তদন্তের দাবী ঈশ্বরদীতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু কাঁঠালিয়ায় ১০ হাজার মিটার অবৈধ জাল উদ্ধার, পুড়িয়ে ধ্বংস দুর্গাপূজায় যশোর জেলা বিএনপির ২৫ সদস্যের পর্যবেক্ষণ কমিটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি-পদায়ন করা হচ্ছে: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের দামুড়হুদায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বসতবাড়ি উচ্ছেদ করে পুকুর খনন রাজশাহী মহানগর যুবদলের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষ বিতরণ তাজমিন হত্যা: কথিত প্রেমিক রাজুকে কুমিল্লা পুলিশের কাছে হস্তান্তর

কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা

হুসাইন বিন আফতাব, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা
  • আপডেট সময় : ০৮:৩০:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬ ২০৩ বার পড়া হয়েছে

কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম শুরু হওয়ায় সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের নদ-নদীতে আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে কাঁকড়া আহরণে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। তবে এ সময়ে মাছ আহরণে কোনো বাধা থাকবে না বলে জানিয়েছে বনবিভাগ।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় গহিন সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে ফিরতে শুরু করেছেন কাঁকড়া ধরা জেলেরা। বুড়িগোয়ালিনী বনবিভাগের স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. জিয়াউর রহমান জানান, সুন্দরবনের নদ-নদীতে কাঁকড়ার প্রজনন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে দুই মাসব্যাপী আহরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে কাঁকড়া নদীতে উঠে এসে ডিম পাড়ে। এ সময় প্রজনন সুরক্ষায় টহল জোরদার করা হয়েছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের জলভাগে মোট ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া রয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জের চুনকুড়ি নদীর তীরে এ সময়ে লোকালয়ে ফিরে আসা অসংখ্য কাঁকড়া ধরা নৌকা দেখা গেছে।

কাঁকড়া ধরা জেলে নূর হোসেন বলেন, বনদস্যুদের ভয়ে এবার খুব বেশি কাঁকড়া ধরা সম্ভব হয়নি। ফলে নিষেধাজ্ঞাকালীন সংসার চালানোর মতো সঞ্চয় নেই। মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চলতে হবে। এ সময় সরকারি সহায়তার দাবি জানান তিনি।

শ্যামনগর উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২২ হাজার ২২০ জন, যার প্রায় অর্ধেক কাঁকড়া আহরণে জড়িত।

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. ফজলুল হক বলেন, কাঁকড়া বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম হাতিয়ার। প্রজনন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞাকালে কাঁকড়া আহরণ না করতে জেলেদের কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং এ সময়ে কাঁকড়া আহরণের সব পাস-পারমিট বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে মাছ ধরার অনুমতি অব্যাহত থাকবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা

আপডেট সময় : ০৮:৩০:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম শুরু হওয়ায় সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের নদ-নদীতে আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে কাঁকড়া আহরণে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। তবে এ সময়ে মাছ আহরণে কোনো বাধা থাকবে না বলে জানিয়েছে বনবিভাগ।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় গহিন সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে ফিরতে শুরু করেছেন কাঁকড়া ধরা জেলেরা। বুড়িগোয়ালিনী বনবিভাগের স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. জিয়াউর রহমান জানান, সুন্দরবনের নদ-নদীতে কাঁকড়ার প্রজনন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে দুই মাসব্যাপী আহরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে কাঁকড়া নদীতে উঠে এসে ডিম পাড়ে। এ সময় প্রজনন সুরক্ষায় টহল জোরদার করা হয়েছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের জলভাগে মোট ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া রয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জের চুনকুড়ি নদীর তীরে এ সময়ে লোকালয়ে ফিরে আসা অসংখ্য কাঁকড়া ধরা নৌকা দেখা গেছে।

কাঁকড়া ধরা জেলে নূর হোসেন বলেন, বনদস্যুদের ভয়ে এবার খুব বেশি কাঁকড়া ধরা সম্ভব হয়নি। ফলে নিষেধাজ্ঞাকালীন সংসার চালানোর মতো সঞ্চয় নেই। মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চলতে হবে। এ সময় সরকারি সহায়তার দাবি জানান তিনি।

শ্যামনগর উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২২ হাজার ২২০ জন, যার প্রায় অর্ধেক কাঁকড়া আহরণে জড়িত।

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. ফজলুল হক বলেন, কাঁকড়া বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম হাতিয়ার। প্রজনন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞাকালে কাঁকড়া আহরণ না করতে জেলেদের কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং এ সময়ে কাঁকড়া আহরণের সব পাস-পারমিট বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে মাছ ধরার অনুমতি অব্যাহত থাকবে।