ঢাকা ০২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

ড্রপতার সংকটে পল্লী বিদ্যুৎ এ গ্রাহক সংযোগ বিঘ্নিত, শীর্ষে গ্রাহক ভোগান্তি

পাবনা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:১১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৪ ৩৬৪ বার পড়া হয়েছে

পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন দাশুড়িয়া জোনাল অফিসে ড্রপতার সংকটে বিঘ্নিত হচ্ছে নতুন গ্রাহকদের মিটার বিতরন ও সংযোগ প্রদান। এতে আবেদনকৃত মিটার প্রত্যাশী গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী একাধিক গ্রাহক। তবে ড্রপতার সংকটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দাশুড়িয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো: কামাল হোসেন।

ডিজিএম কামাল হোসেন জানান, পল্লীবিদ্যুতের ক্রয়কৃত ড্রপতার ( পুল থেকে মিটার সংযোগ দেয়া তার) শেষ হয়ে গেছে। যেহেতু এই তারটি নতুন গ্রাহকদের সংযোগ স্থাপনের জন্য প্রয়োজন হয় সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ পল্লীবিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক গত ১৮ আগষ্ট গ্রাহকদের সুবিধার্থে একটি সার্কুলার প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত সেই সার্কুলারে বলা হয়েছে, নতুন সংযোগ প্রদানের সময় পল্লী বিদ্যুৎ অফিস যে মানের ড্রপতার গ্রাহক পর্যায়ে প্রদান করে থাকে অনুরুপ মানের ড্রপতার গ্রাহকদের খোলা বাজার থেকে ক্রয় করে মিটারে সংযোগ নিতে পারবেন। তবে খোলা বাজার থেকে ক্রয়কৃত ড্রপতারের বাজার মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে ৪০.০৮৫ টাকা মিটার। যা পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের পরবর্তী মাসের ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিলের সাথে সমন্বয় বাবাদ পরিশোধ করবে।

নতুন মিটারের আবেদন করে মিটার না পেয়ে বারবার দাশুড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের দ্বারস্থ হওয়া আবু শাহীন বলেন, আমি মিটারের জন্য আবেদন করেছি। বাড়িতে ওয়্যারিং ও শেষ। কিন্তু ড্রপতার শেষ বলে আমার মিটার দিচ্ছে না অফিসের লোকজন। আমি গত কয়েকদিন ধরে এই অফিসে ঘুরছি। এখন আমাকে বলছে বাইরে থেকে ড্রপতার কিনতে। কিন্তু আমি খোলা বাজারে খবর নিয়ে দেখেছি প্রতিমিটার ড্রপতারের মূল্য ৫৪/৫৫ টাক। যেখানে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে প্রতি মিটার তারের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে ৪০.৮০ টাকা। তাহলে প্রতি মিটারে আমাদের (গ্রাহকদের) লোকসান গুনতে হবে ১৪/১৫ টাকা। যাহা পল্লী বিদ্যুতের ১৩০ মিটারের সংযোগ নিতে গ্রাহকদের প্রায় ১৯০০/১৯৫০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানাযায়, স্বাভাবিক সময়ে মাসে গড়ে প্রায় ৩০০ আবেদন পড়ত নতুন মিটারের। কিন্তু কেন্দ্রীয় পণ্যাগারে ড্রপতার সংকটের কারনে বর্তমানে সেই আবেদনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০/৬০ টিতে। কেননা অনেকেই আছে যাদের পক্ষে প্রয়োজনের বেশী টাকা খরচের সার্থ নেই। আবার অনেকেই অতীব প্রয়োজন ছাড়া নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করছে না । কারন সবাই চাইছে ভোগান্তি আর বাড়তি খরচ মুক্ত থাকতে।

তবে শাহীনদের মত অনেক গ্রাহকই আছে যাদের সংযোগের ভীষন প্রয়োজন থাকার পরও কেবল বাড়তি খরচ আর ভোগান্তির কথা চিন্তা করে তারা চুপ রয়েছেন।

জানতে চাইলে দাশুড়িয়া জোনাল অফিসের ডিজিএম কামাল হোসেন জানান, কেন্দ্রীয় পণ্যাগারে ড্রপতারের সংকটের কারনেই মূলত এই সমস্যাটি তৈরী হয়েছে। তাছাড়া দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনটাও প্রতিটি সেক্টরের উপর একটি বিরুপ প্রভাব ফেলেছে। তবে আগামী ডিসেম্বর নাগাদ ড্রপতারের এই সমস্যা সমাধান হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বাপবিবোর দেয়া মূল্য থেকে খোলা বাজারে ড্রপতারের মূল্যের ব্যবধান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বোর্ডের সিদ্ধান্তের বাইরে তো আমি কিছু বলার অধিকার রাখিনা। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ড আমাদের যে দিক নির্দেশনা দেবে আমরা সেটাই কেবল গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছে দেই। এর বাইরে আর কিছুই না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ড্রপতার সংকটে পল্লী বিদ্যুৎ এ গ্রাহক সংযোগ বিঘ্নিত, শীর্ষে গ্রাহক ভোগান্তি

আপডেট সময় : ১২:১১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৪

পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন দাশুড়িয়া জোনাল অফিসে ড্রপতার সংকটে বিঘ্নিত হচ্ছে নতুন গ্রাহকদের মিটার বিতরন ও সংযোগ প্রদান। এতে আবেদনকৃত মিটার প্রত্যাশী গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী একাধিক গ্রাহক। তবে ড্রপতার সংকটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দাশুড়িয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো: কামাল হোসেন।

ডিজিএম কামাল হোসেন জানান, পল্লীবিদ্যুতের ক্রয়কৃত ড্রপতার ( পুল থেকে মিটার সংযোগ দেয়া তার) শেষ হয়ে গেছে। যেহেতু এই তারটি নতুন গ্রাহকদের সংযোগ স্থাপনের জন্য প্রয়োজন হয় সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ পল্লীবিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক গত ১৮ আগষ্ট গ্রাহকদের সুবিধার্থে একটি সার্কুলার প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত সেই সার্কুলারে বলা হয়েছে, নতুন সংযোগ প্রদানের সময় পল্লী বিদ্যুৎ অফিস যে মানের ড্রপতার গ্রাহক পর্যায়ে প্রদান করে থাকে অনুরুপ মানের ড্রপতার গ্রাহকদের খোলা বাজার থেকে ক্রয় করে মিটারে সংযোগ নিতে পারবেন। তবে খোলা বাজার থেকে ক্রয়কৃত ড্রপতারের বাজার মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে ৪০.০৮৫ টাকা মিটার। যা পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের পরবর্তী মাসের ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিলের সাথে সমন্বয় বাবাদ পরিশোধ করবে।

নতুন মিটারের আবেদন করে মিটার না পেয়ে বারবার দাশুড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের দ্বারস্থ হওয়া আবু শাহীন বলেন, আমি মিটারের জন্য আবেদন করেছি। বাড়িতে ওয়্যারিং ও শেষ। কিন্তু ড্রপতার শেষ বলে আমার মিটার দিচ্ছে না অফিসের লোকজন। আমি গত কয়েকদিন ধরে এই অফিসে ঘুরছি। এখন আমাকে বলছে বাইরে থেকে ড্রপতার কিনতে। কিন্তু আমি খোলা বাজারে খবর নিয়ে দেখেছি প্রতিমিটার ড্রপতারের মূল্য ৫৪/৫৫ টাক। যেখানে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে প্রতি মিটার তারের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে ৪০.৮০ টাকা। তাহলে প্রতি মিটারে আমাদের (গ্রাহকদের) লোকসান গুনতে হবে ১৪/১৫ টাকা। যাহা পল্লী বিদ্যুতের ১৩০ মিটারের সংযোগ নিতে গ্রাহকদের প্রায় ১৯০০/১৯৫০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানাযায়, স্বাভাবিক সময়ে মাসে গড়ে প্রায় ৩০০ আবেদন পড়ত নতুন মিটারের। কিন্তু কেন্দ্রীয় পণ্যাগারে ড্রপতার সংকটের কারনে বর্তমানে সেই আবেদনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০/৬০ টিতে। কেননা অনেকেই আছে যাদের পক্ষে প্রয়োজনের বেশী টাকা খরচের সার্থ নেই। আবার অনেকেই অতীব প্রয়োজন ছাড়া নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করছে না । কারন সবাই চাইছে ভোগান্তি আর বাড়তি খরচ মুক্ত থাকতে।

তবে শাহীনদের মত অনেক গ্রাহকই আছে যাদের সংযোগের ভীষন প্রয়োজন থাকার পরও কেবল বাড়তি খরচ আর ভোগান্তির কথা চিন্তা করে তারা চুপ রয়েছেন।

জানতে চাইলে দাশুড়িয়া জোনাল অফিসের ডিজিএম কামাল হোসেন জানান, কেন্দ্রীয় পণ্যাগারে ড্রপতারের সংকটের কারনেই মূলত এই সমস্যাটি তৈরী হয়েছে। তাছাড়া দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনটাও প্রতিটি সেক্টরের উপর একটি বিরুপ প্রভাব ফেলেছে। তবে আগামী ডিসেম্বর নাগাদ ড্রপতারের এই সমস্যা সমাধান হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বাপবিবোর দেয়া মূল্য থেকে খোলা বাজারে ড্রপতারের মূল্যের ব্যবধান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বোর্ডের সিদ্ধান্তের বাইরে তো আমি কিছু বলার অধিকার রাখিনা। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ড আমাদের যে দিক নির্দেশনা দেবে আমরা সেটাই কেবল গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছে দেই। এর বাইরে আর কিছুই না।