আলেয়ার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে সংবাদ সম্মেলনে ঈশ্বরদীর বস্তিবাসী
- আপডেট সময় : ১০:৫৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬ ১৬২ বার পড়া হয়েছে
সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজী, দেহব্যবসা, নারী পাচার ও রমরমা মাদক ব্যবসা করে পুরো এলাকায় নিজের আধিপত্য গড়েছেন অনেক আগেই। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুষ্ট হয়ে দখল বাজিতেও এলাকায় তার অপ্রতিরোধ্য আধিপত্য অনেক দিনের । অভিযোগ রয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে একাধিক অপকর্ম করেও শাস্তির আওতায় না আসা আলেয়া এখন পূর্ব নূর মহল্লা বাসীর আতঙ্কের নাম।
দেশের চলমান রাজনীতির সাথে তাল মিলিয়ে কখনো আওয়ামীলীগ আবার কখনো বিএনপি নেত্রী পরিচয় দিয়ে এলাকায় দখলবাজীতে শীর্ষে থাকা আলেয়ার যাতনায় অতিষ্ট এলাকাবাসী এসব অভিযোগ এনে তার নির্যাতন থেকে মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে।
বুধবার (৪ঠা মার্চ) রাত ৯ ঘটিকায় উপজেলার পৌর এলাকার পূর্ব নূর মহল্লায় (বস্তিপাড়া) এ সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
অভিযুক্ত আলেয়া বেগম অত্র এলাকার মো: সেন্টুর স্ত্রী এবং ঈশ্বরদী ঠাকুরবাড়ী এলাকায় ফুটপাতের পিঠা বিক্রেতা।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ কএনে নূরমহল্লার বাসিন্দা রিক্সা চালক মো: জাহাঙ্গীর বলেন, আমার মেয়ে জামাই দুজনই গার্মেন্টসে চাকরি করে। তারা ২,৬০,০০০/= (দুই লক্ষ ষাট) হাজার টাকায় একটি বাড়ী ক্রয় করে। পরে সেই বাড়ীতে গিয়ে ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন আলেয়া। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় আলেয়া হগত্যার হুমকি দিয়ে উক্ত বাড়ীর দলিল ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায় এবং দলিলযার জমি তার বলে হুমকি দেয়। পরে অপারগ হয়ে ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয় মিলে আলেয়াকে ৩৩ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে সেই দলিল মুক্ত করেন।
লায়লী খাতুন বলেন, আমি প্রতিবেশীর কাছ থেকে ধারের ৯০ হাজার টাকা পেতাম। আমার স্বামী মৃত্যুর পর সেই টাকা পেতে চক্রান্ত শুরু করেন আলেয়া গং। এক পর্যায়ে বিচারের মাধ্যমে আমাকে ৪০ (চল্লিশ) হাজার মওকুফের মাধ্যমে বাকি ৫০ হাজার দেয়া হবে বলে বিচার সমাপ্ত হয়। বিচার অনুযায়ী সেই ৫০ হাজার টাকা না দিয়ে আলেয়া ১০ হাজার টাকা আমাকে দেয়। সেটা না নিলে আমার সমস্যা হবে বলেও হুমকি দেয়।
প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক রেশমা বেগম বলেন, আমি শারিরিক ভাবে অক্ষম হওয়ায় আমার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেই বিয়ে করার অপরাধে আলেয়া আমার থেকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। না দিলে এই এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় আমার গহনা বন্ধক রেখে আলেয়াকে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দিতে বাধ্য হই।
ভুক্তভোগী ইমা খাতুন বলেন, আমার স্বামীর সাথে বিতন্ডায় জড়ানোর অপরাধে আলেয়া এসে জোর পূর্বক আমাদের তালাক করান। পরে আমার দেনমোহরের ৪০ হাজার টাকা নিয়ে সে চলে যায়। যার এক টাকাও আমাকে দেয়নি।
শুধু এরাই নয় অত্রাঞ্চলের রুপালীর ১৪ হাজার, সুফিয়ার ১০ হাজার, স্বাক্ষী না দেওয়ায় রজব আলীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, দিপালীর গাড়ী ছিনতাই, সুখীর সুখের সংসার বাঁচাতে মিষ্টি বাবদ ৫ হাজার, নিপার বন্ধকী জমির দলিলের জন্য ১৫ হাজারের চাঁদা, অনাদায়ে মাস্তান দিয়ে হেনস্তার হুমকি, কামরুল সহ অত্রাঞ্চলে আরও অনেকেরই গল্পের নায়ীকা এই আলেয়া। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী এই মাফিয়া আলেয়ার কবল থেকে নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহীনীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী আলেয়ার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি নূরমহল্লার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সম্মেলন স্থানে এসে শেষ হয়।
জানতে চাইলে নিজেকে বিএনপির কর্মী দাবী করে আলেয়া খাতুন বলেন, আমার জীবনে আমি কোনদিন আওয়ামীলীগ করিনি। আমি কোন চাঁদাবাজ নই। আমি আমার এলাকার বিপদগ্রস্থ মানুষের উপকার করি বলেই আমার এত দোষ। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।
ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাড়ির অফিসার ইনচার্জ আফজাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ঈশ্বরদীতে মাদক আর চাঁদাবাজদের কোন ঠাই হবে না। সে যেই হোক, তাকে শিকড়সহ উপড়ে ফেলা হবে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।










