ঢাকা ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়ার বরখাস্তের আদেশ বাতিল

বাংলার জনতা প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:২৫:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬ ১৫৫ বার পড়া হয়েছে

সোমবার প্রায় সাড়ে ১৬ বছর আগের বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে তাকে সরকারি চাকরির সব সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

এ আদেশের ফলে পুলিশে তিনি চাকরি ফিরে পেলেন। বরখাস্ত বাতিলের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

বিসিএস ১২ ব্যাচের এ পুলিশ কর্মকর্তার বরখাস্তকালীন সময়কে ‘চাকরিকাল’ হিসেবে গণ্য করে তাকে প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশে।

এদিন মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কোহিনূর মিয়ার ‘বরখাস্তকরণের’ গুরুদণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন রাষ্ট্রপতি মঞ্জুর করেছেন।

এ কর্মকর্তা সর্বশেষ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

২০০৯ সালের ৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে বরখাস্ত করা হয়।

বিএনপি জোট সরকারের আমলে শামসুন্নাহার হলকাণ্ডে প্রথম উঠে আসে কোহিনূর মিয়ার নাম। ২০০২ সালের ২৩ জুলাই গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে আন্দোলনরত ছাত্রীদের ওপর হলের ফটক ভেঙে হামলা চালায় পুলিশ। এ ঘটনায় আলোচনায় আসে তার নাম।

এরপর ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) থাকা অবস্থায় একটি জোড়া খুনের ঘটনার মামলায় তাকে আসামি করা হয়।

ওই মামলার বিবরণে বলা হয়, ময়মনসিংহের নান্দাইলে ২০০৪ সালের ৫ মে আচারগাঁও হাইস্কুল কেন্দ্রে পৌর নির্বাচনে ভোট চলাকালে দুপক্ষের সংর্ঘষে গুলিতে সুজন ও আবু তাহের নামে দুজনের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে তখন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে নান্দাইল থানায় মামলা দায়ের করে। পরে তদন্ত শেষে আসামি শনাক্ত না হওয়ায় তিনবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ।

এরপর ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে ওই পৌরসভা নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া আদালতে পুনরায় একটি মামলা করেন।

এতে নান্দাইলের সাবেক এমপি খুররম খান চৌধুরী ও পৌর মেয়র আব্দুস ছাত্তার ভূঁইয়া উজ্জ্বলের সঙ্গে তৎকালীন পুলিশ সুপার কোহিনূর মিয়াসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়।

পরে আদালতের নির্দেশে নান্দাইল থানা পুলিশ মামলাটি পুনরায় তদন্ত করে ওই বছরই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতা রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া নারাজি দিয়ে ২০০৮ সালে জেলা জজ আদালতে একটি রিভিশন আবেদন দায়ের করেন। পরে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

সিআইডি ২০১১ সালে এসপি কোহিনূর মিয়া ও নান্দাইল পৌরসভার মেয়র আব্দুস ছাত্তারের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

ওই মামলায় দীর্ঘ ২০ বছর ৬ মাস পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর কোহিনূর মিয়া ও সাবেক পৌর মেয়র আব্দুস ছাত্তারকে খালাস দিয়ে রায় দেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাবরিনা আলী।

এতে করে সেনা সমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে করা তার বিরুদ্ধের সব ফৌজদারী মামলা থেকে তিনি খালাস পান।

এ বিষয়টি তুলে ধরে তার বরখাস্তের আদেশ বাতিলের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে রুজু করা দুটি বিভাগীয় মামলায় তাকে ‘চাকরি হতে বরখাস্তকরণ’ গুরুদণ্ড দেওয়া হয়। যে দুটি অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল সেই একই অভিযোগে দায়ের করা দুটি ফৌজদারী মামলায় আদালত তাকে নির্দোষ গণ্য করে দায় থেকে খালাস দিয়েছে।

“তার গুরুদণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মঞ্জুরের পর আরোপিত ‘চাকরি হতে বরখাস্তকরণ’ গুরুদণ্ডাদেশটি বাতিল করা হল।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়ার বরখাস্তের আদেশ বাতিল

আপডেট সময় : ১০:২৫:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

সোমবার প্রায় সাড়ে ১৬ বছর আগের বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে তাকে সরকারি চাকরির সব সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

এ আদেশের ফলে পুলিশে তিনি চাকরি ফিরে পেলেন। বরখাস্ত বাতিলের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

বিসিএস ১২ ব্যাচের এ পুলিশ কর্মকর্তার বরখাস্তকালীন সময়কে ‘চাকরিকাল’ হিসেবে গণ্য করে তাকে প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশে।

এদিন মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কোহিনূর মিয়ার ‘বরখাস্তকরণের’ গুরুদণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন রাষ্ট্রপতি মঞ্জুর করেছেন।

এ কর্মকর্তা সর্বশেষ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

২০০৯ সালের ৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে বরখাস্ত করা হয়।

বিএনপি জোট সরকারের আমলে শামসুন্নাহার হলকাণ্ডে প্রথম উঠে আসে কোহিনূর মিয়ার নাম। ২০০২ সালের ২৩ জুলাই গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে আন্দোলনরত ছাত্রীদের ওপর হলের ফটক ভেঙে হামলা চালায় পুলিশ। এ ঘটনায় আলোচনায় আসে তার নাম।

এরপর ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) থাকা অবস্থায় একটি জোড়া খুনের ঘটনার মামলায় তাকে আসামি করা হয়।

ওই মামলার বিবরণে বলা হয়, ময়মনসিংহের নান্দাইলে ২০০৪ সালের ৫ মে আচারগাঁও হাইস্কুল কেন্দ্রে পৌর নির্বাচনে ভোট চলাকালে দুপক্ষের সংর্ঘষে গুলিতে সুজন ও আবু তাহের নামে দুজনের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে তখন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে নান্দাইল থানায় মামলা দায়ের করে। পরে তদন্ত শেষে আসামি শনাক্ত না হওয়ায় তিনবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ।

এরপর ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে ওই পৌরসভা নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া আদালতে পুনরায় একটি মামলা করেন।

এতে নান্দাইলের সাবেক এমপি খুররম খান চৌধুরী ও পৌর মেয়র আব্দুস ছাত্তার ভূঁইয়া উজ্জ্বলের সঙ্গে তৎকালীন পুলিশ সুপার কোহিনূর মিয়াসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়।

পরে আদালতের নির্দেশে নান্দাইল থানা পুলিশ মামলাটি পুনরায় তদন্ত করে ওই বছরই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতা রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া নারাজি দিয়ে ২০০৮ সালে জেলা জজ আদালতে একটি রিভিশন আবেদন দায়ের করেন। পরে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

সিআইডি ২০১১ সালে এসপি কোহিনূর মিয়া ও নান্দাইল পৌরসভার মেয়র আব্দুস ছাত্তারের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

ওই মামলায় দীর্ঘ ২০ বছর ৬ মাস পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর কোহিনূর মিয়া ও সাবেক পৌর মেয়র আব্দুস ছাত্তারকে খালাস দিয়ে রায় দেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাবরিনা আলী।

এতে করে সেনা সমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে করা তার বিরুদ্ধের সব ফৌজদারী মামলা থেকে তিনি খালাস পান।

এ বিষয়টি তুলে ধরে তার বরখাস্তের আদেশ বাতিলের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে রুজু করা দুটি বিভাগীয় মামলায় তাকে ‘চাকরি হতে বরখাস্তকরণ’ গুরুদণ্ড দেওয়া হয়। যে দুটি অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল সেই একই অভিযোগে দায়ের করা দুটি ফৌজদারী মামলায় আদালত তাকে নির্দোষ গণ্য করে দায় থেকে খালাস দিয়েছে।

“তার গুরুদণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মঞ্জুরের পর আরোপিত ‘চাকরি হতে বরখাস্তকরণ’ গুরুদণ্ডাদেশটি বাতিল করা হল।”