ঢাকা ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

কুমিল্লায় ধর্ষণ মামলার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

এ.কে পলাশ, কুমিল্লা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:২০:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬ ৯৫ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা নগরীর উত্তর গাংচর এলাকার মোগলটুলি এলাকায় ভাতিজীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৩২ বছর বয়সী যুবক কাজী মোজাম্মেল হক রিফাতকে আদালত যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।

আদালত একই সাথে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করেছে। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুল হান্নান এই রায় ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। তিনি পরিবারের সাথে নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর গাংচর প্রকাশ্যে মোগলটুলি এলাকায় বসবাস করতেন। তার মা কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কর্মচারী এবং বাবা পেশায় রংমিস্ত্রি।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১০ আগস্ট, প্রতিদিনের মতো কিশোরীর বাবা-মা কর্মস্থলে চলে গেলে, একই এলাকার বাসিন্দা কে এম স্বপনের ছেলে কাজী মোজাম্মেল হক রিফাত তাদের ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। পরে ঘটনার ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে, ২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একাধিকবার ধর্ষণ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

একপর্যায়ে কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে, তিনি মায়ের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলেন। তার জবানবন্দির পর, ২০২০ সালের ১ অক্টোবর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলার পরপরই, পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রিফাতকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ তদন্তের পর, ২০২১ সালের ২৮ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক মো. হারুনুর রশিদ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলায় একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্য, চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন। অবশেষে আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কুমিল্লায় ধর্ষণ মামলার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৮:২০:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

কুমিল্লা নগরীর উত্তর গাংচর এলাকার মোগলটুলি এলাকায় ভাতিজীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৩২ বছর বয়সী যুবক কাজী মোজাম্মেল হক রিফাতকে আদালত যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।

আদালত একই সাথে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করেছে। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুল হান্নান এই রায় ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। তিনি পরিবারের সাথে নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর গাংচর প্রকাশ্যে মোগলটুলি এলাকায় বসবাস করতেন। তার মা কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কর্মচারী এবং বাবা পেশায় রংমিস্ত্রি।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১০ আগস্ট, প্রতিদিনের মতো কিশোরীর বাবা-মা কর্মস্থলে চলে গেলে, একই এলাকার বাসিন্দা কে এম স্বপনের ছেলে কাজী মোজাম্মেল হক রিফাত তাদের ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। পরে ঘটনার ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে, ২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একাধিকবার ধর্ষণ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

একপর্যায়ে কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে, তিনি মায়ের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলেন। তার জবানবন্দির পর, ২০২০ সালের ১ অক্টোবর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলার পরপরই, পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রিফাতকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ তদন্তের পর, ২০২১ সালের ২৮ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক মো. হারুনুর রশিদ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলায় একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্য, চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন। অবশেষে আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।