ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

কুমিল্লায় নামাজরত মাকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন

এ.কে পালাশ কুমিল্লা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৩০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬ ৯৫ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদকের টাকার জন্য সেজদারত অবস্থায় বৃদ্ধা মাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ছেলে মো. আবু বক্কর ছিদ্দিককে (৪৬) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে কুমিল্লার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাবরিনা নার্গিস এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বক্কর সিদ্দিক আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের পাশাকোট গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘাতক আবু বক্কর সিদ্দিক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। ঘটনার দিন মাদকের টাকা না পেয়ে তিনি তাঁর ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা মোছা. খায়েরা বেগম ওরফে খায়রুন্নেছার ওপর ক্ষিপ্ত হন। পরবর্তীতে মা যখন জোহরের নামাজ আদায়ের সময় সেজদায় যান, তখন আবু বক্কর সিদ্দিক কুড়াল দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘাতক ছেলেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে মাওলানা আবুল কাশেম বাদী হয়ে ছোট ভাই আবু বক্কর সিদ্দিককে একমাত্র আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চৌদ্দগ্রাম থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাসের তদন্ত শেষে ২০২১ সালে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত মঙ্গলবার এই রায় প্রদান করেন।

রায় ঘোষণার পর আদালতের বাইরে মামলার বাদী ও নিহতের বড় ছেলে মাওলানা আবুল কাশেম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমার ভাই দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করছিল। মাদকের টাকার জন্য সে প্রায়ই মায়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সালিশ-বৈঠক হলেও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। শেষ পর্যন্ত জোহরের নামাজের সময় সেজদারত অবস্থায় সে মাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে মারল।

তিনি আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ঘাতক ভাইয়ের সাজা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান। রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বক্কর সিদ্দিককে কড়া পুলিশি পাহারায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কুমিল্লায় নামাজরত মাকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় : ০১:৩০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদকের টাকার জন্য সেজদারত অবস্থায় বৃদ্ধা মাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ছেলে মো. আবু বক্কর ছিদ্দিককে (৪৬) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে কুমিল্লার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাবরিনা নার্গিস এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বক্কর সিদ্দিক আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের পাশাকোট গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘাতক আবু বক্কর সিদ্দিক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। ঘটনার দিন মাদকের টাকা না পেয়ে তিনি তাঁর ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা মোছা. খায়েরা বেগম ওরফে খায়রুন্নেছার ওপর ক্ষিপ্ত হন। পরবর্তীতে মা যখন জোহরের নামাজ আদায়ের সময় সেজদায় যান, তখন আবু বক্কর সিদ্দিক কুড়াল দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘাতক ছেলেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে মাওলানা আবুল কাশেম বাদী হয়ে ছোট ভাই আবু বক্কর সিদ্দিককে একমাত্র আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চৌদ্দগ্রাম থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাসের তদন্ত শেষে ২০২১ সালে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত মঙ্গলবার এই রায় প্রদান করেন।

রায় ঘোষণার পর আদালতের বাইরে মামলার বাদী ও নিহতের বড় ছেলে মাওলানা আবুল কাশেম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমার ভাই দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করছিল। মাদকের টাকার জন্য সে প্রায়ই মায়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সালিশ-বৈঠক হলেও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। শেষ পর্যন্ত জোহরের নামাজের সময় সেজদারত অবস্থায় সে মাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে মারল।

তিনি আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ঘাতক ভাইয়ের সাজা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান। রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বক্কর সিদ্দিককে কড়া পুলিশি পাহারায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।