ঢাকা ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

খাগড়াছড়িতে পিসিসিপি’র সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের সংবিধান পরিপন্থি প্রস্তাব ও বৈষম্যমূলক বরাদ্দের প্রতিবাদ

শারমিন সরকার বৃষ্টি , খাগড়াছড়ি
  • আপডেট সময় : ০২:১৩:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫ ২৫৭ বার পড়া হয়েছে

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সংবিধান পরিপন্থি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০ সংশোধন করে ‘জাতি বৈচিত্র্য ইনস্টিটিউট অধ্যাদেশ ২০২৫’প্রণয়নের প্রস্তাব বাতিল ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের নিরপেক্ষ তদন্ত করে পুনর্বিন্যাস নিশ্চিত করাসহ চার দফা দাবিতে খাগড়াছড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ।

শনিবার(২৮ জুন) সকালে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি আদায়ের কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়ে বলেন, ‘জাতি বৈচিত্র্য ইনস্টিটিউট অধ্যাদেশ ২০২৫’ প্রণয়নের সিদ্ধান্ত সংবিধান পরিপন্থি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই আইনের মাধ্যমে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দটিকে বাদ দিয়ে ‘নৃ-বৈচিত্র্য’ বা ‘জাতি বৈচিত্র্য’ শব্দচয়ন চালু করা হচ্ছে যা ভবিষ্যতে আদিবাসী স্বীকৃতির কৌশলগত ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

সাংবাদিক সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মজিদ,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদত হোসেন,পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান, যুগ্ম সম্পাদক সাইদুর রহমান ও খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা শাখার সভাপতি তারিকুল ইসলাম রায়হান।

সাংবাদিক সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ার অন্তরালে কয়েকজন উপদেষ্টা ও মন্ত্রণালয় এমন সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা একদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠীকে আরও বেশি প্রান্তিক করে তুলছে। অন্যদিকে অঞ্চলটির অখণ্ডতা এবং সাংবিধানিক কাঠামোকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, এ সিদ্ধান্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠীকে আরও বেশি প্রান্তিক করে তুলছে ও পার্বত্য চট্টগ্রামের অখণ্ডতা এবং সাংবিধানিক কাঠামোকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এ ধরনের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও একচেটিয়া আইনি কাঠামো ভবিষ্যতে পার্বত্য চট্টগ্রামে জাতিগত বিভেদ, সামাজিক উত্তেজনা ও সাংবিধানিক সংকট ডেকে আনবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়.গত ২৩ জুন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০” সংশোধনের প্রস্তাব করেন। সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীন চাকমা বলেন, “আমরা আদিবাসী শব্দটি চাই কেবল পরিচয়ের জন্য।” যা সংবিধান প্রণয়নের সিদ্ধান্ত সংবিধান পরিপন্থি।সংবিধানের ৬(২) অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণের স্বীকৃত পরিচয় ‘জাতি’ নয়, ‘বাংলাদেশি’।

সাংবাদিক সম্মেলনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০ সংশোধন করে ‘জাতি বৈচিত্র্য ইনস্টিটিউট অধ্যাদেশ ২০২৫’ প্রণয়নের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল,৬ জন সদস্যের সবাইকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী থেকে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত সংবিধান পরিপন্থি হওয়ায় তা বাতিল,উপদেষ্টা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী ও সুপ্রদীপ চাকমার বিতর্কিত ভূমিকার জন্য তদন্তসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের নিরপেক্ষ তদন্ত করে পুনর্বিন্যাস নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

খাগড়াছড়িতে পিসিসিপি’র সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের সংবিধান পরিপন্থি প্রস্তাব ও বৈষম্যমূলক বরাদ্দের প্রতিবাদ

আপডেট সময় : ০২:১৩:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সংবিধান পরিপন্থি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০ সংশোধন করে ‘জাতি বৈচিত্র্য ইনস্টিটিউট অধ্যাদেশ ২০২৫’প্রণয়নের প্রস্তাব বাতিল ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের নিরপেক্ষ তদন্ত করে পুনর্বিন্যাস নিশ্চিত করাসহ চার দফা দাবিতে খাগড়াছড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ।

শনিবার(২৮ জুন) সকালে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি আদায়ের কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়ে বলেন, ‘জাতি বৈচিত্র্য ইনস্টিটিউট অধ্যাদেশ ২০২৫’ প্রণয়নের সিদ্ধান্ত সংবিধান পরিপন্থি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই আইনের মাধ্যমে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দটিকে বাদ দিয়ে ‘নৃ-বৈচিত্র্য’ বা ‘জাতি বৈচিত্র্য’ শব্দচয়ন চালু করা হচ্ছে যা ভবিষ্যতে আদিবাসী স্বীকৃতির কৌশলগত ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

সাংবাদিক সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মজিদ,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদত হোসেন,পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান, যুগ্ম সম্পাদক সাইদুর রহমান ও খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা শাখার সভাপতি তারিকুল ইসলাম রায়হান।

সাংবাদিক সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ার অন্তরালে কয়েকজন উপদেষ্টা ও মন্ত্রণালয় এমন সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা একদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠীকে আরও বেশি প্রান্তিক করে তুলছে। অন্যদিকে অঞ্চলটির অখণ্ডতা এবং সাংবিধানিক কাঠামোকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, এ সিদ্ধান্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠীকে আরও বেশি প্রান্তিক করে তুলছে ও পার্বত্য চট্টগ্রামের অখণ্ডতা এবং সাংবিধানিক কাঠামোকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এ ধরনের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও একচেটিয়া আইনি কাঠামো ভবিষ্যতে পার্বত্য চট্টগ্রামে জাতিগত বিভেদ, সামাজিক উত্তেজনা ও সাংবিধানিক সংকট ডেকে আনবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়.গত ২৩ জুন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০” সংশোধনের প্রস্তাব করেন। সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীন চাকমা বলেন, “আমরা আদিবাসী শব্দটি চাই কেবল পরিচয়ের জন্য।” যা সংবিধান প্রণয়নের সিদ্ধান্ত সংবিধান পরিপন্থি।সংবিধানের ৬(২) অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণের স্বীকৃত পরিচয় ‘জাতি’ নয়, ‘বাংলাদেশি’।

সাংবাদিক সম্মেলনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০ সংশোধন করে ‘জাতি বৈচিত্র্য ইনস্টিটিউট অধ্যাদেশ ২০২৫’ প্রণয়নের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল,৬ জন সদস্যের সবাইকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী থেকে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত সংবিধান পরিপন্থি হওয়ায় তা বাতিল,উপদেষ্টা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী ও সুপ্রদীপ চাকমার বিতর্কিত ভূমিকার জন্য তদন্তসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের নিরপেক্ষ তদন্ত করে পুনর্বিন্যাস নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।