ঢাকা ০৪:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল ঈশ্বরদীতে সারের ডিলার বাতিলের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন,তদন্তের দাবী ঈশ্বরদীতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু কাঁঠালিয়ায় ১০ হাজার মিটার অবৈধ জাল উদ্ধার, পুড়িয়ে ধ্বংস দুর্গাপূজায় যশোর জেলা বিএনপির ২৫ সদস্যের পর্যবেক্ষণ কমিটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি-পদায়ন করা হচ্ছে: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের দামুড়হুদায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বসতবাড়ি উচ্ছেদ করে পুকুর খনন রাজশাহী মহানগর যুবদলের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষ বিতরণ তাজমিন হত্যা: কথিত প্রেমিক রাজুকে কুমিল্লা পুলিশের কাছে হস্তান্তর

তীব্র তাপপ্রবাহ: ফ্রান্সে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৩৬:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ ১১০ বার পড়া হয়েছে
তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ফ্রান্সের জনজীবন। প্রচণ্ড গরম থেকে স্বস্তি পেতে নদী, হ্রদ ও অনিরাপদ জলাশয়ে নামতে গিয়ে দেশটিতে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতদের বেশিরভাগই সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিনের তাপদাহে ফ্রান্সজুড়ে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতির ক্রমাবনতির কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।ফ্রান্সের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে।
পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে দেশের অর্ধেকেরও বেশি এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। রাজধানী প্যারিসসহ বড় শহরগুলোতে রাতের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি থাকায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ।
এ অবস্থায় সরকার নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে। অনুমোদনহীন নদী, খাল ও হ্রদে সাঁতার না কাটার আহ্বান জানিয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুত শরীর ঠান্ডা করার চেষ্টা করতে গিয়ে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ জলাশয়ে নামছেন, যা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রাতেও। বিভিন্ন এলাকায় স্কুলের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে, কোথাও কোথাও শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। গণপরিবহন ও রেলসেবায়ও বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।অন্যদিকে হাসপাতাল ও জরুরি সেবাকেন্দ্রগুলোতে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপরও বাড়ছে চাপ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের চরম তাপপ্রবাহ এখন আর বিচ্ছিন্ন মৌসুমি ঘটনা নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপজুড়ে এমন অস্বাভাবিক আবহাওয়া ক্রমেই ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে। আফ্রিকা থেকে আসা উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ু দীর্ঘ সময় ধরে ইউরোপের ওপর স্থির থাকায় তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

ফ্রান্সে বসবাসরত অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। নির্মাণ, ডেলিভারি, পরিচ্ছন্নতা ও রেস্তোরাঁ খাতে কর্মরত অনেক শ্রমিককে খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হচ্ছে। এতে হিটস্ট্রোকসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এমন চরম গরমে শরীর দ্রুত পানি হারায়। এ সময় অ্যালকোহল গ্রহণ করলে পানিশূন্যতা ও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ সময় অবস্থান কিংবা জনসমাগমে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি।

তীব্র তাপপ্রবাহের প্রেক্ষাপটে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানগুলো সারাদিন খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রতি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এছাড়া কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ফ্রান্সের চলমান তাপপ্রবাহ এখন শুধু আবহাওয়াজনিত সংকট নয়; এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

তীব্র তাপপ্রবাহ: ফ্রান্সে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় : ১১:৩৬:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ফ্রান্সের জনজীবন। প্রচণ্ড গরম থেকে স্বস্তি পেতে নদী, হ্রদ ও অনিরাপদ জলাশয়ে নামতে গিয়ে দেশটিতে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতদের বেশিরভাগই সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিনের তাপদাহে ফ্রান্সজুড়ে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতির ক্রমাবনতির কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।ফ্রান্সের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে।
পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে দেশের অর্ধেকেরও বেশি এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। রাজধানী প্যারিসসহ বড় শহরগুলোতে রাতের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি থাকায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ।
এ অবস্থায় সরকার নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে। অনুমোদনহীন নদী, খাল ও হ্রদে সাঁতার না কাটার আহ্বান জানিয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুত শরীর ঠান্ডা করার চেষ্টা করতে গিয়ে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ জলাশয়ে নামছেন, যা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রাতেও। বিভিন্ন এলাকায় স্কুলের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে, কোথাও কোথাও শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। গণপরিবহন ও রেলসেবায়ও বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।অন্যদিকে হাসপাতাল ও জরুরি সেবাকেন্দ্রগুলোতে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপরও বাড়ছে চাপ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের চরম তাপপ্রবাহ এখন আর বিচ্ছিন্ন মৌসুমি ঘটনা নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপজুড়ে এমন অস্বাভাবিক আবহাওয়া ক্রমেই ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে। আফ্রিকা থেকে আসা উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ু দীর্ঘ সময় ধরে ইউরোপের ওপর স্থির থাকায় তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

ফ্রান্সে বসবাসরত অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। নির্মাণ, ডেলিভারি, পরিচ্ছন্নতা ও রেস্তোরাঁ খাতে কর্মরত অনেক শ্রমিককে খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হচ্ছে। এতে হিটস্ট্রোকসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এমন চরম গরমে শরীর দ্রুত পানি হারায়। এ সময় অ্যালকোহল গ্রহণ করলে পানিশূন্যতা ও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ সময় অবস্থান কিংবা জনসমাগমে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি।

তীব্র তাপপ্রবাহের প্রেক্ষাপটে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানগুলো সারাদিন খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রতি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এছাড়া কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ফ্রান্সের চলমান তাপপ্রবাহ এখন শুধু আবহাওয়াজনিত সংকট নয়; এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।