ঢাকা ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

লবণের পানিতে পিচ্ছিল চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক

মিজানুর রহমান রুবেল সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম)
  • আপডেট সময় : ০৫:৫১:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৪ ৩৪৭ বার পড়া হয়েছে

লবণের পানি এবং কুয়াশায় পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক।
কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লবণ বোঝায় ট্রাক চলাচলের কারণে মহাসড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন এবং যাত্রীরা, শীতের ঘন কুয়াশা এবং লবণের পানি মিশ্রিত হয়ে পিচ্ছিল হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম -কক্সবাজার মহাসড়ক। ফলে বিপদজ্জনক এ মহাসড়কে প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। নিয়ম থাকলেও লবণবাহী ট্রাকে জিইওট্যাক্স (মোটা ত্রিপল) ব্যবহার করা হচ্ছে না। দুর্ঘটনা এড়াতে সড়কে লবণ বোঝাই গাড়ি চলাচল বন্ধের দাবি স্থানীয়দের।

জানা যায়, এ মৌসুমে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, মহেশখালী, উখিয়া, কুতুবদিয়া, চকরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় লবণ উৎপাদিত হয়। নৌপথ ও স্থলপথে এসব লবণ দেশের বিভিন্নস্থানে প্রেরণ করা হয়। চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট ও পটিয়া ইন্দ্রপুল এলাকায় লবণ পরিশোধনাগার রয়েছে। এসব স্থান ছাড়াও ঢাকা, নোয়াখালী, ঝালকাঠি, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে লবণ পরিশোধনাগার রয়েছে। নৌপথে পরিবহণ খরচ বেশি হওয়ায় মূলত সড়কপথে ট্রাকে করেই এসবস্থানে লবণ পরিবহন করা হয়। নিয়মানুযায়ী লবণবাহী ট্রাকে জিইওট্যাক্স ব্যবহার না করায় পুরো রাস্তায় ঝরে ঝরে পানি পড়ে। এছাড়া মহাসড়ক হয়ে বিভিন্ন স্থানে পরিবহনের সময় কাঁচা মাটি পড়ে। রাতে কুয়াশার স্পর্শে লবণ নিঃসৃত পানি ও কাঁচা মাটি রাস্তায় আঠালো আস্তরণ সৃষ্টি করে। ফলে চলমান গাড়ি ব্রেক কষলেই আঠালো আস্তরণের স্পর্শে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে ঘটে দুর্ঘটনা। প্রতিদিন মহাসড়কের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। হচ্ছে প্রাণহানি। আবার অনেকে আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করছে, বেশি ঝুঁকিতে মোটরসাইকেল চলাচল।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে মোটরসাইকেল আরোহী এরশাদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, দিন দিন গাড়ি চলাচল বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু এখনো বড় হয়নি সড়ক।এ ছাড়া গাড়ি চালকদের প্রতিযোগিতা তো রয়েছে। কে কার আগে যাবে চলে প্রতিযোগিতা, বড় গাড়ি গুলো ছোট গাড়িদের পাত্তাই দেয় না, ফলে পিচ্ছিল সড়কে ওভারটেক করতে গিয়ে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হচ্ছে,নতুবা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাচ্ছে। দুর্ঘটনা রোধে চালকদের পাশাপাশি সড়কে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা প্রয়োজন।

মোটরসাইকেল আরোহী আমান বলেন, প্রতিদিন লবণবাহী ট্রাক থেকে পানি পড়ে মহাসড়ক পিচ্ছিল হয়ে যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত মহাসড়ক ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। আবার দিনে সূর্যের আলোতে পিচ্ছিল রাস্তা শুকিয়ে গেলেও অনেক জায়গায় গাছপালার কারণে আলো না পড়ায় পিচ্ছিলই থেকে যায় তাই মহাসড়কে মোটরসাইকেল চালানোর সময় সামান্য ব্রেক কষলেই দুর্ঘটনা ঘটে।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন,মহাসড়কে লবণের গাড়ি দেখলেই আমরা মামলা দিচ্ছি, এ মাসে ৭ টি লবণ বোঝায় গাড়িকে মামলা দেওয়া হয়েছে এ ব্যাপার আমরা সজাগ রয়েছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

লবণের পানিতে পিচ্ছিল চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক

আপডেট সময় : ০৫:৫১:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৪

লবণের পানি এবং কুয়াশায় পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক।
কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লবণ বোঝায় ট্রাক চলাচলের কারণে মহাসড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন এবং যাত্রীরা, শীতের ঘন কুয়াশা এবং লবণের পানি মিশ্রিত হয়ে পিচ্ছিল হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম -কক্সবাজার মহাসড়ক। ফলে বিপদজ্জনক এ মহাসড়কে প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। নিয়ম থাকলেও লবণবাহী ট্রাকে জিইওট্যাক্স (মোটা ত্রিপল) ব্যবহার করা হচ্ছে না। দুর্ঘটনা এড়াতে সড়কে লবণ বোঝাই গাড়ি চলাচল বন্ধের দাবি স্থানীয়দের।

জানা যায়, এ মৌসুমে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, মহেশখালী, উখিয়া, কুতুবদিয়া, চকরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় লবণ উৎপাদিত হয়। নৌপথ ও স্থলপথে এসব লবণ দেশের বিভিন্নস্থানে প্রেরণ করা হয়। চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট ও পটিয়া ইন্দ্রপুল এলাকায় লবণ পরিশোধনাগার রয়েছে। এসব স্থান ছাড়াও ঢাকা, নোয়াখালী, ঝালকাঠি, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে লবণ পরিশোধনাগার রয়েছে। নৌপথে পরিবহণ খরচ বেশি হওয়ায় মূলত সড়কপথে ট্রাকে করেই এসবস্থানে লবণ পরিবহন করা হয়। নিয়মানুযায়ী লবণবাহী ট্রাকে জিইওট্যাক্স ব্যবহার না করায় পুরো রাস্তায় ঝরে ঝরে পানি পড়ে। এছাড়া মহাসড়ক হয়ে বিভিন্ন স্থানে পরিবহনের সময় কাঁচা মাটি পড়ে। রাতে কুয়াশার স্পর্শে লবণ নিঃসৃত পানি ও কাঁচা মাটি রাস্তায় আঠালো আস্তরণ সৃষ্টি করে। ফলে চলমান গাড়ি ব্রেক কষলেই আঠালো আস্তরণের স্পর্শে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে ঘটে দুর্ঘটনা। প্রতিদিন মহাসড়কের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। হচ্ছে প্রাণহানি। আবার অনেকে আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করছে, বেশি ঝুঁকিতে মোটরসাইকেল চলাচল।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে মোটরসাইকেল আরোহী এরশাদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, দিন দিন গাড়ি চলাচল বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু এখনো বড় হয়নি সড়ক।এ ছাড়া গাড়ি চালকদের প্রতিযোগিতা তো রয়েছে। কে কার আগে যাবে চলে প্রতিযোগিতা, বড় গাড়ি গুলো ছোট গাড়িদের পাত্তাই দেয় না, ফলে পিচ্ছিল সড়কে ওভারটেক করতে গিয়ে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হচ্ছে,নতুবা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাচ্ছে। দুর্ঘটনা রোধে চালকদের পাশাপাশি সড়কে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা প্রয়োজন।

মোটরসাইকেল আরোহী আমান বলেন, প্রতিদিন লবণবাহী ট্রাক থেকে পানি পড়ে মহাসড়ক পিচ্ছিল হয়ে যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত মহাসড়ক ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। আবার দিনে সূর্যের আলোতে পিচ্ছিল রাস্তা শুকিয়ে গেলেও অনেক জায়গায় গাছপালার কারণে আলো না পড়ায় পিচ্ছিলই থেকে যায় তাই মহাসড়কে মোটরসাইকেল চালানোর সময় সামান্য ব্রেক কষলেই দুর্ঘটনা ঘটে।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন,মহাসড়কে লবণের গাড়ি দেখলেই আমরা মামলা দিচ্ছি, এ মাসে ৭ টি লবণ বোঝায় গাড়িকে মামলা দেওয়া হয়েছে এ ব্যাপার আমরা সজাগ রয়েছি।