পোরশায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ, বিয়ে করতে অস্বীকৃতি; ট্রাইব্যুনালে মামলা
- আপডেট সময় : ১১:২১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ৮৭ বার পড়া হয়েছে
নওগাঁর পোরশা উপজেলায় এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি এবং ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, মামলার বাদিনী মোছা. সাদিয়া জান্নাত (২২)। তিনি নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার গোয়ালা আটানিপাড়া গ্রামের শরিফুল ইসলামের মেয়ে। বর্তমানে তিনি পত্নীতলা উপজেলার নজিপুরের হরিরামপুর এলাকায় বসবাস করছেন।
মামলার একমাত্র নামীয় আসামি মো. মাসুদ রানা (৩০), পিতা মৃত ময়েন উদ্দিন। তিনি পোরশা উপজেলার ২ নম্বর তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের দিঘীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং পোরশা আড়তের মোড়ে তুলার ব্যবসা করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে বাদিনীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং তাকে বিয়ের আশ্বাস দেন। পরে গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে বিয়ের কথা বলে তাকে পোরশা উপজেলার আড়তের মোড়ে অবস্থিত নিজের দোকানঘরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করার চেষ্টা করলে তার মুখ চেপে ধরা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর অজান্তে ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ ছবি-ভিডিও ধারণ করা হয় এবং সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়, যাতে তিনি আইনি পদক্ষেপ নিতে না পারেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তের কাছে বিয়ের দাবি জানালে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী নওগাঁ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় বাদিনী ছাড়াও মো. আরিফুল ইসলাম, মোছা. শামীমা খাতুন ও মো. জুয়েল রানাকে সাক্ষী করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।
এদিকে, ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত ও তার সহযোগীরা আপস-মীমাংসার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন। অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেছেন। পাশাপাশি মামলা প্রত্যাহার না করলে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব কারণে পরিবারটি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে তাদের দাবি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মো. মাসুদ রানার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। প্রথমবার ফোন রিসিভ করলেও সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি কোনো মন্তব্য না করে কল কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।










