ঢাকা ১২:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

মায়ের ‘ধর্ষককে’ হত্যার ঘটনায় ৪ ভাই গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৪:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬ ১১০ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহ নগরীতে রাজিব আহমেদ ওরফে রুবেল (৪০) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় সহোদর চার ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার চার ভাই হলেন- রহমত (৩০), জনি (২৮), রকি (২৬), ইমরাজ (১৮)।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরের দিকে জেলা পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মাকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় রুবেলকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান ময়মনসিংহ পিবিআই পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। তবে, গ্রেপ্তার চার যুবকের মা ধর্ষণের অভিযোগ এনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রায় এক মাস আগে রুবেল নগরীর ৩৬ বাড়ি কলোনির আরকে মিশন সড়কের এক নারী ভাড়াটিয়ার বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। পরবর্তীতে ভাড়াটিয়া রুবেলের সাথে বাসার ওই নারী পারুল ও তার সন্তানদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে বাসার মালিক পারুল ভাড়াটিয়া রুবেলকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাগিদ দিতে থাকে। এমতাবস্থায় ঘটনার দিন ভোর বেলায় ভাড়াটিয়া রুবেল বাসার মালিক পারুলের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে রুবেল বাসার মালিক নারীকে শ্লীলতাহানি করলে নারীর চার ছেলে তাদের মায়ের শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে জানতে পেরে পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটিয়া রুবেলকে গলাকেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই দিন রাতেই ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় রোববার (৫ জুলাই) রাতে নিহত রুবেলের বাবা আব্দুল হামিদ কোতোয়ালী মডেল থানায় বাড়িওয়ালা নারীসহ ১১ জনের নামে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩–৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, প্রায় মাস খানেক আগে রাজিব আর কে মিশন রোডের ৩৬ বাড়ি কলোনির একটি বাসা ভাড়া নিয়ে একা বসবাস শুরু করেন। বাসা নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই বাড়ির মালিক নারীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে বাড়িওয়ালা তাকে দ্রুত বাসা ছেড়ে দিতে বলেন। তবে কিছু সময় চাইলেও রাজিবকে বাড়িওয়ালা ও তার ছেলেরা নিয়মিত ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, গত রোববার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বাসা ছাড়াকে কেন্দ্র করে আবারও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে বাড়িওয়ালা ও তার ছেলেদের সঙ্গে অন্য আসামিরা রাজিবের কক্ষে ঢুকে তাকে চেপে ধরে ধারাল অস্ত্র দিয়ে গলায় উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করে চলে যান। খবর পেয়ে নিহতের বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলের মরদেহ শয়নকক্ষের বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন করা হলে পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআইয়ের সদস্যরা গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠান।

এদিকে হাসপাতালে ওই নারীর ভর্তি স্লিপে লেখা, রোববার দুপুর দেড়টায় হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই ভর্তির স্লিপে ধর্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ্য করা রয়েছে এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকের স্বাক্ষর ও হাসপাতালের সিল রয়েছে।

হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, এক নারী ধর্ষণের অভিযোগ এনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে ভর্তির খবর পেয়ে পিবিআই পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম ওই নারী ও তার দুই ছেলেকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি নারীকে আবার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মায়ের ‘ধর্ষককে’ হত্যার ঘটনায় ৪ ভাই গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৯:৫৪:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

ময়মনসিংহ নগরীতে রাজিব আহমেদ ওরফে রুবেল (৪০) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় সহোদর চার ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার চার ভাই হলেন- রহমত (৩০), জনি (২৮), রকি (২৬), ইমরাজ (১৮)।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরের দিকে জেলা পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মাকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় রুবেলকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান ময়মনসিংহ পিবিআই পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। তবে, গ্রেপ্তার চার যুবকের মা ধর্ষণের অভিযোগ এনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রায় এক মাস আগে রুবেল নগরীর ৩৬ বাড়ি কলোনির আরকে মিশন সড়কের এক নারী ভাড়াটিয়ার বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। পরবর্তীতে ভাড়াটিয়া রুবেলের সাথে বাসার ওই নারী পারুল ও তার সন্তানদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে বাসার মালিক পারুল ভাড়াটিয়া রুবেলকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাগিদ দিতে থাকে। এমতাবস্থায় ঘটনার দিন ভোর বেলায় ভাড়াটিয়া রুবেল বাসার মালিক পারুলের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে রুবেল বাসার মালিক নারীকে শ্লীলতাহানি করলে নারীর চার ছেলে তাদের মায়ের শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে জানতে পেরে পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটিয়া রুবেলকে গলাকেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই দিন রাতেই ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় রোববার (৫ জুলাই) রাতে নিহত রুবেলের বাবা আব্দুল হামিদ কোতোয়ালী মডেল থানায় বাড়িওয়ালা নারীসহ ১১ জনের নামে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩–৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, প্রায় মাস খানেক আগে রাজিব আর কে মিশন রোডের ৩৬ বাড়ি কলোনির একটি বাসা ভাড়া নিয়ে একা বসবাস শুরু করেন। বাসা নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই বাড়ির মালিক নারীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে বাড়িওয়ালা তাকে দ্রুত বাসা ছেড়ে দিতে বলেন। তবে কিছু সময় চাইলেও রাজিবকে বাড়িওয়ালা ও তার ছেলেরা নিয়মিত ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, গত রোববার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বাসা ছাড়াকে কেন্দ্র করে আবারও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে বাড়িওয়ালা ও তার ছেলেদের সঙ্গে অন্য আসামিরা রাজিবের কক্ষে ঢুকে তাকে চেপে ধরে ধারাল অস্ত্র দিয়ে গলায় উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করে চলে যান। খবর পেয়ে নিহতের বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলের মরদেহ শয়নকক্ষের বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন করা হলে পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআইয়ের সদস্যরা গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠান।

এদিকে হাসপাতালে ওই নারীর ভর্তি স্লিপে লেখা, রোববার দুপুর দেড়টায় হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই ভর্তির স্লিপে ধর্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ্য করা রয়েছে এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকের স্বাক্ষর ও হাসপাতালের সিল রয়েছে।

হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, এক নারী ধর্ষণের অভিযোগ এনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে ভর্তির খবর পেয়ে পিবিআই পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম ওই নারী ও তার দুই ছেলেকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি নারীকে আবার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।