সালমানের স্টুডিওতে হামলা, চাঁদা দাবির আড়ালে অন্য কোনো উদ্দেশ্য কি না, তদন্তের দাবি
- আপডেট সময় : ০৬:৫৪:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির আড়ালে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন বাংলাপোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার।
তাঁর আশঙ্কা, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সালমান মুক্তাদিরের সক্রিয় ভূমিকার কারণে প্রতিশোধমূলকভাবে এ হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এ আশঙ্কার সত্যতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যে অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার বলেন, সালমান মুক্তাদির জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সামনের সারির একজন যোদ্ধা ছিলেন। তাঁর স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে শুধু চাঁদা দাবির বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকারের উচিত ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য কী এবং কোনো বিশেষ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে কি না, তা খুঁজে বের করা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের বেছে বেছে হেনস্তা বা দমনের চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এবং স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের টিকাদানসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রতিষ্ঠানটিতে রাতের আঁধারে হামলার ঘটনা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার বলেন, কাছাকাছি সময়ে সংঘটিত এ দুটি ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য অশনিসংকেত। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে হামলা, দখল এবং ভাঙচুরের মতো ঘটনায় জড়িত দুর্বৃত্তরা কোনো রাজনৈতিক দলের বা সরকারের নাম ব্যবহার করছে কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের নাম ব্যবহার করে কেউ নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে দল-মতনির্বিশেষে ব্যবস্থা নিতে হবে। এসব ঘটনার পেছনে স্বৈরাচারী শক্তির কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে উদ্ঘাটন করা জরুরি।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ও টহল কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার।
তিনি বলেন, ইসিবি চত্বর থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে বালুঘাট গেট এলাকায় সেনানিবাসের প্রবেশপথ রয়েছে। ইসিবি চত্বরে দিনের বেলায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের গাড়ি এবং এলাকায় পুলিশের টহল থাকার কথা। এমন পরিস্থিতিতে রাতে স্টুডিওতে হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কোথায় ছিলেন, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, কেউ কেউ রাত ১১টার দিকে পুলিশের টহল গাড়ি দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। তাহলে হামলার সময় পুলিশের টহল গাড়ি কোথায় ছিল এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছাতে দেরি হলো কেন—এসব প্রশ্নের জবাব দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
তাঁর মতে, ঘটনার সময় পুলিশের অবস্থান, টহল কার্যক্রম, জরুরি ফোন বা অভিযোগ পাওয়ার সময় এবং ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে সহায়ক হবে।
অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার বলেন, এসব ঘটনায় সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু আশ্বাস বা অস্পষ্ট বক্তব্য নয়, তদন্তের অগ্রগতি, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে জনগণকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি ও সরকারের সামনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধ দমনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনার মাধ্যমে সরকারকে বিব্রত করা বা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তে উঠে আসা প্রয়োজন।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি দেশবাসীর নিরাপত্তা ও শান্তি কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং দেশকে স্বৈরাচারী শক্তি ও দুর্বৃত্তদের অপতৎপরতা থেকে হেফাজতের প্রার্থনা জানান।










