ঢাকা ০৪:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

দুর্নীতির অভিযোগে এনপিসিবিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক’র পদত্যাগ দাবি

পাবনা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:১৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ মে ২০২৫ ২৯২ বার পড়া হয়েছে

‘যোগ্য লোক চাই, অযোগ্য এমডিকে নয়, প্রাতিষ্ঠানিক ফ্যাসিবাদ নিপাত যাক, এনপিসিবিএল মুক্তি পাক ইঅঊঈ এর অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ হোক, এনপিসিএবল স্বাধীন হোক’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে এনপিসিবিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাছান এর পদত্যাগের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত।

মঙ্গলবার (৬ মে ২০২৫) বিকেল ৫ ঘটিকায় ঈশ্বরদী উপজেলা গেট এলাকায় একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চরম অদক্ষতা, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বৈরতন্ত্র, দুর্নীতি এবং অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা অভিযোগ আনা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে এনপিসিবিএল এর সিনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক ফাহিম শাহরিয়ার তুহিন লিখিত বক্তব্যে বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের বর্তমান প্রকল্প পরিচালক এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (NPCBL)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাছানের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম, চরম অযোগ্যতা, দুর্নীতি, প্রশাসনিক স্বোচ্ছাচারিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ফ্যাসিবাদের অভিযোগে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এই স্বৈরাচারি, অদক্ষ, অযোগ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে এনপিসিবিএল-এর সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ বরাবরই সোচ্চার ছিলো এবং এরই ধারাবাহিকতায় বিগত নয় দিন (২৮ এপ্রিল থেকে ৬ই মে ২০২৫) পালন করেছেন।
ড. জাহেদুল হাছান বর্তমানে একাধিক অতি গুরুত্বপূর্ণ পদ কুক্ষিগত করে রেখেছেন। একাধারে তিনি রুপপুর পারমানবিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক এবং অপারেটিং অর্গানাইজেশন এনপিসিবিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান মানব সম্পদক কর্মকর্তা, প্রধান অর্থ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং স্টেশন ডিক্টেরসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ পদ একাই দখল করে রেখেছেন। যা একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র অপারেটিং কোম্পানির ক্ষেত্রে নজিরবিহীন।
প্রায় এক দশক আগে এনপিসিবিএল গঠিত হলেও আজ অবধি কোনো সার্ভিস রুলস প্রকাশ করা হয়নি। ফলে নেই কোন অর্গানোগ্রাম, দায়িত্বের সুস্পষ্ট বণ্টন, পদোন্নতি, বরং জেকে বসেছে একগুচ্ছ গ্রেড ও বেতন বৈষম্য এবং অন্যান্য ব্যাসিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বছরের পর বছর Contributory Provident Fund (CPP) এ প্রতিমাসে টাকা জমা রাখার পরেও এতদিনেও কোন কর্মকর্তাকেই তার সিপিএফ একাউন্ট নম্বর জানানো হয় নি, এমনকি এই টাকা কোথাও ইনভেস্ট ও করা হয়নি। বাংলাদেশের কোম্পানি আইনের ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোন জ্ঞান না থাকা একজন অযোগ্য ব্যক্তির অদক্ষতার কারণে হাজার হাজার মেধাবী কর্মকর্তা, কর্মচারির ভবিষ্যত আজ হুমকির মুখে। এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ঘচঈইখ এর প্রায় ১,৮০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে প্রায় ১,৫০০ জনের জন্য এখনো প্রকল্প এলাকায় ন্যূনতম বসার ব্যবস্থা, টয়লেট, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা ব্যবস্থার মত ব্যাসিক বিষয় নিশ্চিতকরণেও কোন ভ্রুক্ষেপ নেই এমডির। এর ফলে প্রতিদিন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন, বিশেষত নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। তার চরম অমানবিক আচরণের পরিচয় পাওা যায় প্রকল্পে বাঙ্গালীদের খাবার উপযুক্ত একমাত্র ক্যান্টিনটিও বন্ধ রাখার মাধ্যমে, যার পিছনে রয়েছে টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ। মেডিকেল ইমার্জেন্সিসহ যে কোন অতি জরুরি ইস্যুতেও কর্মকর্তাদেরকে পাসপোর্ট ঘঙঈ ইস্যু না করে চরম স্বেচ্ছাচারিতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই। বন্ধ করে দিয়েছেন পবিত্র ওমরাহ করার সুযোগ, হিন্দু ধর্মালম্বীদের জন্য যে কোন তীর্থস্থান ভ্রমণ।
একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, উচ্চ সংবেদনশীল ও কৌশলগত গুরুত্ববহ প্রকল্প হিসেবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এর নির্মান, কমিশনিং এবং অপারেশন এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্মচারিরা দফায় দফায় ড. জাহেদুল হাছানের কাছে সার্ভিস রুল প্রদান, প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বতন্ত্রতা সহ বিভিন্ন বৈষম্য নিয়ে আলোচনা করে আসছে। বিভিন্ন মানবিক ও যৌক্তিক দাবির প্রেক্ষিতে ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে ড. জাহেদুল হাছান তা বাস্তবায়নের লিখিত আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি

এরপর থেকেই তিনি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অযৌক্তিক, অমানবিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে আসছেন। যে কোন ন্যায্য কথা বলতে গেলেই এমডি তাকে চাকরিচ্যুত করা/ চাকরি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। রাশিয়া থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অনেকেই শুধুমাত্র তার এই সকল অব্যবস্থাপনার কারণেই চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি এনপিসিবিএল থেকে আমাদের ১০০+ সহকর্মী চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। তবে চাকরি ছেড়ে গেলেও সিপিএফ, গ্রাচুইটি, অভিজ্ঞতা সনদ, এনওসি কিছুই দেওয়া হয় নাই সেই কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে।

এনপিসিবিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হওয়ায় নিজের একক ক্ষমতাবলে তিনি গত আগস্ট থেকেই দফায় দফায় ২৫+ কর্মকর্তা এবং সর্বশেষ গত ২৯ এপ্রিল নয়জন কর্মকর্তার প্রকল্পে প্রবেশাধিকার কেড়ে নেন এবং অত্যান্ত হীন মানসিকতার পরিচয় দিয়ে তিনি এর সম্পূর্ণ দায় বাংলাদেশের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপর চাপিয়ে দেন। প্রবেশাধিকার কেড়ে নেওয়া কর্মকর্তাদের অপরাধ ছিলো শুধুমাত্র তার স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে কথা বলা, তার অব্যবস্থাপন, অযোগ্যতার, ষড়যন্ত্রের চিত্র তুলে ধরা। এমনকি ওয়ার্ক প্লেস সেফটি, কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে/আহত হলে তার সুরক্ষা/ইন্সুরেন্স, শিফট এলাওয়েন্স এর ব্যাপারে জানতে চাওয়ায় একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে সম্প্রতি অবৈধভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান ও পরবর্তীতে প্রকল্প থেকে সংযুক্তি বাতিল করা হয়েছে, যদিও তার জিজ্ঞাসা করা বিষয়সমূহ বাংলাদেশে বিদ্যমান শ্রম আইন সহ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা সহ সকল জায়গায় সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।

সম্প্রতি সাইটের চিফ ইঞ্জিনিয়ার স্যার জনাব হাসমত আলী এ সকল অব্যবস্থাপনা ও অসঙ্গতি নিয়ে কথা বলার জন্য এবং কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়ে ওয়েফেয়ার এসোসিয়েশন গঠন করার জন্য উদ্যোগ নিলে এমডি ড জাহিদুল হাছান তাকে একাধিকবার শোকজ ও স্ট্যান্ড রিলিজ দিয়ে ঢাকায় নিয়ে যান, যা কোম্পানির কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে চরম অসন্তোষ এর মধ্যে ফেলেছে। একই সাথে, তার স্বৈরাচারিতার বিরুদ্ধে কথা বলায় তিনি আরো অনেক সিনিয়র কর্মকর্তাসহ প্রায় ৩০০+ কর্মকর্তাকে পুরোপুরি মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন কারণ দেখিয়ে ক্রমাগত স্ট্যান্ড রিলিজ/সর্তকর্তা প্রদান/কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে যাচ্ছেন। এসব কাজে তাকে সহযোগিতা করছেন নীতি নৈতিকতা বিবর্জিত ও সুবিধাভোগী গুটিকয়েক কর্মকর্তা।

রূপপুর প্রকল্পের সফল অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ওঅঊঅ-এর নির্দেশনা অনুসরণ করে সরকারি খরচে ১৪০০ জন দক্ষ জনবলকে রাশিয়ায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কিন্তু ড. জাহেদুল হাছান এই দক্ষ জনবলকে অদক্ষ ও অযোগ্য দেখিয়ে রাশিয়ার সাথে দীর্ঘমেয়াদী অপারেশন এন্ড মেইন্টেন্যান্স চুক্তি করার মত হীন চক্রান্ত করছেন, যা তিনি নিজ মুখেই বারংবার বলেছেন। একইসাথে, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, কমিশনিং, অপারেশানসহ সকল কাজে এনপিসিবিএল এর মেধাবী, চৌকস, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ লোকবল যুক্ত থাকলেও সম্প্রতি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (ইঅঊঈ) লোকজন বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ইঅঊঈ এর কর্মকর্তাদের অযাচিত হস্তক্ষেপ এনপিসিবিএলকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে নানাবিধ বাধা দিয়ে আসছে। এই অযাচিত হস্তক্ষেপ চরম আকার ধারণ করার প্রধান কারণ, এসপিসিবিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে বরাবরই রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালককেই অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া।

রূপপুর প্রকল্পের কন্ট্রাক্ট ম্যানেজমেন্টে তিনি একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে রেখেছিলেন, যাতে কোনো জবাবদিহিতা না থাকে। গত ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৬২ বার বিদেশ সফরের মাধ্যমে তিনি ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের সুযোগ নিয়েছেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য কাউকে সম্পৃক্ত না করে পুরো ব্যবস্থাপনাটি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। এমনকি তার আত্মীয় বিবেচনায় পরমাণু শক্তি কমিশনের এক কর্মকর্তাকে যোগ্যতার ঘাটতি থাকা স্বত্বেও বারবার বিদেশ ভ্রমণ এর সুযোগ দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, উপ-সহকারী ব্যবস্থাপক রুবেল হোসেন, সিনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক শহিদুল ইসলাম,সহকারী ব্যবস্থাপক হালিম সরকার, ফোরম্যান পারভেজ আহম্মেদ, টেকনিশিয়ান রমজান আলী সহ প্রায় ৬০০ শতাধিক কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

দুর্নীতির অভিযোগে এনপিসিবিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক’র পদত্যাগ দাবি

আপডেট সময় : ০২:১৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ মে ২০২৫

‘যোগ্য লোক চাই, অযোগ্য এমডিকে নয়, প্রাতিষ্ঠানিক ফ্যাসিবাদ নিপাত যাক, এনপিসিবিএল মুক্তি পাক ইঅঊঈ এর অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ হোক, এনপিসিএবল স্বাধীন হোক’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে এনপিসিবিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাছান এর পদত্যাগের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত।

মঙ্গলবার (৬ মে ২০২৫) বিকেল ৫ ঘটিকায় ঈশ্বরদী উপজেলা গেট এলাকায় একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চরম অদক্ষতা, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বৈরতন্ত্র, দুর্নীতি এবং অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা অভিযোগ আনা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে এনপিসিবিএল এর সিনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক ফাহিম শাহরিয়ার তুহিন লিখিত বক্তব্যে বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের বর্তমান প্রকল্প পরিচালক এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (NPCBL)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাছানের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম, চরম অযোগ্যতা, দুর্নীতি, প্রশাসনিক স্বোচ্ছাচারিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ফ্যাসিবাদের অভিযোগে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এই স্বৈরাচারি, অদক্ষ, অযোগ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে এনপিসিবিএল-এর সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ বরাবরই সোচ্চার ছিলো এবং এরই ধারাবাহিকতায় বিগত নয় দিন (২৮ এপ্রিল থেকে ৬ই মে ২০২৫) পালন করেছেন।
ড. জাহেদুল হাছান বর্তমানে একাধিক অতি গুরুত্বপূর্ণ পদ কুক্ষিগত করে রেখেছেন। একাধারে তিনি রুপপুর পারমানবিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক এবং অপারেটিং অর্গানাইজেশন এনপিসিবিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান মানব সম্পদক কর্মকর্তা, প্রধান অর্থ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং স্টেশন ডিক্টেরসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ পদ একাই দখল করে রেখেছেন। যা একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র অপারেটিং কোম্পানির ক্ষেত্রে নজিরবিহীন।
প্রায় এক দশক আগে এনপিসিবিএল গঠিত হলেও আজ অবধি কোনো সার্ভিস রুলস প্রকাশ করা হয়নি। ফলে নেই কোন অর্গানোগ্রাম, দায়িত্বের সুস্পষ্ট বণ্টন, পদোন্নতি, বরং জেকে বসেছে একগুচ্ছ গ্রেড ও বেতন বৈষম্য এবং অন্যান্য ব্যাসিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বছরের পর বছর Contributory Provident Fund (CPP) এ প্রতিমাসে টাকা জমা রাখার পরেও এতদিনেও কোন কর্মকর্তাকেই তার সিপিএফ একাউন্ট নম্বর জানানো হয় নি, এমনকি এই টাকা কোথাও ইনভেস্ট ও করা হয়নি। বাংলাদেশের কোম্পানি আইনের ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোন জ্ঞান না থাকা একজন অযোগ্য ব্যক্তির অদক্ষতার কারণে হাজার হাজার মেধাবী কর্মকর্তা, কর্মচারির ভবিষ্যত আজ হুমকির মুখে। এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ঘচঈইখ এর প্রায় ১,৮০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে প্রায় ১,৫০০ জনের জন্য এখনো প্রকল্প এলাকায় ন্যূনতম বসার ব্যবস্থা, টয়লেট, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা ব্যবস্থার মত ব্যাসিক বিষয় নিশ্চিতকরণেও কোন ভ্রুক্ষেপ নেই এমডির। এর ফলে প্রতিদিন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন, বিশেষত নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। তার চরম অমানবিক আচরণের পরিচয় পাওা যায় প্রকল্পে বাঙ্গালীদের খাবার উপযুক্ত একমাত্র ক্যান্টিনটিও বন্ধ রাখার মাধ্যমে, যার পিছনে রয়েছে টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ। মেডিকেল ইমার্জেন্সিসহ যে কোন অতি জরুরি ইস্যুতেও কর্মকর্তাদেরকে পাসপোর্ট ঘঙঈ ইস্যু না করে চরম স্বেচ্ছাচারিতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই। বন্ধ করে দিয়েছেন পবিত্র ওমরাহ করার সুযোগ, হিন্দু ধর্মালম্বীদের জন্য যে কোন তীর্থস্থান ভ্রমণ।
একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, উচ্চ সংবেদনশীল ও কৌশলগত গুরুত্ববহ প্রকল্প হিসেবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এর নির্মান, কমিশনিং এবং অপারেশন এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্মচারিরা দফায় দফায় ড. জাহেদুল হাছানের কাছে সার্ভিস রুল প্রদান, প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বতন্ত্রতা সহ বিভিন্ন বৈষম্য নিয়ে আলোচনা করে আসছে। বিভিন্ন মানবিক ও যৌক্তিক দাবির প্রেক্ষিতে ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে ড. জাহেদুল হাছান তা বাস্তবায়নের লিখিত আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি

এরপর থেকেই তিনি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অযৌক্তিক, অমানবিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে আসছেন। যে কোন ন্যায্য কথা বলতে গেলেই এমডি তাকে চাকরিচ্যুত করা/ চাকরি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। রাশিয়া থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অনেকেই শুধুমাত্র তার এই সকল অব্যবস্থাপনার কারণেই চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি এনপিসিবিএল থেকে আমাদের ১০০+ সহকর্মী চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। তবে চাকরি ছেড়ে গেলেও সিপিএফ, গ্রাচুইটি, অভিজ্ঞতা সনদ, এনওসি কিছুই দেওয়া হয় নাই সেই কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে।

এনপিসিবিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হওয়ায় নিজের একক ক্ষমতাবলে তিনি গত আগস্ট থেকেই দফায় দফায় ২৫+ কর্মকর্তা এবং সর্বশেষ গত ২৯ এপ্রিল নয়জন কর্মকর্তার প্রকল্পে প্রবেশাধিকার কেড়ে নেন এবং অত্যান্ত হীন মানসিকতার পরিচয় দিয়ে তিনি এর সম্পূর্ণ দায় বাংলাদেশের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপর চাপিয়ে দেন। প্রবেশাধিকার কেড়ে নেওয়া কর্মকর্তাদের অপরাধ ছিলো শুধুমাত্র তার স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে কথা বলা, তার অব্যবস্থাপন, অযোগ্যতার, ষড়যন্ত্রের চিত্র তুলে ধরা। এমনকি ওয়ার্ক প্লেস সেফটি, কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে/আহত হলে তার সুরক্ষা/ইন্সুরেন্স, শিফট এলাওয়েন্স এর ব্যাপারে জানতে চাওয়ায় একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে সম্প্রতি অবৈধভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান ও পরবর্তীতে প্রকল্প থেকে সংযুক্তি বাতিল করা হয়েছে, যদিও তার জিজ্ঞাসা করা বিষয়সমূহ বাংলাদেশে বিদ্যমান শ্রম আইন সহ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা সহ সকল জায়গায় সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।

সম্প্রতি সাইটের চিফ ইঞ্জিনিয়ার স্যার জনাব হাসমত আলী এ সকল অব্যবস্থাপনা ও অসঙ্গতি নিয়ে কথা বলার জন্য এবং কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়ে ওয়েফেয়ার এসোসিয়েশন গঠন করার জন্য উদ্যোগ নিলে এমডি ড জাহিদুল হাছান তাকে একাধিকবার শোকজ ও স্ট্যান্ড রিলিজ দিয়ে ঢাকায় নিয়ে যান, যা কোম্পানির কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে চরম অসন্তোষ এর মধ্যে ফেলেছে। একই সাথে, তার স্বৈরাচারিতার বিরুদ্ধে কথা বলায় তিনি আরো অনেক সিনিয়র কর্মকর্তাসহ প্রায় ৩০০+ কর্মকর্তাকে পুরোপুরি মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন কারণ দেখিয়ে ক্রমাগত স্ট্যান্ড রিলিজ/সর্তকর্তা প্রদান/কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে যাচ্ছেন। এসব কাজে তাকে সহযোগিতা করছেন নীতি নৈতিকতা বিবর্জিত ও সুবিধাভোগী গুটিকয়েক কর্মকর্তা।

রূপপুর প্রকল্পের সফল অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ওঅঊঅ-এর নির্দেশনা অনুসরণ করে সরকারি খরচে ১৪০০ জন দক্ষ জনবলকে রাশিয়ায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কিন্তু ড. জাহেদুল হাছান এই দক্ষ জনবলকে অদক্ষ ও অযোগ্য দেখিয়ে রাশিয়ার সাথে দীর্ঘমেয়াদী অপারেশন এন্ড মেইন্টেন্যান্স চুক্তি করার মত হীন চক্রান্ত করছেন, যা তিনি নিজ মুখেই বারংবার বলেছেন। একইসাথে, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, কমিশনিং, অপারেশানসহ সকল কাজে এনপিসিবিএল এর মেধাবী, চৌকস, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ লোকবল যুক্ত থাকলেও সম্প্রতি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (ইঅঊঈ) লোকজন বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ইঅঊঈ এর কর্মকর্তাদের অযাচিত হস্তক্ষেপ এনপিসিবিএলকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে নানাবিধ বাধা দিয়ে আসছে। এই অযাচিত হস্তক্ষেপ চরম আকার ধারণ করার প্রধান কারণ, এসপিসিবিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে বরাবরই রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালককেই অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া।

রূপপুর প্রকল্পের কন্ট্রাক্ট ম্যানেজমেন্টে তিনি একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে রেখেছিলেন, যাতে কোনো জবাবদিহিতা না থাকে। গত ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৬২ বার বিদেশ সফরের মাধ্যমে তিনি ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের সুযোগ নিয়েছেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য কাউকে সম্পৃক্ত না করে পুরো ব্যবস্থাপনাটি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। এমনকি তার আত্মীয় বিবেচনায় পরমাণু শক্তি কমিশনের এক কর্মকর্তাকে যোগ্যতার ঘাটতি থাকা স্বত্বেও বারবার বিদেশ ভ্রমণ এর সুযোগ দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, উপ-সহকারী ব্যবস্থাপক রুবেল হোসেন, সিনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক শহিদুল ইসলাম,সহকারী ব্যবস্থাপক হালিম সরকার, ফোরম্যান পারভেজ আহম্মেদ, টেকনিশিয়ান রমজান আলী সহ প্রায় ৬০০ শতাধিক কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ।