ঢাকা ১১:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দূর্ঘটনা রোধে ভাঙা ব্রিজে লাল নিশানা দিলেন——যুবদল রাঙামাটিতে গৃহবধূকে হত্যা, ঘর থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ কুমিল্লায় ফার্মেসিতে যৌথ অভিযান: ওষুধ বিক্রির আড়ালে মাদক ব্যবসার অভিযোগে গ্রেফতার-১ কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পুনরায় যোগদান করলেন কর্মদক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইউনুস আলী বালিয়াডাঙ্গীতে ২ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বাংলাদেশের ক্রীড়া যেন বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে সেই লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার – প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ, থানায় আত্মসমর্পণ স্বামীর তীব্র গরমে ডুমুরিয়া পল্লী বিদ্যুতের নজিরবিহীন লোডশেডিং, অতিষ্ঠ জনজীবন মদনে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ওসির সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় হরিণাকুন্ডুতে ৫০ জন অগ্রগামী খামারি নিয়ে লাভজন চাষে ব্রাক ফিশারিজ এন্টারপ্রাইজ প্রশিক্ষন

পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে না ইইউ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৭:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৮৭ বার পড়া হয়েছে

এফএনএস
বাংলাদেশে নির্বাচন সহায়ক পরিবেশ নেই বলে পর্যবেক্ষক দল পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আর সে কারণে তারা জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে না। তবে নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য ছোট আকারের বিশেষজ্ঞ দল পাঠাতে পারে। ঢাকা সফর করে যাওয়া প্রাক্-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইইউ। এ বিষয়ে দু’এক দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে পারে ইইউ। সূত্র জানায়, গত বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে তাদের মতামত জানিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য উপযোগী বলে মনে করছে না। প্রাক পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এ মুহূর্তে বাংলাদেশে নির্বাচন সহায়ক পরিবেশ নেই। এ অবস্থায় পর্যবেক্ষক দল পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে ইইউ। তবে নিবাচনে পর্যবেক্ষক দল না পাঠালেও নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য ছোট আকারের বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হতে পারে। প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে ইইউয়ের ৬ সদস্যের প্রাক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দল গত ৮ থেকে ২৩ জুলাই বাংলাদেশ সফর করে। সে সময় রাজনৈতিক দল, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তারা বৈঠক করেন। নির্বাচনকালীন প্রশাসন নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপি যখন মতবিরোধে তখন ইইউয়ের এমন সিদ্ধান্ত এলো। আওয়ামী লীগ বলছে, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। অন্যদিকে বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে বলেছে, বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও পর্যবেক্ষণ দল পাঠায়নি ইইউ। গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ‘মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।
এদিকে বাজেট স্বল্পতার কারণে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তবে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে। বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. জাহাংগীর আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের হেড অব ডেলিগেশন জানিয়েছেন, জুলাই মাসে তারা বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তা ফলপ্রসূ হওয়ায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। মেইলে তিনি আরও জানিয়েছেন, তাদের হেড অফিস বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তাদের পূর্ণাঙ্গ একটি মিশন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য পাঠানোর ক্ষেত্রে আর্থিক একটি বিষয় ছিল। বাজেট স্বল্পতার কারণে তা না-মঞ্জুর হয়েছে বা আপাতত না পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইসি সচিব বলেন, তিনি ধন্যবাদ জানিয়ে আরও বলেছেন, সিইসির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। তারা পূর্ণাঙ্গ দল না পাঠানোর বিষয়ে বলেছেন। এখানে পূর্ণাঙ্গ দলের কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, এটি সিইসি ভালো বলতে পারবেন। আর তারা পূর্ণাঙ্গ কথাটি উল্লেখ করেছেন। কাজেই ছোট দল পাঠাবেন, নাকি এই দেশে যারা আছেন তারাই (পর্যবেক্ষণ) করবেন… কেননা, তারা যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন। সিইসি আমাকে তাদের মেইলের বিষয়টি জানাতে বলেছেন। আমি সেটুকুই জানি। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আগামী অক্টোবরে বৈঠকের জন্য যুক্তরাজ্যের প্রাক-পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে বৈঠক আছে। এটি কমিশনের সিদ্ধান্ত। সচিব তো কিছু বলতে পারবেন না। ইসি সচিব বলেন, পূর্ণাঙ্গ দল বলতে ২০-২৫ জনের একটি দল, তার সঙ্গে ক্যামেরা, স্যাটেলাইটসহ অনেক আর্থিক ব্যয় থাকে। তারা অন্য দল পাঠাবেন কি না বাজেট এলে; ছোট দল কি না, তাও মেইলে বলেননি। তারা পূর্ণাঙ্গ দল পাঠাবেন না, তা যে বাজেটের জন্য, সেটি বলেছেন। পলিটিক্যাল কোনো বিষয় মেইলে তারা এনেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, একটি রাষ্ট্রের বিষয়ে আরেকটি রাষ্ট্র সেটি আনতে পারে? তারা কোনো শর্তের কথা বলেননি, বাজেটের কারণটি বলেছেন। নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা আসতে চেয়েছিলেন। তবে এখন বলছেন পূর্ণাঙ্গ দল পাঠাবেন না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে না ইইউ

আপডেট সময় : ১২:৪৭:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩

এফএনএস
বাংলাদেশে নির্বাচন সহায়ক পরিবেশ নেই বলে পর্যবেক্ষক দল পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আর সে কারণে তারা জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে না। তবে নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য ছোট আকারের বিশেষজ্ঞ দল পাঠাতে পারে। ঢাকা সফর করে যাওয়া প্রাক্-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইইউ। এ বিষয়ে দু’এক দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে পারে ইইউ। সূত্র জানায়, গত বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে তাদের মতামত জানিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য উপযোগী বলে মনে করছে না। প্রাক পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এ মুহূর্তে বাংলাদেশে নির্বাচন সহায়ক পরিবেশ নেই। এ অবস্থায় পর্যবেক্ষক দল পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে ইইউ। তবে নিবাচনে পর্যবেক্ষক দল না পাঠালেও নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য ছোট আকারের বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হতে পারে। প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে ইইউয়ের ৬ সদস্যের প্রাক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দল গত ৮ থেকে ২৩ জুলাই বাংলাদেশ সফর করে। সে সময় রাজনৈতিক দল, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তারা বৈঠক করেন। নির্বাচনকালীন প্রশাসন নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপি যখন মতবিরোধে তখন ইইউয়ের এমন সিদ্ধান্ত এলো। আওয়ামী লীগ বলছে, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। অন্যদিকে বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে বলেছে, বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও পর্যবেক্ষণ দল পাঠায়নি ইইউ। গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ‘মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।
এদিকে বাজেট স্বল্পতার কারণে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তবে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে। বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. জাহাংগীর আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের হেড অব ডেলিগেশন জানিয়েছেন, জুলাই মাসে তারা বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তা ফলপ্রসূ হওয়ায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। মেইলে তিনি আরও জানিয়েছেন, তাদের হেড অফিস বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তাদের পূর্ণাঙ্গ একটি মিশন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য পাঠানোর ক্ষেত্রে আর্থিক একটি বিষয় ছিল। বাজেট স্বল্পতার কারণে তা না-মঞ্জুর হয়েছে বা আপাতত না পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইসি সচিব বলেন, তিনি ধন্যবাদ জানিয়ে আরও বলেছেন, সিইসির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। তারা পূর্ণাঙ্গ দল না পাঠানোর বিষয়ে বলেছেন। এখানে পূর্ণাঙ্গ দলের কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, এটি সিইসি ভালো বলতে পারবেন। আর তারা পূর্ণাঙ্গ কথাটি উল্লেখ করেছেন। কাজেই ছোট দল পাঠাবেন, নাকি এই দেশে যারা আছেন তারাই (পর্যবেক্ষণ) করবেন… কেননা, তারা যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন। সিইসি আমাকে তাদের মেইলের বিষয়টি জানাতে বলেছেন। আমি সেটুকুই জানি। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আগামী অক্টোবরে বৈঠকের জন্য যুক্তরাজ্যের প্রাক-পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে বৈঠক আছে। এটি কমিশনের সিদ্ধান্ত। সচিব তো কিছু বলতে পারবেন না। ইসি সচিব বলেন, পূর্ণাঙ্গ দল বলতে ২০-২৫ জনের একটি দল, তার সঙ্গে ক্যামেরা, স্যাটেলাইটসহ অনেক আর্থিক ব্যয় থাকে। তারা অন্য দল পাঠাবেন কি না বাজেট এলে; ছোট দল কি না, তাও মেইলে বলেননি। তারা পূর্ণাঙ্গ দল পাঠাবেন না, তা যে বাজেটের জন্য, সেটি বলেছেন। পলিটিক্যাল কোনো বিষয় মেইলে তারা এনেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, একটি রাষ্ট্রের বিষয়ে আরেকটি রাষ্ট্র সেটি আনতে পারে? তারা কোনো শর্তের কথা বলেননি, বাজেটের কারণটি বলেছেন। নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা আসতে চেয়েছিলেন। তবে এখন বলছেন পূর্ণাঙ্গ দল পাঠাবেন না।