ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খালেদা জিয়ার স্মরণে ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন নেশার টাকা চেয়ে বাবা-মাকে মারধরে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা কাহারোলে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে অবরুদ্ধ, ইউএনও’র হস্তক্ষেপে উদ্ধার লালপুরে পুলিশ সদস্যসহ ইয়াবা নিয়ে গ্রেপ্তার ৩ ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত মিছিলের’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল জাকারিয়া পিন্টু ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রুয়েট উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ষষ্ঠ সমাবর্তন জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পাবনায় ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক, কারাদণ্ড ৩ মাদকসেবীর সত্যের পক্ষে এক সাহসিক কলম যোদ্ধা : সায়েক এম রহমান  বাংলাদেশ প্রেসক্লাব পাবনা জেলা শাখার মিলন মেলা ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

আমানতের খেয়ানত : পাওনা টাকা চাওয়ায় গুলি করে হত্যার হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:০২:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ২৫১ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম শহরের ২৫ নং রামপুর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এমরান চৌধুরী। স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সবুর লিটনের সাপ্লাই প্রতিষ্ঠান ‘তারা ট্রেডার্স লিংক’ এর সাপ্লাই চেইন ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করতেন।

২০১৮ সাল থেকে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আব্দুস সবুর লিটনের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। এ সময় আব্দুস সবুর লিটনের কথিত ভাতিজা হিসেবে পরিচিত মনিরুল ইসলাম আজাদের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। একটা সময় দু’জনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়। বিপদে-আপদে একজন অপরজনের কাছ থেকে সহযোগিতা নেন।

এক পর্যায়ে বন্ধু আজাদের ওপর আস্থা রেখে পাহাড়তলী মৌজায় মেট্রো এসেট কর্তৃক নির্মিত মেট্রো সাইমাহ নামের একটি আবাসিক ভবনে ১১৮২ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের বিক্রয়ের দায়িত্ব দেন এবং আমমোক্তার নামা নিযুক্ত করেন এমরান চৌধুরী। আজাদ এমরানকে না জানিয়েই চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল ৫০ লাখ টাকায় অন্যত্র বিক্রি করে দেন। কিন্তু, সাব কবলায় ২৫ লাখ টাকা দেখানো হয়। আর এই বিষয়টি কয়েক মাস পর এমরান চৌধুরী জানতে পারলে উভয়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়।

এক পর্যায়ে গত ২১ নভেম্বর মধ্যরাতে মনিরুল ইসলাম আজাদের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি স্বশস্ত্র দল এমরান চৌধুরীর বাড়িতে গুলিবর্ষণ করে বসতঘরে হামলা ও ভাঙচুর করে। যা সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে। এ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দিয়ে যান। এমরান চৌধুরী তার পাওনা টাকা তো পেলোই না উল্টা আজাদের ভয়ে এখন এলাকা ছাড়া।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী এমরান চৌধুরীর বোন লিলি আক্তার। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, এমরান চৌধুরীর স্ত্রী সায়েলা বেগম ইস্পা, মা ছখিনা খাতুন, শ^াশুড়ি শওকত আরা বেগম, বোন পিংকি আক্তার, আলিসা চৌধুরীসহ অনেকে।

তাদের দাবি, হামলা ও ভাঙচুরের সিসিটিভি ফুটেজসহ হালিশহর থানায় গেলে দীর্ঘসময় বসিয়ে রেখে মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করে অভিযোগপত্রটি ভুক্তভোগীদের দিকে ছুঁড়ে মেরে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন থানা পুলিশ।

এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা আদালতে মামলা করা হয়নি কেন জানতে চাইলে অসহায় পরিবারটি জানান, আমাদের পরিবার এখন অনেকটা পুরুষ শূন্য। সন্ত্রাসী আজাদ গংদের ভয়ে আমরা ঘর থেকে বের হতে পারছি না। ঘর থেকে বের হলেই তার লোকেরা নানাভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। আপনারা সহযোগিতা করলে আমরা আদালতে মামলা দায়ের করব।

অভিযোগপত্র ছুঁড়ে মারা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের থানায় এ ধরনের স্পর্দা দেখানোর প্রশিক্ষণ কাউকে দেওয়া হয় নাই। দিন তারিখটি সঠিকভাবে জানালে আমরা থানায় বসানো সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আমানতের খেয়ানত : পাওনা টাকা চাওয়ায় গুলি করে হত্যার হুমকি

আপডেট সময় : ০৩:০২:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৪

চট্টগ্রাম শহরের ২৫ নং রামপুর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এমরান চৌধুরী। স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সবুর লিটনের সাপ্লাই প্রতিষ্ঠান ‘তারা ট্রেডার্স লিংক’ এর সাপ্লাই চেইন ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করতেন।

২০১৮ সাল থেকে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আব্দুস সবুর লিটনের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। এ সময় আব্দুস সবুর লিটনের কথিত ভাতিজা হিসেবে পরিচিত মনিরুল ইসলাম আজাদের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। একটা সময় দু’জনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়। বিপদে-আপদে একজন অপরজনের কাছ থেকে সহযোগিতা নেন।

এক পর্যায়ে বন্ধু আজাদের ওপর আস্থা রেখে পাহাড়তলী মৌজায় মেট্রো এসেট কর্তৃক নির্মিত মেট্রো সাইমাহ নামের একটি আবাসিক ভবনে ১১৮২ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের বিক্রয়ের দায়িত্ব দেন এবং আমমোক্তার নামা নিযুক্ত করেন এমরান চৌধুরী। আজাদ এমরানকে না জানিয়েই চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল ৫০ লাখ টাকায় অন্যত্র বিক্রি করে দেন। কিন্তু, সাব কবলায় ২৫ লাখ টাকা দেখানো হয়। আর এই বিষয়টি কয়েক মাস পর এমরান চৌধুরী জানতে পারলে উভয়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়।

এক পর্যায়ে গত ২১ নভেম্বর মধ্যরাতে মনিরুল ইসলাম আজাদের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি স্বশস্ত্র দল এমরান চৌধুরীর বাড়িতে গুলিবর্ষণ করে বসতঘরে হামলা ও ভাঙচুর করে। যা সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে। এ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দিয়ে যান। এমরান চৌধুরী তার পাওনা টাকা তো পেলোই না উল্টা আজাদের ভয়ে এখন এলাকা ছাড়া।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী এমরান চৌধুরীর বোন লিলি আক্তার। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, এমরান চৌধুরীর স্ত্রী সায়েলা বেগম ইস্পা, মা ছখিনা খাতুন, শ^াশুড়ি শওকত আরা বেগম, বোন পিংকি আক্তার, আলিসা চৌধুরীসহ অনেকে।

তাদের দাবি, হামলা ও ভাঙচুরের সিসিটিভি ফুটেজসহ হালিশহর থানায় গেলে দীর্ঘসময় বসিয়ে রেখে মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করে অভিযোগপত্রটি ভুক্তভোগীদের দিকে ছুঁড়ে মেরে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন থানা পুলিশ।

এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা আদালতে মামলা করা হয়নি কেন জানতে চাইলে অসহায় পরিবারটি জানান, আমাদের পরিবার এখন অনেকটা পুরুষ শূন্য। সন্ত্রাসী আজাদ গংদের ভয়ে আমরা ঘর থেকে বের হতে পারছি না। ঘর থেকে বের হলেই তার লোকেরা নানাভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। আপনারা সহযোগিতা করলে আমরা আদালতে মামলা দায়ের করব।

অভিযোগপত্র ছুঁড়ে মারা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের থানায় এ ধরনের স্পর্দা দেখানোর প্রশিক্ষণ কাউকে দেওয়া হয় নাই। দিন তারিখটি সঠিকভাবে জানালে আমরা থানায় বসানো সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।