ঢাকা ০৫:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈশ্বরদীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় যুবক নিহত পাবনায় শিয়ালের কামড়ে নারী ও শিশুসহ আহত ১১ কুমিল্লায় ১১ জেলার অংশগ্রহণে কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত পায়রা বন্দরের বহরে যুক্ত হচ্ছে দেশীয় প্রযুক্তির ‘টিয়াখালী-৪ কুমিল্লায় ১৩০ জন গ্রেপ্তার’ ১৮ কেজি গাঁজা ও ৪৪৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার লালপুরে মাটি কাটার অভিযোগে ৪ জন আটক, ২ ড্রাম ট্রাক জব্দ নবীনগর প্রাচীন দেওয়ানি আদালত পরিদর্শনে হাইকোর্টের দুই বিচারপতি তজুমদ্দিনে গফুর গ্রেপ্তার, পরে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযানে আটক ৪১৫ দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

ভারত-বাংলাদেশের সুপরিচিত কবি-সাহিত্যিক মাধুরী ব্যানার্জীর আজকের সৃজনশীল প্রতিভার নিদর্শন অণুগল্প: রূপোলি চাঁদের রোশনাই

নিউজ ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৫৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ ১১৪ বার পড়া হয়েছে

রূপোলি চাঁদের রোশনাই-মাধুরী ব্যানার্জী

গ্রামের নাম ছিল চন্দ্রপুর। চারদিকে সবুজ ধানের ক্ষেত, মাঝখানে শান্ত একটি নদী। পূর্ণিমার রাতে সেই নদীর জলে যখন চাঁদের আলো পড়ত, তখন মনে হতো কেউ যেন রূপোর গুঁড়ো ছড়িয়ে দিয়েছে।
সেই গ্রামেই থাকত অনন্যা। ছোটবেলা থেকেই তার বিশ্বাস ছিল—চাঁদের আলো শুধু পৃথিবীকে আলোকিত করে না, মানুষের মনকেও নতুন করে জাগিয়ে তোলে। তাই প্রতি পূর্ণিমায় সে নদীর ধারে গিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে বসে থাকত।

একদিন পূর্ণিমার রাতে সে দেখল, নদীর ধারে এক বৃদ্ধ বসে আছেন। তাঁর চোখে ছিল গভীর বিষণ্নতা। অনন্যা কাছে গিয়ে জানতে চাইল, “আপনি এত একা বসে আছেন কেন?”

বৃদ্ধ মৃদু হেসে বললেন, “আজ আমার স্ত্রীর জন্মদিন। তিনি আর নেই। তবে প্রতি পূর্ণিমায় মনে হয়, এই চাঁদের আলোতেই তিনি আমার সঙ্গে কথা বলতে আসেন।”
অনন্যা কিছু বলল না। শুধু নদীর দিকে তাকিয়ে রইল। রূপোলি চাঁদের রোশনাই যেন দু’জনের নীরবতাকে এক অদৃশ্য বন্ধনে বেঁধে দিল।

এরপর থেকে প্রতি পূর্ণিমায় গ্রামের অনেক মানুষ নদীর ধারে জড়ো হতে শুরু করল। কেউ গান গাইত, কেউ কবিতা আবৃত্তি করত, কেউ আবার শুধু নীরবে চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকত। ধীরে ধীরে সেই রাতগুলো গ্রামের মানুষের কাছে হয়ে উঠল আনন্দ, স্মৃতি আর আশার মিলনমেলা।

বৃদ্ধের মুখেও ফিরে এল হাসি। তিনি বলতেন, “মানুষ চলে যায়, কিন্তু ভালোবাসা থেকে যায়। আর সেই ভালোবাসার পথ দেখায় এই রূপোলি চাঁদের রোশনাই।”

সেদিনের পর অনন্যা বুঝেছিল, চাঁদের আলো আকাশ থেকে নেমে এলেও তার আসল দীপ্তি জ্বলে মানুষের হৃদয়ে। যে হৃদয়ে ভালোবাসা, স্মৃতি আর সহমর্মিতা বেঁচে থাকে, সেখানেই রূপোলি চাঁদের রোশনাই কখনও ফুরিয়ে যায় না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভারত-বাংলাদেশের সুপরিচিত কবি-সাহিত্যিক মাধুরী ব্যানার্জীর আজকের সৃজনশীল প্রতিভার নিদর্শন অণুগল্প: রূপোলি চাঁদের রোশনাই

আপডেট সময় : ০১:৫৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

রূপোলি চাঁদের রোশনাই-মাধুরী ব্যানার্জী

গ্রামের নাম ছিল চন্দ্রপুর। চারদিকে সবুজ ধানের ক্ষেত, মাঝখানে শান্ত একটি নদী। পূর্ণিমার রাতে সেই নদীর জলে যখন চাঁদের আলো পড়ত, তখন মনে হতো কেউ যেন রূপোর গুঁড়ো ছড়িয়ে দিয়েছে।
সেই গ্রামেই থাকত অনন্যা। ছোটবেলা থেকেই তার বিশ্বাস ছিল—চাঁদের আলো শুধু পৃথিবীকে আলোকিত করে না, মানুষের মনকেও নতুন করে জাগিয়ে তোলে। তাই প্রতি পূর্ণিমায় সে নদীর ধারে গিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে বসে থাকত।

একদিন পূর্ণিমার রাতে সে দেখল, নদীর ধারে এক বৃদ্ধ বসে আছেন। তাঁর চোখে ছিল গভীর বিষণ্নতা। অনন্যা কাছে গিয়ে জানতে চাইল, “আপনি এত একা বসে আছেন কেন?”

বৃদ্ধ মৃদু হেসে বললেন, “আজ আমার স্ত্রীর জন্মদিন। তিনি আর নেই। তবে প্রতি পূর্ণিমায় মনে হয়, এই চাঁদের আলোতেই তিনি আমার সঙ্গে কথা বলতে আসেন।”
অনন্যা কিছু বলল না। শুধু নদীর দিকে তাকিয়ে রইল। রূপোলি চাঁদের রোশনাই যেন দু’জনের নীরবতাকে এক অদৃশ্য বন্ধনে বেঁধে দিল।

এরপর থেকে প্রতি পূর্ণিমায় গ্রামের অনেক মানুষ নদীর ধারে জড়ো হতে শুরু করল। কেউ গান গাইত, কেউ কবিতা আবৃত্তি করত, কেউ আবার শুধু নীরবে চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকত। ধীরে ধীরে সেই রাতগুলো গ্রামের মানুষের কাছে হয়ে উঠল আনন্দ, স্মৃতি আর আশার মিলনমেলা।

বৃদ্ধের মুখেও ফিরে এল হাসি। তিনি বলতেন, “মানুষ চলে যায়, কিন্তু ভালোবাসা থেকে যায়। আর সেই ভালোবাসার পথ দেখায় এই রূপোলি চাঁদের রোশনাই।”

সেদিনের পর অনন্যা বুঝেছিল, চাঁদের আলো আকাশ থেকে নেমে এলেও তার আসল দীপ্তি জ্বলে মানুষের হৃদয়ে। যে হৃদয়ে ভালোবাসা, স্মৃতি আর সহমর্মিতা বেঁচে থাকে, সেখানেই রূপোলি চাঁদের রোশনাই কখনও ফুরিয়ে যায় না।