ঢাকা ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল ঈশ্বরদীতে সারের ডিলার বাতিলের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন,তদন্তের দাবী ঈশ্বরদীতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু কাঁঠালিয়ায় ১০ হাজার মিটার অবৈধ জাল উদ্ধার, পুড়িয়ে ধ্বংস দুর্গাপূজায় যশোর জেলা বিএনপির ২৫ সদস্যের পর্যবেক্ষণ কমিটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি-পদায়ন করা হচ্ছে: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের দামুড়হুদায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বসতবাড়ি উচ্ছেদ করে পুকুর খনন রাজশাহী মহানগর যুবদলের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষ বিতরণ তাজমিন হত্যা: কথিত প্রেমিক রাজুকে কুমিল্লা পুলিশের কাছে হস্তান্তর

‘আমরা বেঁচে থেকেও মৃত’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১২:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ২৬২ বার পড়া হয়েছে

টানা ১০ দিন ধরে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খনন করার পর শেষ পর্যন্ত আহমেত ফিরাত পুনরুদ্ধারের জন্য কোনো মৃতদেহ পায়নি। তবুও তিনি শান্তি অনুভব করতে পারছেন না। তিনি আল-জাজিরাকে বলেন, আপনি আমাদের দেখেন, আমাদের দেখে মনে হয় আমরা বেঁচে আছি কিন্তু আমরা মৃত। আমরা ১২জন আত্মীয় হারিয়েছি; আমরাও তাদের সঙ্গে মারা গেছি। গত সপ্তাহে দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্প দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্ক এবং উত্তর-পশ্চিম সিরিয়াজুড়ে শহরগুলিকে বিধ্বস্ত করেছে, হাজার হাজার লোক নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকের আশ্রয় ও সাহায্যের প্রয়োজন। ফিরাত, তার স্ত্রী আয়তেন এবং তাদের তিন সন্তান তাদের পরিহিত জামাকাপড় নিয়ে সময়মতো বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। কিন্তু তাদের ভাড়া করা বাসাটি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তারা এখন চারটি তাঁবুতে প্রায় ৪০ জন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অবস্থান করছেন। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তাঁবুর, গালিচা এবং কম্বলগুলি আদিয়ামানে ঠান্ডা থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র সম্বল। পরিবারটির একটি কাঠের চুলা আছে, কিন্তু বাতাসের কারণে প্রায়শই তাঁবুতে ধোঁয়া উড়ে আসে। এই ধোঁয়াতে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে চুরি ও শিশুদের অপহরণের খবর চাউর হয়েছে, তাই পরিবারের সদস্যরা সারারাত জেগে থাকে পাহারা দিচ্ছেন। আইতেন নামের একজন জানায়, আমাদের বাচ্চারা আতঙ্কিত, সবকিছুই তাদের ভীত করে তোলে। তারা আমাদের চোখের আড়াল হতে চায় না। আদিয়ামানের কেন্দ্রে, ৬ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কয়েক ঘণ্টা পরে আবার ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তুরস্ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সাহায্য তৃতীয় দিন পর্যন্ত আদিয়ামানে পৌঁছায়নি। তুষার ও ভারী বৃষ্টির কারণে অনেক রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার ফলে প্রায় ৩ লাখ লোকের শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া বিপর্যয়ের প্রথম দিনগুলিতে সেখানকার মর্গটি পূর্ণ ছিল এবং রাস্তাগুলি অবরুদ্ধ ছিল। যার কারণে মৃতদেহগুলো রাস্তায় কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। সীমিত জায়গার কারণে এবং পর্যাপ্ত সাদা কাফন না থাকার কারণে পরিবারগুলোকে একই কবরে দাফন করা হয়েছিল। বুধবারের মধ্যে, আদিয়ামানে ৮হাজার জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া শত শত ভবন সম্পূর্ণভাবে ধসে গেছে। তুরস্কের জরুরি এবং দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া সংস্থা এবং অন্যান্য সংস্থাগুলি ক্ষতিগ্রস্তদের তাঁবু সরবরাহ করেছে। ৪০ বছর বয়সী কল সেন্টারের কর্মী বাহরি তাস আল-জাজিরাকে বলেন, যার কাছে টাকা আছে সে আদিয়ামান ছেড়ে গেছে, যাদের নেই তারা থেকে গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

‘আমরা বেঁচে থেকেও মৃত’

আপডেট সময় : ১০:১২:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

টানা ১০ দিন ধরে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খনন করার পর শেষ পর্যন্ত আহমেত ফিরাত পুনরুদ্ধারের জন্য কোনো মৃতদেহ পায়নি। তবুও তিনি শান্তি অনুভব করতে পারছেন না। তিনি আল-জাজিরাকে বলেন, আপনি আমাদের দেখেন, আমাদের দেখে মনে হয় আমরা বেঁচে আছি কিন্তু আমরা মৃত। আমরা ১২জন আত্মীয় হারিয়েছি; আমরাও তাদের সঙ্গে মারা গেছি। গত সপ্তাহে দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্প দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্ক এবং উত্তর-পশ্চিম সিরিয়াজুড়ে শহরগুলিকে বিধ্বস্ত করেছে, হাজার হাজার লোক নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকের আশ্রয় ও সাহায্যের প্রয়োজন। ফিরাত, তার স্ত্রী আয়তেন এবং তাদের তিন সন্তান তাদের পরিহিত জামাকাপড় নিয়ে সময়মতো বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। কিন্তু তাদের ভাড়া করা বাসাটি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তারা এখন চারটি তাঁবুতে প্রায় ৪০ জন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অবস্থান করছেন। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তাঁবুর, গালিচা এবং কম্বলগুলি আদিয়ামানে ঠান্ডা থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র সম্বল। পরিবারটির একটি কাঠের চুলা আছে, কিন্তু বাতাসের কারণে প্রায়শই তাঁবুতে ধোঁয়া উড়ে আসে। এই ধোঁয়াতে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে চুরি ও শিশুদের অপহরণের খবর চাউর হয়েছে, তাই পরিবারের সদস্যরা সারারাত জেগে থাকে পাহারা দিচ্ছেন। আইতেন নামের একজন জানায়, আমাদের বাচ্চারা আতঙ্কিত, সবকিছুই তাদের ভীত করে তোলে। তারা আমাদের চোখের আড়াল হতে চায় না। আদিয়ামানের কেন্দ্রে, ৬ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কয়েক ঘণ্টা পরে আবার ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তুরস্ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সাহায্য তৃতীয় দিন পর্যন্ত আদিয়ামানে পৌঁছায়নি। তুষার ও ভারী বৃষ্টির কারণে অনেক রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার ফলে প্রায় ৩ লাখ লোকের শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া বিপর্যয়ের প্রথম দিনগুলিতে সেখানকার মর্গটি পূর্ণ ছিল এবং রাস্তাগুলি অবরুদ্ধ ছিল। যার কারণে মৃতদেহগুলো রাস্তায় কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। সীমিত জায়গার কারণে এবং পর্যাপ্ত সাদা কাফন না থাকার কারণে পরিবারগুলোকে একই কবরে দাফন করা হয়েছিল। বুধবারের মধ্যে, আদিয়ামানে ৮হাজার জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া শত শত ভবন সম্পূর্ণভাবে ধসে গেছে। তুরস্কের জরুরি এবং দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া সংস্থা এবং অন্যান্য সংস্থাগুলি ক্ষতিগ্রস্তদের তাঁবু সরবরাহ করেছে। ৪০ বছর বয়সী কল সেন্টারের কর্মী বাহরি তাস আল-জাজিরাকে বলেন, যার কাছে টাকা আছে সে আদিয়ামান ছেড়ে গেছে, যাদের নেই তারা থেকে গেছে।