ঢাকা ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশের ক্রীড়া যেন বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে সেই লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার – প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ, থানায় আত্মসমর্পণ স্বামীর তীব্র গরমে ডুমুরিয়া পল্লী বিদ্যুতের নজিরবিহীন লোডশেডিং, অতিষ্ঠ জনজীবন মদনে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ওসির সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় হরিণাকুন্ডুতে ৫০ জন অগ্রগামী খামারি নিয়ে লাভজন চাষে ব্রাক ফিশারিজ এন্টারপ্রাইজ প্রশিক্ষন হু হু করে বাড়ছে দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত, বন্যা ও নদীভাঙনের শঙ্কা চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পৃথক অভিযানে বিস্ফোরক ও মাদক মামলার দুই আসামী গ্রেফতার জলঢাকা থানার ১২ নম্বর মামলার প্রধান আসামি ইউপি চেয়ারম্যান মুকুল গ্রেপ্তার; আদালতে সোপর্দ কুমিল্লায় ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার দুই মূল ঘাতক ১৪ মামলার আসামিসহ ৪ ডাকাত গ্রেফতার, অস্ত্র ও মাইক্রোবাস উদ্ধার

‘আমরা বেঁচে থেকেও মৃত’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১২:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ১৮৮ বার পড়া হয়েছে

টানা ১০ দিন ধরে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খনন করার পর শেষ পর্যন্ত আহমেত ফিরাত পুনরুদ্ধারের জন্য কোনো মৃতদেহ পায়নি। তবুও তিনি শান্তি অনুভব করতে পারছেন না। তিনি আল-জাজিরাকে বলেন, আপনি আমাদের দেখেন, আমাদের দেখে মনে হয় আমরা বেঁচে আছি কিন্তু আমরা মৃত। আমরা ১২জন আত্মীয় হারিয়েছি; আমরাও তাদের সঙ্গে মারা গেছি। গত সপ্তাহে দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্প দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্ক এবং উত্তর-পশ্চিম সিরিয়াজুড়ে শহরগুলিকে বিধ্বস্ত করেছে, হাজার হাজার লোক নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকের আশ্রয় ও সাহায্যের প্রয়োজন। ফিরাত, তার স্ত্রী আয়তেন এবং তাদের তিন সন্তান তাদের পরিহিত জামাকাপড় নিয়ে সময়মতো বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। কিন্তু তাদের ভাড়া করা বাসাটি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তারা এখন চারটি তাঁবুতে প্রায় ৪০ জন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অবস্থান করছেন। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তাঁবুর, গালিচা এবং কম্বলগুলি আদিয়ামানে ঠান্ডা থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র সম্বল। পরিবারটির একটি কাঠের চুলা আছে, কিন্তু বাতাসের কারণে প্রায়শই তাঁবুতে ধোঁয়া উড়ে আসে। এই ধোঁয়াতে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে চুরি ও শিশুদের অপহরণের খবর চাউর হয়েছে, তাই পরিবারের সদস্যরা সারারাত জেগে থাকে পাহারা দিচ্ছেন। আইতেন নামের একজন জানায়, আমাদের বাচ্চারা আতঙ্কিত, সবকিছুই তাদের ভীত করে তোলে। তারা আমাদের চোখের আড়াল হতে চায় না। আদিয়ামানের কেন্দ্রে, ৬ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কয়েক ঘণ্টা পরে আবার ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তুরস্ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সাহায্য তৃতীয় দিন পর্যন্ত আদিয়ামানে পৌঁছায়নি। তুষার ও ভারী বৃষ্টির কারণে অনেক রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার ফলে প্রায় ৩ লাখ লোকের শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া বিপর্যয়ের প্রথম দিনগুলিতে সেখানকার মর্গটি পূর্ণ ছিল এবং রাস্তাগুলি অবরুদ্ধ ছিল। যার কারণে মৃতদেহগুলো রাস্তায় কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। সীমিত জায়গার কারণে এবং পর্যাপ্ত সাদা কাফন না থাকার কারণে পরিবারগুলোকে একই কবরে দাফন করা হয়েছিল। বুধবারের মধ্যে, আদিয়ামানে ৮হাজার জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া শত শত ভবন সম্পূর্ণভাবে ধসে গেছে। তুরস্কের জরুরি এবং দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া সংস্থা এবং অন্যান্য সংস্থাগুলি ক্ষতিগ্রস্তদের তাঁবু সরবরাহ করেছে। ৪০ বছর বয়সী কল সেন্টারের কর্মী বাহরি তাস আল-জাজিরাকে বলেন, যার কাছে টাকা আছে সে আদিয়ামান ছেড়ে গেছে, যাদের নেই তারা থেকে গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

‘আমরা বেঁচে থেকেও মৃত’

আপডেট সময় : ১০:১২:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

টানা ১০ দিন ধরে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খনন করার পর শেষ পর্যন্ত আহমেত ফিরাত পুনরুদ্ধারের জন্য কোনো মৃতদেহ পায়নি। তবুও তিনি শান্তি অনুভব করতে পারছেন না। তিনি আল-জাজিরাকে বলেন, আপনি আমাদের দেখেন, আমাদের দেখে মনে হয় আমরা বেঁচে আছি কিন্তু আমরা মৃত। আমরা ১২জন আত্মীয় হারিয়েছি; আমরাও তাদের সঙ্গে মারা গেছি। গত সপ্তাহে দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্প দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্ক এবং উত্তর-পশ্চিম সিরিয়াজুড়ে শহরগুলিকে বিধ্বস্ত করেছে, হাজার হাজার লোক নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকের আশ্রয় ও সাহায্যের প্রয়োজন। ফিরাত, তার স্ত্রী আয়তেন এবং তাদের তিন সন্তান তাদের পরিহিত জামাকাপড় নিয়ে সময়মতো বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। কিন্তু তাদের ভাড়া করা বাসাটি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তারা এখন চারটি তাঁবুতে প্রায় ৪০ জন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অবস্থান করছেন। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তাঁবুর, গালিচা এবং কম্বলগুলি আদিয়ামানে ঠান্ডা থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র সম্বল। পরিবারটির একটি কাঠের চুলা আছে, কিন্তু বাতাসের কারণে প্রায়শই তাঁবুতে ধোঁয়া উড়ে আসে। এই ধোঁয়াতে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে চুরি ও শিশুদের অপহরণের খবর চাউর হয়েছে, তাই পরিবারের সদস্যরা সারারাত জেগে থাকে পাহারা দিচ্ছেন। আইতেন নামের একজন জানায়, আমাদের বাচ্চারা আতঙ্কিত, সবকিছুই তাদের ভীত করে তোলে। তারা আমাদের চোখের আড়াল হতে চায় না। আদিয়ামানের কেন্দ্রে, ৬ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কয়েক ঘণ্টা পরে আবার ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তুরস্ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সাহায্য তৃতীয় দিন পর্যন্ত আদিয়ামানে পৌঁছায়নি। তুষার ও ভারী বৃষ্টির কারণে অনেক রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার ফলে প্রায় ৩ লাখ লোকের শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া বিপর্যয়ের প্রথম দিনগুলিতে সেখানকার মর্গটি পূর্ণ ছিল এবং রাস্তাগুলি অবরুদ্ধ ছিল। যার কারণে মৃতদেহগুলো রাস্তায় কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। সীমিত জায়গার কারণে এবং পর্যাপ্ত সাদা কাফন না থাকার কারণে পরিবারগুলোকে একই কবরে দাফন করা হয়েছিল। বুধবারের মধ্যে, আদিয়ামানে ৮হাজার জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া শত শত ভবন সম্পূর্ণভাবে ধসে গেছে। তুরস্কের জরুরি এবং দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া সংস্থা এবং অন্যান্য সংস্থাগুলি ক্ষতিগ্রস্তদের তাঁবু সরবরাহ করেছে। ৪০ বছর বয়সী কল সেন্টারের কর্মী বাহরি তাস আল-জাজিরাকে বলেন, যার কাছে টাকা আছে সে আদিয়ামান ছেড়ে গেছে, যাদের নেই তারা থেকে গেছে।