ঈশ্বরদীতে সুদ কারবারিদের দৌরাত্ম্য প্রতিকারের দাবি এলাকাবাসীর
- আপডেট সময় : ০৯:১৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ৭০ বার পড়া হয়েছে
পাবনার ঈশ্বরদীতে চড়া সুদে টাকা খাটিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সুদ কারবারিদের বিরুদ্ধে। তাঁদের দৌরাত্ম্য বন্ধ ও সুদের কারবারে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে এলাকাবাসীকে নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঈশ্বরদী পৌর শহরের গোলাম হাসান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্থানীয় সুদ কারবারিদের সতর্ক করে বক্তব্য দেন সাবেক ছাত্রনেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার ভাটাপাড়া, মশুড়িয়াপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র চড়া সুদে টাকা ধার দিয়ে আসছে। মাসের পর মাস সুদের টাকা আদায় করতে গিয়ে অনেক ঋণগ্রহীতা আসল টাকার দ্বিগুণ-তিনগুণ পরিশোধ করেও ঋণমুক্ত হতে পারছেন না। সুদের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে কেউ কেউ সহায়-সম্বল বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সুদ কারবারিদের দৌরাত্ম্যে এক শ্রেণির মানুষ দিন দিন নিঃস্ব হয়ে পড়লেও বিপরীতে আরেক শ্রেণির মানুষের সম্পদ বাড়ছে। তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর তা পরিশোধ করতে না পেরে অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তাজমিন ও তাঁর স্বামী হাফিজুলের কাছ থেকেও সুদ কারবারিদের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এবং পরে তাঁরা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী কিছু মহাজন সুদের কারবার নির্বিঘ্ন রাখতে স্থানীয় দালাল ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজনকে ব্যবহার করেন। ফলে ভুক্তভোগী ও সচেতন ব্যক্তিদের অনেকে প্রকাশ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সুদ কারবারিরা অধিক মুনাফার আশায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে টাকা ধার দেন। পরে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সুদ আদায় করা হয়। এতে ঋণগ্রহীতাদের ওপর আর্থিক চাপ ক্রমেই বাড়তে থাকে।
আলোচনা সভায় বক্তারা সুদ কারবারিদের একটি তালিকা তৈরির পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে সুদের ফাঁদে পড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন তাঁরা।
সাবেক ছাত্রনেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পি বলেন, সুদকারবারীদের দৌরাত্ম্যে এই এলাকার অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। তাদের অত্যাচারে বহু মানুষ সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। তাই এখনই এ অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। আজকের পর থেকে যারা সুদকারবারে জড়িত থাকবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করছি।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, সুদকরবারীদের বিষয়ে অভিযোগ এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।










