ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নেশার টাকা চেয়ে বাবা-মাকে মারধরে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা কাহারোলে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে অবরুদ্ধ, ইউএনও’র হস্তক্ষেপে উদ্ধার লালপুরে পুলিশ সদস্যসহ ইয়াবা নিয়ে গ্রেপ্তার ৩ ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত মিছিলের’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল জাকারিয়া পিন্টু ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রুয়েট উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ষষ্ঠ সমাবর্তন জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পাবনায় ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক, কারাদণ্ড ৩ মাদকসেবীর সত্যের পক্ষে এক সাহসিক কলম যোদ্ধা : সায়েক এম রহমান  বাংলাদেশ প্রেসক্লাব পাবনা জেলা শাখার মিলন মেলা ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে কৃষকদের আস্থার প্রতিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল ইমরান

পাবনার সাঁথিয়ায় খাস জমির দোকান হতে মাসে ভাড়া তোলে অর্ধ লক্ষ টাকা

ফারুক হোসেন, সাঁথিয়া পাবনা থেকেঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৫৯:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৪ ২৯২ বার পড়া হয়েছে

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার মাধপুর বাজারের খাস জমির উপর নির্মিত ১৭টি স্থায়ী ও ১০টি ভাসমান দোকান হতে প্রভাবশালী ৬ জন নেতা প্রতি মাসে প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা ভাড়া তুলে খাচ্ছে। এছাড়া সেখানকার আওয়ামী লীগের কার্যালয় এখন নেশা খোরদের অভয়াশ্রম, জুয়া-তাস খেলার আড্ডা খানায় পরিনত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

তবে একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, ভাড়া গ্রহিতারা সবাই এখন বিএনপির নাম ভাংঙিয়ে জোড় করে ভাড়া আদায় করছে। মূলত এরা কেউই বিএনপি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নয়। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এরা সবাই খোলস পাল্টিয়ে বিএনপি হয়েছে।

পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের পাশে এবং সাঁথিয়া হতে পাবনা যাবার নাকের ডোগায় অবস্থিত মাধপুর বাজার। মাধপুর বাস স্ট্যান্ডের উত্তরে রয়েছে ১৬ শতাংশ খাস জমি। যার জে এল নং ৮০, দাগ নং ৬৪৫, খতিয়ান নং ০১ (খাস)। এর আগে জায়গাটি সাঁথিয়া উপজেলা প্রশাসন দখল মুক্ত করলেও বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় আওয়ামীলীগ নেতা আরশেদ আলী ভান্ডারী জোড়পূর্বক ওই স্থানে আওয়ামীলীগ এর অফিসের নামে একটি ঘর নির্মাণ করেন। এ সুযোগে অন্যরা তাকে ম্যানেজ করে পূর্ব-পশ্চিমে ১৭টি স্থায়ী ও অফিসের সামনে আরও প্রায় ১০-১২টি অস্থায়ী ভাসমান দোকান বসান। আওয়ামীলীগ সরকারের সময় আরশেদ আলী ভান্ডারী ওই সব দোকান হতে প্রতি মাসে নিজেই ভাড়া আদায় করতেন।

গত ৫ আগষ্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর রাতেই আওয়ামীলীগ অফিসটি পরিনত হয় নেশা খোরদের অভয়াশ্রম, জুয়া-তাস খেলার আড্ডা খানা।এমনটা দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আর বাজারের নিয়ন্ত্রন চলে যায় কথিত ৬ জন প্রভাবশালীর হাতে। বর্তমানে ওই নেতারা স্থায়ী প্রতি দোকান হতে ১৫শ হতে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত মাসিক ভাড়া হিসাবে আদায় করছে। কথিত বিএনপির নেতারা হলো মৃত রায়হান যার ছেলে আব্দুল কুদ্দুস খাঁ ও ইদ্রিস আলী খাঁ, মৃত লোকমান হোসেনের ছেলে বাচ্চু মেম্বর, শামসুল খান এজেন্টার এর ছেলে শহীদুল্লাহ, মৃত নূরুল ইসলাম এর ছেলে মতিউর রহমান রঞ্জু, আনিসুর রহমান রবু এর ছেলে সুইট। এদের সবার বাড়িই মাধপুর গ্রামে। এখানে কেউ কেউ ৩০০ টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি পূর্বক দোকান প্রতি ২-৩ লক্ষ টাকা সিকিউরিটি দিয়ে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছে। কেউ কেউ মাসিক ঘড় ভাড়ার পাকা রশিদ-ছাঁপিয়ে ভাড়া আদায় করে চলছে। প্রশাসনের নাকের ডোগায় দীর্ঘ বছর এ কার্যক্রম চললেও প্রশাসন না জানার ভান করে রয়েছে।

এ বিষয়ে মাধপুর বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জনাব আলী বলেন, আওয়ামীলীগ সরকারের সময় আরশেদ আলী ভান্ডারী সব ভাড়া তুলতেন এবং বাজার নিয়ন্ত্রন করতেন। এখন নিয়ন্ত্রন করছে কথিত বিএনপির ৬ জন নেতা। বিষয়টি সকলে জানলেও সম্মুখে বলতে কেউ সাহস পায় না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি সোলায়মান হোসেন সলিম বলেন, ওরা বিএনপির কেউ নয় আর জমিটা সম্পূর্ণ সরকারি খাস জমি । মতিউর রহমান রঞ্জুর সাথে কথা হলে তিনি দাবি করেন এটা আমাদের সম্পত্তি এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তাই আমরা ভোগ দখল করে দোকানের ভাড়া তুলছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাঁথিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাতুল হক বলেন, ১মাস পূর্বে অভিযোগ পেয়েছিলাম এবং উক্ত বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।

পাবনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ বিষয়টি সম্পর্কে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে। খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পাবনার সাঁথিয়ায় খাস জমির দোকান হতে মাসে ভাড়া তোলে অর্ধ লক্ষ টাকা

আপডেট সময় : ০১:৫৯:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৪

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার মাধপুর বাজারের খাস জমির উপর নির্মিত ১৭টি স্থায়ী ও ১০টি ভাসমান দোকান হতে প্রভাবশালী ৬ জন নেতা প্রতি মাসে প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা ভাড়া তুলে খাচ্ছে। এছাড়া সেখানকার আওয়ামী লীগের কার্যালয় এখন নেশা খোরদের অভয়াশ্রম, জুয়া-তাস খেলার আড্ডা খানায় পরিনত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

তবে একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, ভাড়া গ্রহিতারা সবাই এখন বিএনপির নাম ভাংঙিয়ে জোড় করে ভাড়া আদায় করছে। মূলত এরা কেউই বিএনপি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নয়। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এরা সবাই খোলস পাল্টিয়ে বিএনপি হয়েছে।

পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের পাশে এবং সাঁথিয়া হতে পাবনা যাবার নাকের ডোগায় অবস্থিত মাধপুর বাজার। মাধপুর বাস স্ট্যান্ডের উত্তরে রয়েছে ১৬ শতাংশ খাস জমি। যার জে এল নং ৮০, দাগ নং ৬৪৫, খতিয়ান নং ০১ (খাস)। এর আগে জায়গাটি সাঁথিয়া উপজেলা প্রশাসন দখল মুক্ত করলেও বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় আওয়ামীলীগ নেতা আরশেদ আলী ভান্ডারী জোড়পূর্বক ওই স্থানে আওয়ামীলীগ এর অফিসের নামে একটি ঘর নির্মাণ করেন। এ সুযোগে অন্যরা তাকে ম্যানেজ করে পূর্ব-পশ্চিমে ১৭টি স্থায়ী ও অফিসের সামনে আরও প্রায় ১০-১২টি অস্থায়ী ভাসমান দোকান বসান। আওয়ামীলীগ সরকারের সময় আরশেদ আলী ভান্ডারী ওই সব দোকান হতে প্রতি মাসে নিজেই ভাড়া আদায় করতেন।

গত ৫ আগষ্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর রাতেই আওয়ামীলীগ অফিসটি পরিনত হয় নেশা খোরদের অভয়াশ্রম, জুয়া-তাস খেলার আড্ডা খানা।এমনটা দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আর বাজারের নিয়ন্ত্রন চলে যায় কথিত ৬ জন প্রভাবশালীর হাতে। বর্তমানে ওই নেতারা স্থায়ী প্রতি দোকান হতে ১৫শ হতে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত মাসিক ভাড়া হিসাবে আদায় করছে। কথিত বিএনপির নেতারা হলো মৃত রায়হান যার ছেলে আব্দুল কুদ্দুস খাঁ ও ইদ্রিস আলী খাঁ, মৃত লোকমান হোসেনের ছেলে বাচ্চু মেম্বর, শামসুল খান এজেন্টার এর ছেলে শহীদুল্লাহ, মৃত নূরুল ইসলাম এর ছেলে মতিউর রহমান রঞ্জু, আনিসুর রহমান রবু এর ছেলে সুইট। এদের সবার বাড়িই মাধপুর গ্রামে। এখানে কেউ কেউ ৩০০ টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি পূর্বক দোকান প্রতি ২-৩ লক্ষ টাকা সিকিউরিটি দিয়ে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছে। কেউ কেউ মাসিক ঘড় ভাড়ার পাকা রশিদ-ছাঁপিয়ে ভাড়া আদায় করে চলছে। প্রশাসনের নাকের ডোগায় দীর্ঘ বছর এ কার্যক্রম চললেও প্রশাসন না জানার ভান করে রয়েছে।

এ বিষয়ে মাধপুর বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জনাব আলী বলেন, আওয়ামীলীগ সরকারের সময় আরশেদ আলী ভান্ডারী সব ভাড়া তুলতেন এবং বাজার নিয়ন্ত্রন করতেন। এখন নিয়ন্ত্রন করছে কথিত বিএনপির ৬ জন নেতা। বিষয়টি সকলে জানলেও সম্মুখে বলতে কেউ সাহস পায় না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি সোলায়মান হোসেন সলিম বলেন, ওরা বিএনপির কেউ নয় আর জমিটা সম্পূর্ণ সরকারি খাস জমি । মতিউর রহমান রঞ্জুর সাথে কথা হলে তিনি দাবি করেন এটা আমাদের সম্পত্তি এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তাই আমরা ভোগ দখল করে দোকানের ভাড়া তুলছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাঁথিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাতুল হক বলেন, ১মাস পূর্বে অভিযোগ পেয়েছিলাম এবং উক্ত বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।

পাবনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ বিষয়টি সম্পর্কে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে। খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।