ঈশ্বরদীতে জেলে পরিবারের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট সময় : ১০:০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
পাবনার ঈশ্বরদীতে এক জেলে পরিবারের সদস্যদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শনিবার (৯ মে) বিকেলে উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের মাছুয়াপাড়া এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মৃত ফিরিঙ্গির ছেলে শ্রী সীতারাম তিনি জানান, তিনি পদ্মা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের বিরোধ চলছিল। পূর্ব শত্রুতার জেরে গত ২মে বিকেলে তার বসতবাড়ির উঠানে ভাদু মন্ডলের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সীতারামের অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রথমে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। প্রতিবাদ করলে ভাদু মন্ডল অন্যদের তাকে মারধরের নির্দেশ দেয়। পরে লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে নন্দ নামে একজন লোহার শাবল দিয়ে মাথায় আঘাত করতে গেলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার বাম হাতের কব্জিতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং হাড় ভেঙে যায়।
এছাড়া ভাদু মন্ডলের আঘাতে তার মাথার বাম পাশে কানের ওপরে জখম হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। হামলাকারীরা তাকে বুক ও পেটে লাথি মেরে আহত করে এবং মাছ বিক্রির নগদ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় বলেও দাবি করেন সিতারাম।
তিনি আরও জানান, তার চিৎকার শুনে ছোট ছেলে গোপাল (১৫) এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে গোপালের বাম হাতের একটি আঙুলের নখ উঠে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সীতারামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনা সদর হাসপাতালে পাঠান। ঘটনার পর ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের হলেও অভিযুক্ত ভাদু মণ্ডলকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ রাতেই ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগীর ছোট ভাই মনা সাহানী, জিন্নাহ শেখ, বিশু সরকার, সুমিত্রা রাণী ও সূযী রাণীসহ স্থানীয়রা। পরিবারের সদস্যরা ও এলাকাবাসী হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, ঘটনার পর মামলা দায়ের হয়েছে এবং মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। পুলিশ অভিযানে গেলে অভিযুক্তদের একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে রাজশাহীতে রেফার করা হয়। অভিযুক্ত ভাদু মন্ডলের ছেলে শ্রী নন্দকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।












