ঢাকা ০৮:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খালেদা জিয়ার স্মরণে ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন নেশার টাকা চেয়ে বাবা-মাকে মারধরে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা কাহারোলে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে অবরুদ্ধ, ইউএনও’র হস্তক্ষেপে উদ্ধার লালপুরে পুলিশ সদস্যসহ ইয়াবা নিয়ে গ্রেপ্তার ৩ ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত মিছিলের’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল জাকারিয়া পিন্টু ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রুয়েট উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ষষ্ঠ সমাবর্তন জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পাবনায় ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক, কারাদণ্ড ৩ মাদকসেবীর সত্যের পক্ষে এক সাহসিক কলম যোদ্ধা : সায়েক এম রহমান  বাংলাদেশ প্রেসক্লাব পাবনা জেলা শাখার মিলন মেলা ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

বাঞ্ছারামপুরে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে গৃহবন্দী করে রাখার অভিযোগ, ৩ দিন ধরে অনাহারে শিশুরা

সাধন সাহা জয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:০৭:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ৬৩ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে গেট আটকে গৃহবন্দী করে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি খাদ্য সংকটের কারণে পরিবারের ছোট ছোট শিশুরা গত তিন দিন ধরে প্রায় অনাহারে দিন কাটাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এই অমানবিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।
​স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, রূপসদী দক্ষিণপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহের আলীর পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রতিপক্ষের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে সম্প্রতি প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বাড়ির যাতায়াতের পথ ও প্রধান ফটক বাইরে থেকে আটকে দেয়। ফলে নারী ও শিশুসহ পরিবারের ৬ সদস্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

​ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, গৃহবন্দী থাকার কারণে ঘরে থাকা জমানো শুকনো খাবারও ইতোমধ্যে ফুরিয়ে গেছে। বাইরে থেকে কেউ খাবার দিতে চাইলেও প্রতিপক্ষের বাধায় তা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অবরুদ্ধ শিশুদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে ওই বাড়ির পরিবেশ।
​কান্নাজড়িত কণ্ঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহের আলী বলেন, “আমরা মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আর আজ স্বাধীন দেশে নিজের বাড়িতেই অবরুদ্ধ! বাচ্চারা ক্ষুধার জ্বালায় কান্না করছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

​ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম জানান, “আমাদের রান্নার জায়গা বা যাতায়াতের পথটি ঘিরে ফেলা হয়েছে। আমরা ঠিকমতো চলাচল করতে পারছি না। ঘরে ছোট তিনটি বাচ্চা নিয়ে আমরা গত তিন দিন ধরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছি এবং অনাহারে দিন কাটাচ্ছি।”

​অন্যদিকে অভিযুক্ত প্রতিপক্ষ সাহিদা বেগম দাবি করেন, “এই জায়গা আমাদের কেনা। আমরা আমাদের জমিতে বেড়া বা বাধা দিয়েছি। প্রয়োজন হলে পরে তা খুলে দেব।”

​ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় এলাকাবাসী থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে খোঁজখবর নেয়।
​এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, “রান্নার জায়গাটি অন্য বাড়ির সীমানায় পড়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের সাথে কথা হয়েছে, তারা বিষয়টি সমাধান করে দরজা বা যাতায়াত ব্যবস্থা খুলে দেবেন বলে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তরিকুল ইসলাম বলেন, ” বিষয়টি আমরা দেখছি। ভুক্তভোগীদের বিস্তারিত ঠিকানা পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

​এছাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন জানান, ” বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সাথে এমন অমানবিক আচরণ ও শিশুদের অনাহারে রাখার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকারকর্মীরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। অবিলম্বে এই অবরুদ্ধ অবস্থা নিরসন করে পরিবারটির নিরাপত্তা ও খাদ্যের নিশ্চয়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাঞ্ছারামপুরে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে গৃহবন্দী করে রাখার অভিযোগ, ৩ দিন ধরে অনাহারে শিশুরা

আপডেট সময় : ০৮:০৭:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে গেট আটকে গৃহবন্দী করে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি খাদ্য সংকটের কারণে পরিবারের ছোট ছোট শিশুরা গত তিন দিন ধরে প্রায় অনাহারে দিন কাটাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এই অমানবিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।
​স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, রূপসদী দক্ষিণপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহের আলীর পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রতিপক্ষের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে সম্প্রতি প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বাড়ির যাতায়াতের পথ ও প্রধান ফটক বাইরে থেকে আটকে দেয়। ফলে নারী ও শিশুসহ পরিবারের ৬ সদস্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

​ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, গৃহবন্দী থাকার কারণে ঘরে থাকা জমানো শুকনো খাবারও ইতোমধ্যে ফুরিয়ে গেছে। বাইরে থেকে কেউ খাবার দিতে চাইলেও প্রতিপক্ষের বাধায় তা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অবরুদ্ধ শিশুদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে ওই বাড়ির পরিবেশ।
​কান্নাজড়িত কণ্ঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহের আলী বলেন, “আমরা মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আর আজ স্বাধীন দেশে নিজের বাড়িতেই অবরুদ্ধ! বাচ্চারা ক্ষুধার জ্বালায় কান্না করছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

​ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম জানান, “আমাদের রান্নার জায়গা বা যাতায়াতের পথটি ঘিরে ফেলা হয়েছে। আমরা ঠিকমতো চলাচল করতে পারছি না। ঘরে ছোট তিনটি বাচ্চা নিয়ে আমরা গত তিন দিন ধরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছি এবং অনাহারে দিন কাটাচ্ছি।”

​অন্যদিকে অভিযুক্ত প্রতিপক্ষ সাহিদা বেগম দাবি করেন, “এই জায়গা আমাদের কেনা। আমরা আমাদের জমিতে বেড়া বা বাধা দিয়েছি। প্রয়োজন হলে পরে তা খুলে দেব।”

​ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় এলাকাবাসী থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে খোঁজখবর নেয়।
​এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, “রান্নার জায়গাটি অন্য বাড়ির সীমানায় পড়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের সাথে কথা হয়েছে, তারা বিষয়টি সমাধান করে দরজা বা যাতায়াত ব্যবস্থা খুলে দেবেন বলে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তরিকুল ইসলাম বলেন, ” বিষয়টি আমরা দেখছি। ভুক্তভোগীদের বিস্তারিত ঠিকানা পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

​এছাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন জানান, ” বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সাথে এমন অমানবিক আচরণ ও শিশুদের অনাহারে রাখার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকারকর্মীরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। অবিলম্বে এই অবরুদ্ধ অবস্থা নিরসন করে পরিবারটির নিরাপত্তা ও খাদ্যের নিশ্চয়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।