দেয়াঙ পাহাড় থেকে নেমে আসা বন্যহাতি পালের তান্ডবে কৃষি ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
- আপডেট সময় : ০৪:০২:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৪ ১৯২ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সন্ধ্যা নামলে দেয়াঙ পাহাড় থেকে নেমে আসা বন্যহাতির পাল আর মানুষের দ্বন্দ্ব যেন বেড়েই চলেছে। কখনো বসতঘরে হামলা, কখনো দোকানপাটে ভাংচুর আবার ভুলে হাতির সামনে পড়ে গেলে প্রাণটাই যাই গ্রামের বাসিন্দাদের । হাতির সাথে যুদ্ধ করেই যেন বাঁচতে হয় ।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক এলাকায় বন্য হাতির তাণ্ডবে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ২০ শতক জমির সবজির ক্ষেত।
জানা যায়, রাতে হাতির তাণ্ডবে গুয়াপঞ্চক এলাকার পুরাতন বিলের শীতকালীন সবজির বীজতলা ও লাউসহ শাক সবজির প্রায় ২০ শতক জমির ফসল নষ্ট করে ফেলে। এতে করে কৃষকের লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্তরা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, হাতির অত্যাচারে অতিষ্ঠ দেয়াং পাহাড় এর বাসিন্দারা। এখানে অধিকাংশ মানুষ চাষাবাদ করে জীবন নির্বাহ করে। হাতির পাল এসে সব ফসল নষ্ট করে দিয়ে যাই। প্রতিমুহূর্তে আমরা আতংকে থাকি।
ভুক্তভোগী কৃষক বাবু জানান, ২ শতক জমিতে লাউ গাছ লাগিয়েছিলাম। সেখানে প্রায় শতাধিক লাউ বিক্রয়ের উপযুক্ত হয়েছিল। হাতির তাণ্ডবে সব নষ্ট হয়ে গেছে । এছাড়াও অনেক কৃষকের জমির বীজতলা, চারা গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আমার ১০ হাজার টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অপরদিকে স্থানীয় দোকানী জয়নাল সওদাগর জানান, ভোরে দোকানে কাজ করছিলাম এমন সময় হাতির পাল আমার দোকানের চারপাশে ঘিরে ফেলে । প্রায় এক ঘন্টা পর হাতি চলে গেলে দোকান থেকে বের হতে পারি। পুরাতন সময়টা আতংকের মধ্যে ছিলাম।
বৈরাগ ইউনিয়নের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফারহানা আকতার জানান, এই ইউনিয়নের বিশেষ করে গুয়াপঞ্চক এলাকার কৃষকদের খুব প্রতিকূল পরিস্থিতিতে চাষাবাদ করতে হয়। হাতির তাণ্ডবে প্রতিদিন ধান , সবজি ক্ষেত নষ্ট হচ্ছে। এখন সবজি চাষের মৌসুম কিন্তু হাতির তাণ্ডবের মাঝে ফসল উৎপাদন করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইলিয়াস কাঞ্চন রুবেল জানান, হাতি আর মানুষের দ্বন্দ্ব যেন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে গুয়াপঞ্চক এলাকার বাসিন্দাদের জন্য ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বন বিভাগ থেকে জেলা প্রশাসন এর সাথে যোগাযোগ করেও কোন সুরাহা হয়নি। প্রতিনিয়ত ফলজ গাছ, সবজি ক্ষেত, ধান নষ্ট করছে হাতির পাল। হাতি সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে এর একটি স্থায়ী সমাধান হোক এটাই চাওয়া আমাদের।










