সরকারি জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ’ রাস্তাবিহীন মানবেতর জীবনযাপন
- আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
পাবনায় সরকারি জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণের মাধ্যমে প্রবাসী পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তা অবরুদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী পরিবারের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে জেলার সাঁথিয়া উপজেলাধীন কাশিনাথপুর আব্দুল লতিফ উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায়। ভুক্তভোগী প্রবাসী গোলাম মোস্তফা মাসুদ কাশিনাথপুর আব্দুল লতিফ উচ্চ বিদয়ালয় মাঠ সংলগ্ন বাসিন্দা ও অভিযুক্তরা কাশিনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী মুন্সির পরিবারের সদস্য। নিজের পরিবারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে রক্ষা করতে পাবনা জেলা প্রশাসকের নিকট ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ এর ১২ ধারা এবং ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিধিমালা ২০২৪ এর বিধি ৮ তৎসহ পরিশিষ্ট ১০ অনুযায়ী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী প্রবাসী গোলাম মোস্তফা মাসুদ।
ভুক্তভোগী গোলাম মোস্তফা মাসুদের অভিযোগের ভিত্তিতে ১৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে দ্বায়িত্ব প্রদান করে পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর চৌধুরী আল মাহমুদ। দ্বায়িত্বরত সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিজু তামান্নার নির্দেশনা অনুযায়ী ৩’রা ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কাশিনাথপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস কে লিখিত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশনা দেয় সাঁথিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি আসিফ রায়হান। উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করে কাশিনাথপুর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মাইনুল ইসলাম। উক্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সাঁথিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি আসিফ রায়হান নালিশী সম্পত্তি সরেজমিন তদন্ত / মাপজোখের জন্য সাঁভেয়ার জিয়াউর রহমান কে দ্বায়িত্ব প্রদান করলে ৯ এপ্রিল ২০২৬ ( বৃহস্পতিবার) উল্লেখিত জমি মাপজোখের জন্য উভয় পক্ষ কে নোটিশ প্রদান করেন তিনি। তবে নির্ধারিত সময়ে সার্ভেয়ার জিয়াউর রহমান উপস্থিত হলেও অভিযুক্তরা উপস্থিত হন নি।সরেজমিন তদন্ত শেষে সাঁথিয়া উপজেলা সার্ভেয়ার জিয়াউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, আমরা উভয়পক্ষকে নোটিশ দিলেও অভিযুক্ত পক্ষ উপস্থিত না হওয়ায় মাপজোখ করা সম্ভব হলো না। তবে সরেজমিন পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন যাবৎ কাশিনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কাশিনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী মুন্সির ছত্রছায়ায় অভিযুক্তরা আমাদের উপর নির্যাতন -নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ইতিমধ্যেই আমাদের রাস্তা রাস্তা বন্ধ সহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এবিষয়ে আমরা ন্যায্য বিচার চাই।
ভুক্তভোগী গোলাম মোস্তফা মাসুদ বলেন, অভিযুক্ত (ঠান্টু-পিতা মোয়াজ্জেম হোসেন, মোয়াজ্জেম হোসেন -পিতা বসারত প্রামাণিক, মোজাফফর মুন্সি, মজিদ মুন্সি,মিজান মুন্সি-সর্ব পিতা মৃত রহমান মুন্সি, লিটন মুন্সী -পিতা মৃত মতিন মুন্সি, তুষার মুন্সি -পিতা মৃত মোস্তফা মুন্সি, মাসুদ মুন্সি-পিতা মৃত সিদ্দিকুর রহমান) ‘রা আমার পরিবারের একমাত্র চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ১২ ফুট চওড়া ও ৪০ ফুট লম্বা মার্কেট নির্মাণ করেছে সরকারি রাস্তার জায়গা উপর। এমতাবস্থায় আমি জেলা প্রশাসক বরাবর উক্ত অবৈধ মার্কেট উচ্ছেদ কল্পে লিখিত অভিযোগ করেছি। আমার অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের আদেশের ভিত্তিতে কাশিনাথপুর উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) মাইনুল ইসলাম সাঁথিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড)’র নিকট সরেজমিন প্রতিবেদন দাখিল করে।এছাড়াও সাঁথিয়া উপজেলা সার্ভেয়ার জিয়াউর রহমান সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহে আসলে বিবাদী পক্ষ উপস্থিত হইনি। এমনকি অবৈধ দখল টিকিয়ে রাখতে তারা বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে যোগাযোগ ও আমি সহ আমার পরিবারকে অপহরণ পূর্বক গুম ও খুনের হুমকি প্রদান করছে।এমতাবস্থায় আমি ও আমার পরিবার ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট নিজেদের নিরাপত্তা চাচ্ছি। সেইসাথে অভিযুক্তদের শাস্তির আওতায় আনতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
তবে এবিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি। তবে অভিযোগ আমলে অধিকতর তদন্ত পুর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছে সাঁথিয়া প্রশাসন।









