ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

বিষমুক্ত আম চাষে সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুললো ঠাকুরগাঁওয়ে- রপ্তানিমুখী কৃষিতে।

মোঃ হাবিব ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৫৯:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫ ৩৩৯ বার পড়া হয়েছে

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় প্রথমবারের মতো ‘উত্তম কৃষি চর্চা’ বা GAP (Good Agricultural Practices) পদ্ধতিতে বিষমুক্ত আম চাষ শুরু হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ‘পার্টনার প্রকল্প’-এর আওতায় এই কার্যক্রম বালিয়াডাঙ্গীতে প্রথমবার মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড় পলাশবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক আবু বেলাল তার তিন বিঘা জমিতে বানানা ম্যাংগো ও আম্রপালি জাতের আম গাছ লাগিয়েছেন। এই আম বাগানে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ, হলুদ আঠালো ফাঁদ, ফল ব্যাগিং, নিরাপদ বালাইনাশক ব্যবহার, এবং বাগানের চারপাশে নেট দিয়ে ঘেরা সহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, সারাদেশে ১৫টি ফসল— যার মধ্যে ১০টি সবজি এবং ৫টি ফল— উত্তম কৃষি চর্চা বা GAP পদ্ধতির আওতায় আনা হয়েছে। বালিয়াডাঙ্গীতে আম দিয়ে এর যাত্রা শুরু হলো। এর মাধ্যমে নিরাপদ, বিষমুক্ত ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন করা যাবে, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য লাভজনক হবে এবং দেশের বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি করবে।
কৃষক আবু বেলাল জানান, “আমি প্রথমবারের মতো এই পদ্ধতিতে আম চাষ শুরু করেছি। প্রযুক্তির সহায়তা এবং কৃষি অফিস থেকে পাওয়া পরামর্শ আমার কাজকে সহজ করেছে। এখন আমি আশাবাদী যে, এই পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে রপ্তানির জন্য আম উৎপাদন করতে পারবো।”
এদিকে, বালিয়াডাঙ্গীর অন্যান্য কৃষকরাও এই পদ্ধতিতে আম চাষ করার জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। স্থানীয়রা বলছেন, আবু বেলালের ফলন দেখে তারা আগ্রহী হয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির সাহায্য নিতে চান।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি অফিস থেকে চাষিদের সবধরনের কারিগরি পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করছেন এবং চাষিদের পাশে থেকে কাজ করছেন।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন সোহেল বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করে তোলা। GAP পদ্ধতি আন্তর্জাতিক মানের কৃষি প্রযুক্তি, যা কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে এবং দেশে বিষমুক্ত ফল ও সবজি উৎপাদন নিশ্চিত করবে। আমের মাধ্যমে বালিয়াডাঙ্গীতে এর যাত্রা শুরু হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আশাবাদী।”

এছাড়া, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সকল ধরনের পরামর্শ, সহযোগিতা এবং উৎপাদনের জন্য প্রযুক্তির সহায়তা দিচ্ছে। এই পদ্ধতি বাংলাদেশে কৃষির উন্নতি এবং দেশের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বিষমুক্ত আম চাষে সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুললো ঠাকুরগাঁওয়ে- রপ্তানিমুখী কৃষিতে।

আপডেট সময় : ১১:৫৯:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় প্রথমবারের মতো ‘উত্তম কৃষি চর্চা’ বা GAP (Good Agricultural Practices) পদ্ধতিতে বিষমুক্ত আম চাষ শুরু হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ‘পার্টনার প্রকল্প’-এর আওতায় এই কার্যক্রম বালিয়াডাঙ্গীতে প্রথমবার মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড় পলাশবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক আবু বেলাল তার তিন বিঘা জমিতে বানানা ম্যাংগো ও আম্রপালি জাতের আম গাছ লাগিয়েছেন। এই আম বাগানে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ, হলুদ আঠালো ফাঁদ, ফল ব্যাগিং, নিরাপদ বালাইনাশক ব্যবহার, এবং বাগানের চারপাশে নেট দিয়ে ঘেরা সহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, সারাদেশে ১৫টি ফসল— যার মধ্যে ১০টি সবজি এবং ৫টি ফল— উত্তম কৃষি চর্চা বা GAP পদ্ধতির আওতায় আনা হয়েছে। বালিয়াডাঙ্গীতে আম দিয়ে এর যাত্রা শুরু হলো। এর মাধ্যমে নিরাপদ, বিষমুক্ত ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন করা যাবে, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য লাভজনক হবে এবং দেশের বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি করবে।
কৃষক আবু বেলাল জানান, “আমি প্রথমবারের মতো এই পদ্ধতিতে আম চাষ শুরু করেছি। প্রযুক্তির সহায়তা এবং কৃষি অফিস থেকে পাওয়া পরামর্শ আমার কাজকে সহজ করেছে। এখন আমি আশাবাদী যে, এই পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে রপ্তানির জন্য আম উৎপাদন করতে পারবো।”
এদিকে, বালিয়াডাঙ্গীর অন্যান্য কৃষকরাও এই পদ্ধতিতে আম চাষ করার জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। স্থানীয়রা বলছেন, আবু বেলালের ফলন দেখে তারা আগ্রহী হয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির সাহায্য নিতে চান।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি অফিস থেকে চাষিদের সবধরনের কারিগরি পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করছেন এবং চাষিদের পাশে থেকে কাজ করছেন।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন সোহেল বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করে তোলা। GAP পদ্ধতি আন্তর্জাতিক মানের কৃষি প্রযুক্তি, যা কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে এবং দেশে বিষমুক্ত ফল ও সবজি উৎপাদন নিশ্চিত করবে। আমের মাধ্যমে বালিয়াডাঙ্গীতে এর যাত্রা শুরু হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আশাবাদী।”

এছাড়া, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সকল ধরনের পরামর্শ, সহযোগিতা এবং উৎপাদনের জন্য প্রযুক্তির সহায়তা দিচ্ছে। এই পদ্ধতি বাংলাদেশে কৃষির উন্নতি এবং দেশের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।