ঢাকা ১১:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

গোদাগাড়ীতে ধান-চাল সরবরাহে প্রতারণা

রাজশাহী প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময় : ০৫:০০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জুন ২০২৫ ২২৯ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে ভয়াবহ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র স্থানীয় দরিদ্র কৃষক ও আদিবাসীদের দিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলিয়ে তাদের নামে সরকারি গুদামে চাল সরবরাহের নাম করে কোটি টাকার লেনদেন চালাচ্ছে।

উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের ধান-চাল ব্যবসায়ী আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। তিনি সাধারণ ও দরিদ্র কৃষকদের মাত্র ৫০০ টাকার লোভ দেখিয়ে ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলিয়ে নিচ্ছেন।

আদিবাসী অনুকুল সরদার জানান, আতাউর তাকে কাকনহাট কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে নিয়ে গিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলান। এরপরেই তিনি বুঝতে পারেন, তার নামে গুদামে ধান সরবরাহ দেখিয়ে বড় ধরনের কারসাজি করা হচ্ছে।রাজশাহী ভ্রমণ গাইড

অনুকুলের দাবি, তাঁদের এলাকার প্রায় ৩০-৪০ জনকে একইভাবে একাউন্ট খুলিয়ে চেক বইয়ের পাতায় আগেই স্বাক্ষর নিয়ে রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, আতাউর রহমান ‘সাথী চালকল’-এর নামে ৩৬ মেট্রিক টন চাল উপজেলা খাদ্য গুদামে সরবরাহ করেছেন, যা তার মিলের উৎপাদন সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। তিনি বাইরের নিম্নমানের চাল কিনে নিজের নামে সরবরাহ দেখিয়ে গুদামে জমা দেন।

এ বিষয়ে আতাউর রহমান নিজেই স্বীকার করেন, “সরকারি দামে লাভ কম হওয়ায় বাইরের এলাকা থেকে ধান কিনে গুদামে দিই। স্থানীয়দের একাউন্ট ব্যবহার করি, তাদের ৫০০ টাকা করে দিই।”

তিনি আরও বলেন, “খাদ্য গুদামের কর্মকর্তারা সব জানেন। খাদ্য নিয়ন্ত্রণক শফিকুল ইসলাম ও ওসিএলএসডি নাজমুল আলমও জানেন, কিন্তু কিছু বলেন না।”

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, বিদায়ী খাদ্য নিয়ন্ত্রক শফিকুল ইসলাম, ওসিএলএসডি নাজমুল আলম, এক মাদক ব্যবসায়ী এবং সরকারি চাকরিজীবীদের নিয়ে গঠিত একটি চক্র ধান-চাল কেনাবেচার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে নিজেরা নিম্নমানের ধান ও চাল গুদামে দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে বিদায়ী ও বর্তমান খাদ্য নিয়ন্ত্রক, গুদাম কর্মকর্তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, “ব্যাংক একাউন্ট খোলা ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ দিতে হবে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, নতুন খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও ওসিএলএসডিকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গোদাগাড়ীতে ধান-চাল সরবরাহে প্রতারণা

আপডেট সময় : ০৫:০০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জুন ২০২৫

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে ভয়াবহ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র স্থানীয় দরিদ্র কৃষক ও আদিবাসীদের দিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলিয়ে তাদের নামে সরকারি গুদামে চাল সরবরাহের নাম করে কোটি টাকার লেনদেন চালাচ্ছে।

উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের ধান-চাল ব্যবসায়ী আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। তিনি সাধারণ ও দরিদ্র কৃষকদের মাত্র ৫০০ টাকার লোভ দেখিয়ে ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলিয়ে নিচ্ছেন।

আদিবাসী অনুকুল সরদার জানান, আতাউর তাকে কাকনহাট কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে নিয়ে গিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলান। এরপরেই তিনি বুঝতে পারেন, তার নামে গুদামে ধান সরবরাহ দেখিয়ে বড় ধরনের কারসাজি করা হচ্ছে।রাজশাহী ভ্রমণ গাইড

অনুকুলের দাবি, তাঁদের এলাকার প্রায় ৩০-৪০ জনকে একইভাবে একাউন্ট খুলিয়ে চেক বইয়ের পাতায় আগেই স্বাক্ষর নিয়ে রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, আতাউর রহমান ‘সাথী চালকল’-এর নামে ৩৬ মেট্রিক টন চাল উপজেলা খাদ্য গুদামে সরবরাহ করেছেন, যা তার মিলের উৎপাদন সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। তিনি বাইরের নিম্নমানের চাল কিনে নিজের নামে সরবরাহ দেখিয়ে গুদামে জমা দেন।

এ বিষয়ে আতাউর রহমান নিজেই স্বীকার করেন, “সরকারি দামে লাভ কম হওয়ায় বাইরের এলাকা থেকে ধান কিনে গুদামে দিই। স্থানীয়দের একাউন্ট ব্যবহার করি, তাদের ৫০০ টাকা করে দিই।”

তিনি আরও বলেন, “খাদ্য গুদামের কর্মকর্তারা সব জানেন। খাদ্য নিয়ন্ত্রণক শফিকুল ইসলাম ও ওসিএলএসডি নাজমুল আলমও জানেন, কিন্তু কিছু বলেন না।”

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, বিদায়ী খাদ্য নিয়ন্ত্রক শফিকুল ইসলাম, ওসিএলএসডি নাজমুল আলম, এক মাদক ব্যবসায়ী এবং সরকারি চাকরিজীবীদের নিয়ে গঠিত একটি চক্র ধান-চাল কেনাবেচার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে নিজেরা নিম্নমানের ধান ও চাল গুদামে দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে বিদায়ী ও বর্তমান খাদ্য নিয়ন্ত্রক, গুদাম কর্মকর্তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, “ব্যাংক একাউন্ট খোলা ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ দিতে হবে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, নতুন খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও ওসিএলএসডিকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে