ঢাকা ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল ট্রলিও দিলো না, চাদরে মুড়িয়ে মরদেহ নিল পরিবার।

মু,হেলাল আহম্মেদ(রিপন) পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:০১:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২০৫ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল ট্রলিও দ

পটুয়াখালী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মো. জাকারিয়া (২২) নামের এক কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর পর তার মরদেহ বহনের জন্য সদর হাসপাতালের ট্রলি না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন মৃত্যুের পরিবার। পরে উপায় আপায় না পেয়ে চাদরে মুড়িয়ে মরদেহ বহন করেন মৃত্যুের পরিবার।

গত রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার সময় পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঐ শিক্ষার্থী মারা যান। এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে তাকে পটুয়াখালী সদর  হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়।

খোজ নিয়ে জানা যায়, মো,জাকারিয়া পটুয়াখালী সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি দুমকি উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের আঠারোগাছিয়া গ্রামের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। বাবা মো. জাহাঙ্গীর আলম ও মা হোসনেয়ারা বেগমের একমাত্র ছেলে ছিলেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহ পটুয়াখালী জেলা শাখার সহ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মো,জাকারিয়ার মা হোসনেয়ারা বেগম ছেলে হারিয়ে  কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, টাকার বিনিময় হলেও আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দেন। মারা যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে আমার ছেলেটা বারান্দার বেড থেকে বলছিল, ‘আমারে নিচে নামাইয়া দাও।’ কিছুক্ষণের মধ্যেই সে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

এদিকে বাবা মো, জাহাঙ্গীর আলম হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলেকে পটুঃসদর হাসপাতালে ভর্তি করার পর কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। ভালো ডাক্তার পর্যন্ত পাইনি আমরা। নার্সদের কাছে বারবার অনুরোধ করলেও তারা কোনো সাড়া দেয়নি ডাকে। আমার ছেলে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। মৃত্যুর পর শেষ বারের মতো মরদেহ বহনের জন্য ট্রলি চেয়েছিলাম হাসপাতাল কতৃপক্ষের কাছে সেটিও হাসপাতাল দেয়নি।

এ ব্যপারে সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত নার্সদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি তাই বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল ট্রলিও দিলো না, চাদরে মুড়িয়ে মরদেহ নিল পরিবার।

আপডেট সময় : ০৬:০১:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল ট্রলিও দ

পটুয়াখালী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মো. জাকারিয়া (২২) নামের এক কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর পর তার মরদেহ বহনের জন্য সদর হাসপাতালের ট্রলি না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন মৃত্যুের পরিবার। পরে উপায় আপায় না পেয়ে চাদরে মুড়িয়ে মরদেহ বহন করেন মৃত্যুের পরিবার।

গত রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার সময় পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঐ শিক্ষার্থী মারা যান। এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে তাকে পটুয়াখালী সদর  হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়।

খোজ নিয়ে জানা যায়, মো,জাকারিয়া পটুয়াখালী সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি দুমকি উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের আঠারোগাছিয়া গ্রামের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। বাবা মো. জাহাঙ্গীর আলম ও মা হোসনেয়ারা বেগমের একমাত্র ছেলে ছিলেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহ পটুয়াখালী জেলা শাখার সহ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মো,জাকারিয়ার মা হোসনেয়ারা বেগম ছেলে হারিয়ে  কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, টাকার বিনিময় হলেও আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দেন। মারা যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে আমার ছেলেটা বারান্দার বেড থেকে বলছিল, ‘আমারে নিচে নামাইয়া দাও।’ কিছুক্ষণের মধ্যেই সে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

এদিকে বাবা মো, জাহাঙ্গীর আলম হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলেকে পটুঃসদর হাসপাতালে ভর্তি করার পর কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। ভালো ডাক্তার পর্যন্ত পাইনি আমরা। নার্সদের কাছে বারবার অনুরোধ করলেও তারা কোনো সাড়া দেয়নি ডাকে। আমার ছেলে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। মৃত্যুর পর শেষ বারের মতো মরদেহ বহনের জন্য ট্রলি চেয়েছিলাম হাসপাতাল কতৃপক্ষের কাছে সেটিও হাসপাতাল দেয়নি।

এ ব্যপারে সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত নার্সদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি তাই বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি