ঢাকা ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাপাহারে পূর্ব শত্রুতার জেরে দম্পতির ওপর হামলা, গুরুতর আহত রাঙামাটিতে পুলিশের জালে ২২ মামলার আসামি, ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৯ জন রাঙ্গামাটি কর্ণফুলী নদী থেকে নিখোঁজ নারীর মরদেহ উদ্ধার স্বপ্নসারথি দলের প্রথম পর্বের সমাপনী অনুষ্ঠান ও সনদ বিতরণ কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের অভিযানে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেপ্তার-২ রাজবাড়ীতে হ্যান্ডকাফসহ আসামি ছিনিয়ে নিল মাদককারবারিরা বীরগঞ্জে কোল্ড স্টোরেজে আলুর ভাড়া কমানোর দাবিতে মানববন্ধন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আখ্যা দেওয়ার প্রতিবাদে গোপালগঞ্জে মানববন্ধন নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালের নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ, আহবায়ক আওলাদ, সদস্য সচিব তারেক বাবা দিবসে স্মৃতির গভীরে এক সন্তানের আর্তি “ওপারে থাকা আমার সুপারহিরো”

গাইবান্ধায় ট্রাফিক সার্জেন্ট ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে মাদকসেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ, এলাকায় চাঞ্চল্য

মোঃ মিঠু মিয়া গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:১৬:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধায় কর্মরত এক ট্রাফিক সার্জেন্ট এবং এক জনপ্রিয় নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে মাদকসেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ ওঠা ট্রাফিক সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরকে গত বুধবার (১৭ জুন) রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভার হরিণমারী এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে স্থানীয়দের হাতে অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই রাতে সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরের সঙ্গে নিঝুম নামে এক নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটর বাসাটিতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা বাসাটি ঘিরে ফেলেন এবং তাদের বের হতে বাধা দেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মহল তৎপর হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে গভীর রাতে অভিযুক্তদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গাইবান্ধায় দায়িত্ব পালনকালে সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরের সঙ্গে রঞ্জুসহ কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সূত্র ধরে পলাশবাড়ী পৌর শহরের হরিণমারী এলাকার ভাড়া বাসাটিতে বিভিন্ন সময় আড্ডা ও মাদকসেবনের আসর বসত বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে ট্রাফিক সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী ঘটনার সত্যতা দাবি করে জানান, সংশ্লিষ্ট নারী দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা সেবনের সঙ্গে জড়িত বলে এলাকায় প্রচলিত অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণ অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ ওঠার পর প্রাথমিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে ট্রাফিক সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গাইবান্ধায় ট্রাফিক সার্জেন্ট ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে মাদকসেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ, এলাকায় চাঞ্চল্য

আপডেট সময় : ০৬:১৬:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

গাইবান্ধায় কর্মরত এক ট্রাফিক সার্জেন্ট এবং এক জনপ্রিয় নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে মাদকসেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ ওঠা ট্রাফিক সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরকে গত বুধবার (১৭ জুন) রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভার হরিণমারী এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে স্থানীয়দের হাতে অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই রাতে সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরের সঙ্গে নিঝুম নামে এক নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটর বাসাটিতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা বাসাটি ঘিরে ফেলেন এবং তাদের বের হতে বাধা দেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মহল তৎপর হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে গভীর রাতে অভিযুক্তদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গাইবান্ধায় দায়িত্ব পালনকালে সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরের সঙ্গে রঞ্জুসহ কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সূত্র ধরে পলাশবাড়ী পৌর শহরের হরিণমারী এলাকার ভাড়া বাসাটিতে বিভিন্ন সময় আড্ডা ও মাদকসেবনের আসর বসত বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে ট্রাফিক সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী ঘটনার সত্যতা দাবি করে জানান, সংশ্লিষ্ট নারী দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা সেবনের সঙ্গে জড়িত বলে এলাকায় প্রচলিত অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণ অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ ওঠার পর প্রাথমিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে ট্রাফিক সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।