ঢাকা ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

৪০ দিন পর নিখোঁজ সজীবের সন্ধান, মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিল পুলিশ

মোঃ শিহাব উদ্দিন গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:১৪:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ ৮৫ বার পড়া হয়েছে

প্রায় ৪০ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর সজীব (২২) নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের সন্ধান পেয়েছে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। পরে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ছেলেকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সজীবের মা।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পুরাতন মানিকদাহ এলাকার বাসিন্দা সজীব কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও শান্ত স্বভাবের। তিনি প্রায়ই গোপালগঞ্জ পুলিশ অফিস ও সদর থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করতেন। পুলিশের পোশাক পরা কাউকে দেখলেই স্যালুট দিতেন।

গত ১৫ মে থেকে সজীব নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ২০ মে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর তাকে খুঁজে বের করতে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ।

এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরিফ হায়দার নামে এক ব্লগারের একটি ভিডিও পুলিশের নজরে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তি ঢাকার মগবাজার ফ্লাইওভারের এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং নিজেকে ‘সজীব পুলিশ’ বলে পরিচয় দিচ্ছেন। ভিডিওটি দেখার পর গোপালগঞ্জ সদর থানার একটি দল ঢাকায় গিয়ে মগবাজার, মালিবাগ, রমনা, পল্টন ও কাকরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ চালায়। তবে তখনও তার সন্ধান মেলেনি।

পরে গোপালগঞ্জ সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নয়ন চন্দ্র দেবনাথ রাজধানীর রমনা, শাহবাগ, পল্টন ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন ইউনিটে সজীবের বর্ণনা পাঠানো হয়। ডিএমপি কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে ট্রাফিক ও ক্রাইম বিভাগেও বার্তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভিডিও প্রকাশকারী ব্লগারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হয়।

দীর্ঘ অনুসন্ধানের একপর্যায়ে গত ২৪ জুন বিকেলে সজীবের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গোপালগঞ্জ সদর থানা সূত্র জানায়, সজীবকে তার মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার সময় ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের উৎকণ্ঠার পর ছেলেকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি প্রকাশ করেন।

সজীবের সন্ধান পেতে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতার প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

৪০ দিন পর নিখোঁজ সজীবের সন্ধান, মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিল পুলিশ

আপডেট সময় : ০৫:১৪:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

প্রায় ৪০ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর সজীব (২২) নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের সন্ধান পেয়েছে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। পরে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ছেলেকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সজীবের মা।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পুরাতন মানিকদাহ এলাকার বাসিন্দা সজীব কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও শান্ত স্বভাবের। তিনি প্রায়ই গোপালগঞ্জ পুলিশ অফিস ও সদর থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করতেন। পুলিশের পোশাক পরা কাউকে দেখলেই স্যালুট দিতেন।

গত ১৫ মে থেকে সজীব নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ২০ মে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর তাকে খুঁজে বের করতে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ।

এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরিফ হায়দার নামে এক ব্লগারের একটি ভিডিও পুলিশের নজরে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তি ঢাকার মগবাজার ফ্লাইওভারের এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং নিজেকে ‘সজীব পুলিশ’ বলে পরিচয় দিচ্ছেন। ভিডিওটি দেখার পর গোপালগঞ্জ সদর থানার একটি দল ঢাকায় গিয়ে মগবাজার, মালিবাগ, রমনা, পল্টন ও কাকরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ চালায়। তবে তখনও তার সন্ধান মেলেনি।

পরে গোপালগঞ্জ সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নয়ন চন্দ্র দেবনাথ রাজধানীর রমনা, শাহবাগ, পল্টন ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন ইউনিটে সজীবের বর্ণনা পাঠানো হয়। ডিএমপি কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে ট্রাফিক ও ক্রাইম বিভাগেও বার্তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভিডিও প্রকাশকারী ব্লগারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হয়।

দীর্ঘ অনুসন্ধানের একপর্যায়ে গত ২৪ জুন বিকেলে সজীবের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গোপালগঞ্জ সদর থানা সূত্র জানায়, সজীবকে তার মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার সময় ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের উৎকণ্ঠার পর ছেলেকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি প্রকাশ করেন।

সজীবের সন্ধান পেতে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতার প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।