ঢাকা ০৮:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

কাঁঠালিয়া বছরের পর বছর সংস্কারহীন গুরুত্বপূর্ণ সিকদারহাট-ভাণ্ডারিয়া সড়কের বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগে প্রায় ২০ হাজার মানুষের চলাচল

ঝালকাঠি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:২৩:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬ ৮০ বার পড়া হয়েছে

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার ১নং চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নের সিকদারহাট ব্রিজ থেকে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার সীমানা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা ও ভাঙাচোরা এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা।

স্থানীয়দের মতে, প্রায় ৪ থেকে ৬ হাজার পরিবারের বসবাস এই ইউনিয়নে। জনসংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ ভাণ্ডারিয়াসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। অথচ বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন চরম বেহাল অবস্থায় রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও ঢালাই ভেঙে মাটি বের হয়ে এসেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়, সৃষ্টি হয় কাদা ও জলাবদ্ধতা। এতে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এ সড়কে।

গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের পাশে একটি কলেজ, একটি মাদ্রাসা, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার রয়েছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে এই ভাঙাচোরা সড়ক ব্যবহার করছেন। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে দিন দিন সড়কের অবস্থা আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক মাহফুজ গাজী বলেন, “সিকদারহাট-ভাণ্ডারিয়া সড়কটি এ অঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরাও দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে।

এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, আইডি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এতদিন সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে জটিলতা নিরসনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সমস্যা সমাধান হলেই দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, হাজারো মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের একমাত্র ভরসা এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কাঁঠালিয়া বছরের পর বছর সংস্কারহীন গুরুত্বপূর্ণ সিকদারহাট-ভাণ্ডারিয়া সড়কের বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগে প্রায় ২০ হাজার মানুষের চলাচল

আপডেট সময় : ০২:২৩:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার ১নং চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নের সিকদারহাট ব্রিজ থেকে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার সীমানা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা ও ভাঙাচোরা এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা।

স্থানীয়দের মতে, প্রায় ৪ থেকে ৬ হাজার পরিবারের বসবাস এই ইউনিয়নে। জনসংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ ভাণ্ডারিয়াসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। অথচ বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন চরম বেহাল অবস্থায় রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও ঢালাই ভেঙে মাটি বের হয়ে এসেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়, সৃষ্টি হয় কাদা ও জলাবদ্ধতা। এতে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এ সড়কে।

গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের পাশে একটি কলেজ, একটি মাদ্রাসা, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার রয়েছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে এই ভাঙাচোরা সড়ক ব্যবহার করছেন। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে দিন দিন সড়কের অবস্থা আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক মাহফুজ গাজী বলেন, “সিকদারহাট-ভাণ্ডারিয়া সড়কটি এ অঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরাও দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে।

এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, আইডি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এতদিন সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে জটিলতা নিরসনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সমস্যা সমাধান হলেই দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, হাজারো মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের একমাত্র ভরসা এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।