ঢাকা ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

অভিনব প্রতারণা পাবনা সমাজসেবা অধিদপ্তরে

শুকরাজ সোহেল, পাবনা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:২২:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬ ৯৭ বার পড়া হয়েছে

পাবনায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিশেষ কল্যাণ তহবিলের সরকারি অনুদান আত্মসাতের অভিযোগে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, সুস্থ ব্যক্তিদের কাগজ-কলমে ক্যানসার রোগী দেখিয়ে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে সরকারি অনুদানের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পাবনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অফিস সহায়ক (পিয়ন) মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বেড়া উপজেলার তৎকালীন সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মোতালেব সরকার তদন্ত করে রাজশাহী বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বেড়া উপজেলার রানীগ্রামের বাসিন্দা মো. শাকিল খান সম্প্রতি তার স্ত্রী লিপি খাতুনের নামে নতুন ব্যাংক হিসাব খুলতে গিয়ে জানতে পারেন, রূপালী ব্যাংকের নগরবাড়ি ঘাট শাখায় তার স্ত্রীর নামে আগে থেকেই একটি সচল হিসাব রয়েছে। পরে হিসাবের স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ওই হিসাবে সরকারি অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা জমা হয় এবং দুই দিন পর পাবনা করপোরেট শাখা থেকে পুরো টাকা উত্তোলন করা হয়। অথচ এ বিষয়ে লিপি খাতুন কিংবা তার পরিবারের কোনো ধারণাই ছিল না।

ঘটনার অনুসন্ধানে শাকিল খান সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, তার সম্পূর্ণ সুস্থ স্ত্রীকে কাগজে ক্যানসার আক্রান্ত রোগী দেখিয়ে বিশেষ কল্যাণ তহবিলের অনুদান নেওয়া হয়েছে। পরে তিনি লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায় এবং গত ২৫ জুন বিষয়টি বিভাগীয় কার্যালয়ে জানানো হয়।

শাকিল খান অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবেশী হওয়ার সুযোগ নিয়ে মোবারক হোসেন তার স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি সংগ্রহ করেন। পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সরকারি অনুদানের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের প্রতারণা শুধু একটি পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দরিদ্র ও অসচেতন মানুষের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভুয়া মেডিকেল সনদ তৈরি, অজ্ঞাতে ব্যাংক হিসাব খুলে সরকারি অনুদান উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে আরও একাধিক ঘটনায়। পাশাপাশি প্রকৃত ক্যানসার, কিডনি ও লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগীদের সরকারি সহায়তা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

একই গ্রামের বাসিন্দা কামরুল ইসলাম জানান, তার বাবার ক্যানসারের অনুদানের ৫০ হাজার টাকা পেতে ২০২২ সালে মোবারক হোসেনকে ২০ হাজার টাকা অগ্রিম দিতে হয়েছিল।

অপর ভুক্তভোগী হাসি আক্তার বলেন, তার ছেলে সাব্বির কোনো জটিল রোগে আক্রান্ত নয়। অথচ তাকে রোগী দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অন্যদিকে তার ক্যানসার আক্রান্ত স্বামীর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েও দীর্ঘদিন সরকারি সহায়তা পাননি।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগীরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আত্মসাৎ হওয়া সরকারি অর্থ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

অভিনব প্রতারণা পাবনা সমাজসেবা অধিদপ্তরে

আপডেট সময় : ০৯:২২:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

পাবনায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিশেষ কল্যাণ তহবিলের সরকারি অনুদান আত্মসাতের অভিযোগে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, সুস্থ ব্যক্তিদের কাগজ-কলমে ক্যানসার রোগী দেখিয়ে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে সরকারি অনুদানের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পাবনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অফিস সহায়ক (পিয়ন) মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বেড়া উপজেলার তৎকালীন সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মোতালেব সরকার তদন্ত করে রাজশাহী বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বেড়া উপজেলার রানীগ্রামের বাসিন্দা মো. শাকিল খান সম্প্রতি তার স্ত্রী লিপি খাতুনের নামে নতুন ব্যাংক হিসাব খুলতে গিয়ে জানতে পারেন, রূপালী ব্যাংকের নগরবাড়ি ঘাট শাখায় তার স্ত্রীর নামে আগে থেকেই একটি সচল হিসাব রয়েছে। পরে হিসাবের স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ওই হিসাবে সরকারি অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা জমা হয় এবং দুই দিন পর পাবনা করপোরেট শাখা থেকে পুরো টাকা উত্তোলন করা হয়। অথচ এ বিষয়ে লিপি খাতুন কিংবা তার পরিবারের কোনো ধারণাই ছিল না।

ঘটনার অনুসন্ধানে শাকিল খান সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, তার সম্পূর্ণ সুস্থ স্ত্রীকে কাগজে ক্যানসার আক্রান্ত রোগী দেখিয়ে বিশেষ কল্যাণ তহবিলের অনুদান নেওয়া হয়েছে। পরে তিনি লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায় এবং গত ২৫ জুন বিষয়টি বিভাগীয় কার্যালয়ে জানানো হয়।

শাকিল খান অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবেশী হওয়ার সুযোগ নিয়ে মোবারক হোসেন তার স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি সংগ্রহ করেন। পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সরকারি অনুদানের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের প্রতারণা শুধু একটি পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দরিদ্র ও অসচেতন মানুষের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভুয়া মেডিকেল সনদ তৈরি, অজ্ঞাতে ব্যাংক হিসাব খুলে সরকারি অনুদান উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে আরও একাধিক ঘটনায়। পাশাপাশি প্রকৃত ক্যানসার, কিডনি ও লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগীদের সরকারি সহায়তা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

একই গ্রামের বাসিন্দা কামরুল ইসলাম জানান, তার বাবার ক্যানসারের অনুদানের ৫০ হাজার টাকা পেতে ২০২২ সালে মোবারক হোসেনকে ২০ হাজার টাকা অগ্রিম দিতে হয়েছিল।

অপর ভুক্তভোগী হাসি আক্তার বলেন, তার ছেলে সাব্বির কোনো জটিল রোগে আক্রান্ত নয়। অথচ তাকে রোগী দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অন্যদিকে তার ক্যানসার আক্রান্ত স্বামীর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েও দীর্ঘদিন সরকারি সহায়তা পাননি।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগীরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আত্মসাৎ হওয়া সরকারি অর্থ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।