নওগাঁ সদরে ভাগিদারদের সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারের দাবি
- আপডেট সময় : ০৬:৫৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ৬৬ বার পড়া হয়েছে
নওগাঁ সদর উপজেলার পিরোজপুর মৌজায় পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল, পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোনালিসা হাবিব।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) নওগাঁ শহরের সুলতানপুর বটতলা মোড়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এসব অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে মোনালিসা হাবিব দাবি করেন, দলিল ও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত পিরোজপুর মৌজার একাধিক দাগের জমি তিনি ও অন্যান্য ওয়ারিশ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। তাদের নানা মরহুম মফিজ উদ্দিন আহমেদের মৃত্যুর পর পারিবারিকভাবে প্রথমে মৌখিক এবং পরে অধিকাংশ ওয়ারিশের সম্মতিতে লিখিত বণ্টনের মাধ্যমে যার যার অংশ বুঝে নেওয়া হয়।
তার অভিযোগ, সম্প্রতি আমন ধান রোপণের মৌসুমে প্রথম পক্ষের উত্তরসূরি মাসুম ও তার স্ত্রী, নওগাঁ পুলিশ লাইনে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক শিউলী, অন্যান্য ওয়ারিশকে না জানিয়ে তার অংশের জমিতে জোরপূর্বক দখল নেন। এ সময় পুলিশি প্রভাব খাটিয়ে বর্গাদারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, জমির সীমানা চিহ্ন অপসারণ, সাইনবোর্ড খুলে ফেলা এবং জমিতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
তিনি জানান, এ ঘটনায় গত ২৯ মার্চ নওগাঁ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ, ৫ মে পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন এবং ২১ জুলাই একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তার দাবি, পুলিশ সুপারের নির্দেশে একজন তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত করলেও তদন্ত চলমান অবস্থায়ও অভিযুক্তরা পুনরায় জমি দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বগুড়ার তালোড়া এলাকায় অবস্থিত প্রায় ৫ বিঘা বণ্টনযোগ্য সম্পত্তির একটি অংশ অন্যান্য ওয়ারিশকে না জানিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দাগের জমির সামনের অংশও জোরপূর্বক দখলে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন।
মোনালিসা হাবিব বলেন, বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন। তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত, দখলমুক্তভাবে সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়া এবং তার ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার (আইটিসি) নওগাঁর কমান্ড্যান্ট পুলিশ সুপার তারেক আহম্মেদ বিপিএম (সেবা) বলেন, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করছেন পুলিশ পরিদর্শক মো. মোস্তফা কামাল। তদন্তে পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক শিউলীর বক্তব্য জানতে প্রথমে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে তার কর্মস্থলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে পরবর্তীতে তিনি মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিষয়টি তার স্বামী ও তার পরিবারের ওয়ারিশদের বিষয়।
তিনি বলেন, “আমি একজন সরকারি চাকরিজীবী। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে আমি জানি আইন অনুযায়ী কী করা যায় আর কী করা যায় না। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”















