ঢাকা ০১:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈশ্বরদীতে বিএনপি জামায়াতের সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৪ ২৫৪ বার পড়া হয়েছে

পাবনার ঈশ্বরদীতে টিসিবির কার্ড বণ্টন করা নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে ৮ জন আহত হয়েছেন। এ সময় গুলিবর্ষণের ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ।

বুধবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহতরা হলেন- লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক বীরু মোল্লা, রাজিব মোল্লা, বিএনপি কর্মী মিলন বিশ্বাস, রাব্বি মোল্লা, জামায়াত কর্মী হাসান, মো. তোফায়েল, মো. একরাম ও ফিরোজ ফকির।

লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারী জিল্লুর রহমান জানান, আমরা বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা আলোচনা সাপেক্ষে লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে টিসিবি কার্ড বরাদ্দের উদ্যোগ গ্রহণ করি। বুধবার বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বিএনপি নেতা বিরু মোল্লা ও জামায়াতের যুব সংগঠনের ইউনিয়ন সেক্রেটারী আকরাম এ নিয়ে আলোচনার সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মিজানুর রহমানের মধ্যস্থতায় সমাধান হয়।

তিনি আরও জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ পর বিএনপির লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে জামায়াতের যুব সংগঠনের ইউনিয়ন সেক্রেটারী আকরাম আলীর বাড়ির দিকে রওনা হলে রাস্তায় তাদের আকরাম আলীর লোকজন বাধা দেন। এতে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে সেখানে গুলিবষর্ণের ঘটনা ঘটে। তবে গুলিতে কেউ হতাহত হয়নি। গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিএনপি-জামায়াত নেতারা একে অপরকে দোষারোপ করছেন।

লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক বিরু মোল্লা বলেন, আকরাম হোসেন এতোদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। এখন জামায়াতে যোগ দিয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ শুরু করেছেন। জামায়াতের হামলায় আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

জানতে চাইলে জামায়াতের যুব সংগঠনের ইউনিয়ন সেক্রেটারী আকরাম বলেন, আমি ২০১৮ সাল থেকে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমাকে আওয়ামী লীগ নেতা বলে অপমানজনক কথাবার্তা বলে স্থানীয় বিএনপিরা। লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের টিসিবির কার্ড নিয়ে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে আমাদের আগেই কথাবার্তা হয়েছিল। সে অনুযায়ী কাজও চলছিল। কিন্তু বুধবার বিএনপির এক নেতা বলেন, জামায়াত নেতাদের কথায় কাউকে কোনো কার্ড দেওয়া হবে না। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে তারা অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের চারজন কর্মী আহত হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ জমা দেয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঈশ্বরদীতে বিএনপি জামায়াতের সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৪

পাবনার ঈশ্বরদীতে টিসিবির কার্ড বণ্টন করা নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে ৮ জন আহত হয়েছেন। এ সময় গুলিবর্ষণের ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ।

বুধবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহতরা হলেন- লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক বীরু মোল্লা, রাজিব মোল্লা, বিএনপি কর্মী মিলন বিশ্বাস, রাব্বি মোল্লা, জামায়াত কর্মী হাসান, মো. তোফায়েল, মো. একরাম ও ফিরোজ ফকির।

লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারী জিল্লুর রহমান জানান, আমরা বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা আলোচনা সাপেক্ষে লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে টিসিবি কার্ড বরাদ্দের উদ্যোগ গ্রহণ করি। বুধবার বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বিএনপি নেতা বিরু মোল্লা ও জামায়াতের যুব সংগঠনের ইউনিয়ন সেক্রেটারী আকরাম এ নিয়ে আলোচনার সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মিজানুর রহমানের মধ্যস্থতায় সমাধান হয়।

তিনি আরও জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ পর বিএনপির লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে জামায়াতের যুব সংগঠনের ইউনিয়ন সেক্রেটারী আকরাম আলীর বাড়ির দিকে রওনা হলে রাস্তায় তাদের আকরাম আলীর লোকজন বাধা দেন। এতে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে সেখানে গুলিবষর্ণের ঘটনা ঘটে। তবে গুলিতে কেউ হতাহত হয়নি। গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিএনপি-জামায়াত নেতারা একে অপরকে দোষারোপ করছেন।

লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক বিরু মোল্লা বলেন, আকরাম হোসেন এতোদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। এখন জামায়াতে যোগ দিয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ শুরু করেছেন। জামায়াতের হামলায় আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

জানতে চাইলে জামায়াতের যুব সংগঠনের ইউনিয়ন সেক্রেটারী আকরাম বলেন, আমি ২০১৮ সাল থেকে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমাকে আওয়ামী লীগ নেতা বলে অপমানজনক কথাবার্তা বলে স্থানীয় বিএনপিরা। লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের টিসিবির কার্ড নিয়ে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে আমাদের আগেই কথাবার্তা হয়েছিল। সে অনুযায়ী কাজও চলছিল। কিন্তু বুধবার বিএনপির এক নেতা বলেন, জামায়াত নেতাদের কথায় কাউকে কোনো কার্ড দেওয়া হবে না। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে তারা অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের চারজন কর্মী আহত হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ জমা দেয়নি।