ঢাকা ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশের ক্রীড়া যেন বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে সেই লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার – প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ, থানায় আত্মসমর্পণ স্বামীর তীব্র গরমে ডুমুরিয়া পল্লী বিদ্যুতের নজিরবিহীন লোডশেডিং, অতিষ্ঠ জনজীবন মদনে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ওসির সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় হরিণাকুন্ডুতে ৫০ জন অগ্রগামী খামারি নিয়ে লাভজন চাষে ব্রাক ফিশারিজ এন্টারপ্রাইজ প্রশিক্ষন হু হু করে বাড়ছে দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত, বন্যা ও নদীভাঙনের শঙ্কা চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পৃথক অভিযানে বিস্ফোরক ও মাদক মামলার দুই আসামী গ্রেফতার জলঢাকা থানার ১২ নম্বর মামলার প্রধান আসামি ইউপি চেয়ারম্যান মুকুল গ্রেপ্তার; আদালতে সোপর্দ কুমিল্লায় ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার দুই মূল ঘাতক ১৪ মামলার আসামিসহ ৪ ডাকাত গ্রেফতার, অস্ত্র ও মাইক্রোবাস উদ্ধার

ঈশ্বরদীতে শোকের মাতম, একই গোরস্থানে পরিবারের ৩ সদস্যের দাফন

তুহিন হোসেন
  • আপডেট সময় : ০১:২৫:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ মার্চ ২০২৫ ২৪৭ বার পড়া হয়েছে

ঈশ্বরদীতে সড়ক দূর্ঘটনায় শিশুসহ একই পরিবারের ৩ জনকে হারানো পরিবারে বইছে শোকের মাতম। প্রিয়জনদের হারিয়ে দিশেহারা পরিবারসহ পুরো এলাকাবাসী।

গতকাল বৃহস্পতিবার ( ২০ মার্চ ) বিকেল সোয়া ৫ টায় ঈশ্বরদী-ঢাকা মহাসড়কের বহরপুর কান্দিপাড়া এলাকায় ঈদের কোনাকাটা শেষে শ্বশুরবাড়ীতে যাওয়ার সময় এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানসহ নিহত হন রাব্বি হোসেন। রাব্বি হোসেন ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের দিয়ার বাঘইল এলাকার মৃত বাবু হোসেনের ছেলে। সে রুপপুর পারমানবিক এলাকায় একটি মুদি দোকান চালাত। তার অকাল মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো পরিবার ও এলাকাবাসী।

আজ শুক্রবার সকাল ১০ ঘটিকায় পাকশী ইউনিয়নের দিয়ার বাঘইল কেন্দ্রীয় মসজিদ মাঠে নামাযে জানাযা শেষে মসজিদ সংলগ্ন কেন্দ্রীর কবরস্থানে তাদের তিনজনেরই দাফন সম্পন্ন করা হয়।
শুক্রবার সকালে রাব্বির বাাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছেলে, পুত্রবধু ও একমাত্র নাতিকে হারিয়ে পাথর প্রায় রাব্বির মা। একই সাথে তাদের হারিয়ে নানা বিলাপ করছে পরিবারের সদস্যরা। তাদের মৃত্যুর খবর শুনে রাব্বির বাড়িতে এসে ভিড় করছে এলাকাবাসী।

নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩ বছর আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় রাব্বি দম্পত্তির এবং একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন মুক্তা খাতুন। মুক্তা তার বাবার বাড়িতেি প্রায় ০৫ মাস ছিল। আজ শুক্রবার (২১ মার্চ) শ্বশুর বাড়ীতে যাওয়ার কথা ছিলো মুক্তা খাতুনের। সেই লক্ষেই গতকাল ঈশ্বরদী বাজার থেকে কেনাকাটা শেষে বাবার বাড়ী উপজেলার নওদাপাড়া গ্রামে ফেরার পথেই সড়ক দূর্ঘটনায় স্বামী ও সন্তানসহ মারা যান মুক্তা খাতুন। এ দূর্ঘটনায় মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়।

নিহতদের  জানাযা নামাজে উপস্থিত হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল, রেল শ্রমিকদলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভাপতি আহসান হাবিব, ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের আমির ডক্টর নুরুজ্জামান প্রামাণিক, সাবেক ভিপি রেজাউল করিম শাহিন সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার কয়েক হাজার মানুষ। তারা শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, গতকাল ঈশ্বরদীতে বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের ৩ জনসহ মোট পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে আরও ২ জন। বৃহস্পতিবার ( ২০ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫ টার দিকে উপজেলার ঈশ্বরদী-পাবনা আঞ্চলিক সড়কের বহরপুর কান্দিপাড়া (বাঁশ হাট) সংলগ্ন এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে।
এ দূর্ঘটনায় নিহতরা হলেন ঈশ্বরদী পিয়ারপুর এলাকার রানার ছেলে মোস্তফা জামান তোহা (২৫) বাঘইল এলাকার মৃত বাবু হোসেনের ছেলে রাব্বি হোসেন (৩০), রাব্বির সহধর্মীনী মুক্তা খাতুন (২৭) ও তাদের একমাত্র সন্তান মুস্তাকিম (২) এবং ঝিনাইদহ শৈলকুপা উপজেলার রতিডাভা এলাকার আশরাফুল ইসলামের ছেলে রাতুল হোসেন (৩০)। তবে আহতদের বিস্তারিত এখনো পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরদী বাজার থেকে ঈদের কেনাকাটা শেষ করে স্ত্রী সন্তান নিয়ে অন্যান্য যাত্রীর সাথে শ্বশুরালয়ে যাত্রার উদ্দেশ্য রওনা দেন রাব্বি হোসেন। ঘটনার সময় কান্দিপাড়া এলাকায় সিএনজিটি পৌঁছালে পাবনা থেকে দ্রুত গতিতে ধেয়ে আসা একটি বাস তাদের সামনে থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজিতে থাকা যাত্রীসহ গাড়ীটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।

এতে ঘটনাস্থলেই সিএনজি চালক মোস্তফা জামান তোহার মৃত্যু হয়। এসময় স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে ২ জনের এবং গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার সময় পথিমধ্যে আরও ২ জনসহ মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম শহিদ বলেন, আমরা গতকাল ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের মরদেহ পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করে দাফনের অনুমতি দিয়েছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঈশ্বরদীতে শোকের মাতম, একই গোরস্থানে পরিবারের ৩ সদস্যের দাফন

আপডেট সময় : ০১:২৫:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ মার্চ ২০২৫

ঈশ্বরদীতে সড়ক দূর্ঘটনায় শিশুসহ একই পরিবারের ৩ জনকে হারানো পরিবারে বইছে শোকের মাতম। প্রিয়জনদের হারিয়ে দিশেহারা পরিবারসহ পুরো এলাকাবাসী।

গতকাল বৃহস্পতিবার ( ২০ মার্চ ) বিকেল সোয়া ৫ টায় ঈশ্বরদী-ঢাকা মহাসড়কের বহরপুর কান্দিপাড়া এলাকায় ঈদের কোনাকাটা শেষে শ্বশুরবাড়ীতে যাওয়ার সময় এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানসহ নিহত হন রাব্বি হোসেন। রাব্বি হোসেন ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের দিয়ার বাঘইল এলাকার মৃত বাবু হোসেনের ছেলে। সে রুপপুর পারমানবিক এলাকায় একটি মুদি দোকান চালাত। তার অকাল মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো পরিবার ও এলাকাবাসী।

আজ শুক্রবার সকাল ১০ ঘটিকায় পাকশী ইউনিয়নের দিয়ার বাঘইল কেন্দ্রীয় মসজিদ মাঠে নামাযে জানাযা শেষে মসজিদ সংলগ্ন কেন্দ্রীর কবরস্থানে তাদের তিনজনেরই দাফন সম্পন্ন করা হয়।
শুক্রবার সকালে রাব্বির বাাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছেলে, পুত্রবধু ও একমাত্র নাতিকে হারিয়ে পাথর প্রায় রাব্বির মা। একই সাথে তাদের হারিয়ে নানা বিলাপ করছে পরিবারের সদস্যরা। তাদের মৃত্যুর খবর শুনে রাব্বির বাড়িতে এসে ভিড় করছে এলাকাবাসী।

নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩ বছর আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় রাব্বি দম্পত্তির এবং একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন মুক্তা খাতুন। মুক্তা তার বাবার বাড়িতেি প্রায় ০৫ মাস ছিল। আজ শুক্রবার (২১ মার্চ) শ্বশুর বাড়ীতে যাওয়ার কথা ছিলো মুক্তা খাতুনের। সেই লক্ষেই গতকাল ঈশ্বরদী বাজার থেকে কেনাকাটা শেষে বাবার বাড়ী উপজেলার নওদাপাড়া গ্রামে ফেরার পথেই সড়ক দূর্ঘটনায় স্বামী ও সন্তানসহ মারা যান মুক্তা খাতুন। এ দূর্ঘটনায় মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়।

নিহতদের  জানাযা নামাজে উপস্থিত হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল, রেল শ্রমিকদলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভাপতি আহসান হাবিব, ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের আমির ডক্টর নুরুজ্জামান প্রামাণিক, সাবেক ভিপি রেজাউল করিম শাহিন সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার কয়েক হাজার মানুষ। তারা শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, গতকাল ঈশ্বরদীতে বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের ৩ জনসহ মোট পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে আরও ২ জন। বৃহস্পতিবার ( ২০ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫ টার দিকে উপজেলার ঈশ্বরদী-পাবনা আঞ্চলিক সড়কের বহরপুর কান্দিপাড়া (বাঁশ হাট) সংলগ্ন এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে।
এ দূর্ঘটনায় নিহতরা হলেন ঈশ্বরদী পিয়ারপুর এলাকার রানার ছেলে মোস্তফা জামান তোহা (২৫) বাঘইল এলাকার মৃত বাবু হোসেনের ছেলে রাব্বি হোসেন (৩০), রাব্বির সহধর্মীনী মুক্তা খাতুন (২৭) ও তাদের একমাত্র সন্তান মুস্তাকিম (২) এবং ঝিনাইদহ শৈলকুপা উপজেলার রতিডাভা এলাকার আশরাফুল ইসলামের ছেলে রাতুল হোসেন (৩০)। তবে আহতদের বিস্তারিত এখনো পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরদী বাজার থেকে ঈদের কেনাকাটা শেষ করে স্ত্রী সন্তান নিয়ে অন্যান্য যাত্রীর সাথে শ্বশুরালয়ে যাত্রার উদ্দেশ্য রওনা দেন রাব্বি হোসেন। ঘটনার সময় কান্দিপাড়া এলাকায় সিএনজিটি পৌঁছালে পাবনা থেকে দ্রুত গতিতে ধেয়ে আসা একটি বাস তাদের সামনে থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজিতে থাকা যাত্রীসহ গাড়ীটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।

এতে ঘটনাস্থলেই সিএনজি চালক মোস্তফা জামান তোহার মৃত্যু হয়। এসময় স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে ২ জনের এবং গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার সময় পথিমধ্যে আরও ২ জনসহ মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম শহিদ বলেন, আমরা গতকাল ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের মরদেহ পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করে দাফনের অনুমতি দিয়েছি।