ঢাকা ১০:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খালেদা জিয়ার স্মরণে ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন নেশার টাকা চেয়ে বাবা-মাকে মারধরে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা কাহারোলে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে অবরুদ্ধ, ইউএনও’র হস্তক্ষেপে উদ্ধার লালপুরে পুলিশ সদস্যসহ ইয়াবা নিয়ে গ্রেপ্তার ৩ ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত মিছিলের’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল জাকারিয়া পিন্টু ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রুয়েট উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ষষ্ঠ সমাবর্তন জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পাবনায় ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক, কারাদণ্ড ৩ মাদকসেবীর সত্যের পক্ষে এক সাহসিক কলম যোদ্ধা : সায়েক এম রহমান  বাংলাদেশ প্রেসক্লাব পাবনা জেলা শাখার মিলন মেলা ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

জগদ্দল মহাবিহার: নওগাঁর হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গর্ব

মোঃ মমিন আলী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৬৪ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার বুকে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন জগদ্দল মহাবিহার। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বাংলার গৌরবময় সভ্যতা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ইতিহাস বহন করে চলেছে। ইতিহাসবিদদের মতে, পাল সাম্রাজ্যের শেষ দিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র ছিল এই মহাবিহার।

জগদ্দল মহাবিহারটি ধামইরহাট উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং মঙ্গলবাড়ি থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। প্রত্নস্থলটি জগতপুর মৌজার উত্তরাংশ ও জগদ্দল মৌজার দক্ষিণাংশজুড়ে বিস্তৃত। জয়পুর-ধামইরহাট সড়কের উত্তর পাশে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম।

ধারণা করা হয়, একাদশ শতকে পাল সম্রাট রামপালের শাসনামলে জগদ্দল মহাবিহার প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় এটি ছিল বৌদ্ধ ধর্ম, দর্শন, সাহিত্য ও জ্ঞানচর্চার এক প্রসিদ্ধ কেন্দ্র। এখানকার পণ্ডিতরা তিব্বতসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বৌদ্ধ দর্শন ও জ্ঞানচর্চা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় অনেক মানুষ এই স্থানটিকে বটকৃষ্ণ রায় নামের এক জমিদারের বাড়ির ধ্বংসাবশেষ বলে মনে করতেন। তবে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে এটি একটি প্রাচীন বৌদ্ধ মহাবিহারের ধ্বংসাবশেষ, যা বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য সাক্ষ্য বহন করে।

বর্তমানে জগদ্দল মহাবিহার দেশ-বিদেশের গবেষক, প্রত্নতাত্ত্বিক, ইতিহাসবিদ এবং ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। যথাযথ সংরক্ষণ, গবেষণা ও পর্যটনবান্ধব উন্নয়নের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক নিদর্শনকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও পরিচিত করে তোলা সম্ভব।

ইতিহাসের অমূল্য সম্পদ জগদ্দল মহাবিহার শুধু নওগাঁর নয়, সমগ্র বাংলাদেশের গর্ব। এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জগদ্দল মহাবিহার: নওগাঁর হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গর্ব

আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার বুকে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন জগদ্দল মহাবিহার। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বাংলার গৌরবময় সভ্যতা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ইতিহাস বহন করে চলেছে। ইতিহাসবিদদের মতে, পাল সাম্রাজ্যের শেষ দিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র ছিল এই মহাবিহার।

জগদ্দল মহাবিহারটি ধামইরহাট উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং মঙ্গলবাড়ি থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। প্রত্নস্থলটি জগতপুর মৌজার উত্তরাংশ ও জগদ্দল মৌজার দক্ষিণাংশজুড়ে বিস্তৃত। জয়পুর-ধামইরহাট সড়কের উত্তর পাশে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম।

ধারণা করা হয়, একাদশ শতকে পাল সম্রাট রামপালের শাসনামলে জগদ্দল মহাবিহার প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় এটি ছিল বৌদ্ধ ধর্ম, দর্শন, সাহিত্য ও জ্ঞানচর্চার এক প্রসিদ্ধ কেন্দ্র। এখানকার পণ্ডিতরা তিব্বতসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বৌদ্ধ দর্শন ও জ্ঞানচর্চা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় অনেক মানুষ এই স্থানটিকে বটকৃষ্ণ রায় নামের এক জমিদারের বাড়ির ধ্বংসাবশেষ বলে মনে করতেন। তবে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে এটি একটি প্রাচীন বৌদ্ধ মহাবিহারের ধ্বংসাবশেষ, যা বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য সাক্ষ্য বহন করে।

বর্তমানে জগদ্দল মহাবিহার দেশ-বিদেশের গবেষক, প্রত্নতাত্ত্বিক, ইতিহাসবিদ এবং ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। যথাযথ সংরক্ষণ, গবেষণা ও পর্যটনবান্ধব উন্নয়নের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক নিদর্শনকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও পরিচিত করে তোলা সম্ভব।

ইতিহাসের অমূল্য সম্পদ জগদ্দল মহাবিহার শুধু নওগাঁর নয়, সমগ্র বাংলাদেশের গর্ব। এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা আমাদের সবার দায়িত্ব।