ঢাকা ০৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

তীব্র গরমে ডুমুরিয়া পল্লী বিদ্যুতের নজিরবিহীন লোডশেডিং, অতিষ্ঠ জনজীবন

শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা
  • আপডেট সময় : ০৯:২৫:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ ১২২ বার পড়া হয়েছে

খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডুমুরিয়া উপজেলা জোনাল অফিস ও পাইকগাছা এলাকার আওতাধীন অঞ্চলগুলোতে তীব্র তাপদাহের মধ্যে চরম আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। দিন-রাত মিলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলা এই অসহনীয় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন। একদিকে পারদের ঊর্ধ্বমুখী তাপমাত্রা, অন্যদিকে বিদ্যুতের এই লাগামহীন লুকোচুরি—সব মিলিয়ে এলাকাবাসীর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। ক্ষুব্ধ নাগরিকেরা এখন মাঠপর্যায়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন।

২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ থাকে মাত্র কয়েক ঘণ্টা

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিন কিংবা রাত—কোনো নিয়ম ছাড়াই যখন-তখন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎহীন থাকছে গোটা এলাকা। বিশেষ করে রাতে দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ ও শিশুরা দুচোখের পাতা এক করতে পারছেন না। এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি ১৫ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ না থাকে, তাহলে এটাকে লোডশেডিং বলে না; একে বলে ‘লোডশেডিংয়ের মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ দেওয়া’। আমরা কি আদিম যুগে ফিরে যাচ্ছি?”

শিক্ষা, ব্যবসা ও চিকিৎসা খাত বিপর্যস্ত

বিদ্যুতের এই নজিরবিহীন লোডশেডিংয়ের ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। তীব্র গরমে রাতে মোমবাতি বা চার্জার লাইট জ্বালিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে তাদের, যা তাদের শিক্ষাজীবনে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।

ব্যবসায়িক খাতেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ‘মামুনুর কম্পিউটার’-এর স্বত্বাধিকারী শেখ মামুনুর রশিদ বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা কাঁচামাল ও মাছ-মাংস নষ্ট হচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হবে।”

অপরদিকে, তীব্র গরমে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী এবং শিশুরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে। ঘরে ঘরে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড়

বিদ্যুৎ বিভাগের এমন উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন। বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এক ভুক্তভোগী লিখেছেন, “বিল দেওয়ার সময় একদিন দেরি হলে জরিমানা নেওয়া হয়; কিন্তু ঠিকমতো বিদ্যুৎ না দিলে তার জরিমানা কে দেবে? বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে সাধারণ মানুষের এই কষ্ট বোঝার কথা নয়।” অন্য একজন ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, “পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা কি সাধারণ মানুষের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন?”

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

সার্বিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের (পল্লী বিদ্যুৎ) পাইকগাছা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) অঞ্জন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “জাতীয় গ্রিডে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম রয়েছে। এর পাশাপাশি কিছু কারিগরি ত্রুটির কারণেই মূলত এই সাময়িক পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।”

তবে উদ্ভূত এই পরিস্থিতি কবে নাগাদ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দিতে পারেননি এই কর্মকর্তা।

গ্রাহকদের দাবি

ডুমুরিয়াবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে এই অন্যায্য লোডশেডিং বন্ধ করে এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক। তীব্র তাপদাহের এই সময়ে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ থেকে রেহাই দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

তীব্র গরমে ডুমুরিয়া পল্লী বিদ্যুতের নজিরবিহীন লোডশেডিং, অতিষ্ঠ জনজীবন

আপডেট সময় : ০৯:২৫:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডুমুরিয়া উপজেলা জোনাল অফিস ও পাইকগাছা এলাকার আওতাধীন অঞ্চলগুলোতে তীব্র তাপদাহের মধ্যে চরম আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। দিন-রাত মিলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলা এই অসহনীয় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন। একদিকে পারদের ঊর্ধ্বমুখী তাপমাত্রা, অন্যদিকে বিদ্যুতের এই লাগামহীন লুকোচুরি—সব মিলিয়ে এলাকাবাসীর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। ক্ষুব্ধ নাগরিকেরা এখন মাঠপর্যায়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন।

২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ থাকে মাত্র কয়েক ঘণ্টা

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিন কিংবা রাত—কোনো নিয়ম ছাড়াই যখন-তখন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎহীন থাকছে গোটা এলাকা। বিশেষ করে রাতে দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ ও শিশুরা দুচোখের পাতা এক করতে পারছেন না। এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি ১৫ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ না থাকে, তাহলে এটাকে লোডশেডিং বলে না; একে বলে ‘লোডশেডিংয়ের মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ দেওয়া’। আমরা কি আদিম যুগে ফিরে যাচ্ছি?”

শিক্ষা, ব্যবসা ও চিকিৎসা খাত বিপর্যস্ত

বিদ্যুতের এই নজিরবিহীন লোডশেডিংয়ের ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। তীব্র গরমে রাতে মোমবাতি বা চার্জার লাইট জ্বালিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে তাদের, যা তাদের শিক্ষাজীবনে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।

ব্যবসায়িক খাতেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ‘মামুনুর কম্পিউটার’-এর স্বত্বাধিকারী শেখ মামুনুর রশিদ বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা কাঁচামাল ও মাছ-মাংস নষ্ট হচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হবে।”

অপরদিকে, তীব্র গরমে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী এবং শিশুরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে। ঘরে ঘরে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড়

বিদ্যুৎ বিভাগের এমন উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন। বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এক ভুক্তভোগী লিখেছেন, “বিল দেওয়ার সময় একদিন দেরি হলে জরিমানা নেওয়া হয়; কিন্তু ঠিকমতো বিদ্যুৎ না দিলে তার জরিমানা কে দেবে? বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে সাধারণ মানুষের এই কষ্ট বোঝার কথা নয়।” অন্য একজন ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, “পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা কি সাধারণ মানুষের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন?”

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

সার্বিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের (পল্লী বিদ্যুৎ) পাইকগাছা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) অঞ্জন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “জাতীয় গ্রিডে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম রয়েছে। এর পাশাপাশি কিছু কারিগরি ত্রুটির কারণেই মূলত এই সাময়িক পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।”

তবে উদ্ভূত এই পরিস্থিতি কবে নাগাদ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দিতে পারেননি এই কর্মকর্তা।

গ্রাহকদের দাবি

ডুমুরিয়াবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে এই অন্যায্য লোডশেডিং বন্ধ করে এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক। তীব্র তাপদাহের এই সময়ে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ থেকে রেহাই দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।