ঢাকা ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

দুই গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য, অতিরিক্ত দায়িত্বে চলছে শান্তিগঞ্জ প্রশাসন.

মো. রেজাউল করিম স্টাফ রিপোর্টার, সুনামগঞ্জ
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ ১৪৫ বার পড়া হয়েছে

ইউএনও ও এসিল্যান্ড ছাড়া প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি, সেবা পেতে ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ, বিলম্বিত উন্নয়ন কাজ

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ—উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)—দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কর্মকর্তা ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। একজন কর্মকর্তা বদলির পর নতুন কেউ যোগ দেননি, অন্যজন দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণে থাকায় দুই দপ্তরের কার্যক্রম চলছে অতিরিক্ত দায়িত্বের ভিত্তিতে। এতে প্রশাসনিক সেবায় ধীরগতি দেখা দিয়েছে এবং প্রতিদিন নানা কাজে উপজেলা পরিষদে আসা সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১০ জুন শান্তিগঞ্জ উপজেলার ইউএনও মোহাম্মদ শাহজাহান বদলি হওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। পরে জেলা প্রশাসন পার্শ্ববর্তী জগন্নাথপুর উপজেলার ইউএনও মো. ইসলাম উদ্দিনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়। তবে নিজ উপজেলার পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করায় তিনি নিয়মিতভাবে শান্তিগঞ্জে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। সপ্তাহে সীমিত সময় বা বিশেষ প্রয়োজনে উপজেলায় আসায় অধিকাংশ সময়ই প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে স্থায়ী নেতৃত্ব ছাড়াই।

এর ফলে প্রতিদিন বিভিন্ন সেবা নিতে আসা নাগরিকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকেই স্বাক্ষর, অনুমোদন কিংবা জরুরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জন্য একাধিকবার উপজেলা পরিষদে এসেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। এতে সময় ও অর্থ—উভয় দিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়ছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জরুরি প্রশাসনিক অনুমোদন, বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিষ্পত্তি, আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম এবং জন্ম নিবন্ধনের তথ্য সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোও বিলম্বিত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে নাগরিক সেবার পাশাপাশি সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও।

এদিকে, উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা তুজ জোহরা চলতি বছরের ১০ মে থেকে পাঁচ মাসব্যাপী প্রশিক্ষণে রয়েছেন। ফলে ভূমি প্রশাসনের কার্যক্রমও অতিরিক্ত দায়িত্বে পরিচালিত হচ্ছে। এতে নামজারি, ভূমি-সংক্রান্ত আবেদন, শুনানি ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে এই দুটি পদে নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সেবা গ্রহণ থেকে শুরু করে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যন্ত।

জনস্বার্থে দ্রুত শান্তিগঞ্জ উপজেলায় নিয়মিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত পদায়ন না হলে নাগরিক ভোগান্তি আরও বাড়বে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দীর্ঘায়িত হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

দুই গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য, অতিরিক্ত দায়িত্বে চলছে শান্তিগঞ্জ প্রশাসন.

আপডেট সময় : ০৮:৫৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

ইউএনও ও এসিল্যান্ড ছাড়া প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি, সেবা পেতে ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ, বিলম্বিত উন্নয়ন কাজ

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ—উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)—দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কর্মকর্তা ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। একজন কর্মকর্তা বদলির পর নতুন কেউ যোগ দেননি, অন্যজন দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণে থাকায় দুই দপ্তরের কার্যক্রম চলছে অতিরিক্ত দায়িত্বের ভিত্তিতে। এতে প্রশাসনিক সেবায় ধীরগতি দেখা দিয়েছে এবং প্রতিদিন নানা কাজে উপজেলা পরিষদে আসা সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১০ জুন শান্তিগঞ্জ উপজেলার ইউএনও মোহাম্মদ শাহজাহান বদলি হওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। পরে জেলা প্রশাসন পার্শ্ববর্তী জগন্নাথপুর উপজেলার ইউএনও মো. ইসলাম উদ্দিনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়। তবে নিজ উপজেলার পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করায় তিনি নিয়মিতভাবে শান্তিগঞ্জে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। সপ্তাহে সীমিত সময় বা বিশেষ প্রয়োজনে উপজেলায় আসায় অধিকাংশ সময়ই প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে স্থায়ী নেতৃত্ব ছাড়াই।

এর ফলে প্রতিদিন বিভিন্ন সেবা নিতে আসা নাগরিকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকেই স্বাক্ষর, অনুমোদন কিংবা জরুরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জন্য একাধিকবার উপজেলা পরিষদে এসেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। এতে সময় ও অর্থ—উভয় দিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়ছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জরুরি প্রশাসনিক অনুমোদন, বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিষ্পত্তি, আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম এবং জন্ম নিবন্ধনের তথ্য সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোও বিলম্বিত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে নাগরিক সেবার পাশাপাশি সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও।

এদিকে, উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা তুজ জোহরা চলতি বছরের ১০ মে থেকে পাঁচ মাসব্যাপী প্রশিক্ষণে রয়েছেন। ফলে ভূমি প্রশাসনের কার্যক্রমও অতিরিক্ত দায়িত্বে পরিচালিত হচ্ছে। এতে নামজারি, ভূমি-সংক্রান্ত আবেদন, শুনানি ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে এই দুটি পদে নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সেবা গ্রহণ থেকে শুরু করে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যন্ত।

জনস্বার্থে দ্রুত শান্তিগঞ্জ উপজেলায় নিয়মিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত পদায়ন না হলে নাগরিক ভোগান্তি আরও বাড়বে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দীর্ঘায়িত হতে পারে।