ঢাকা ১২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নেশার টাকা চেয়ে বাবা-মাকে মারধরে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা কাহারোলে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে অবরুদ্ধ, ইউএনও’র হস্তক্ষেপে উদ্ধার লালপুরে পুলিশ সদস্যসহ ইয়াবা নিয়ে গ্রেপ্তার ৩ ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত মিছিলের’ প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল জাকারিয়া পিন্টু ও সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রুয়েট উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ষষ্ঠ সমাবর্তন জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পাবনায় ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক, কারাদণ্ড ৩ মাদকসেবীর সত্যের পক্ষে এক সাহসিক কলম যোদ্ধা : সায়েক এম রহমান  বাংলাদেশ প্রেসক্লাব পাবনা জেলা শাখার মিলন মেলা ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে কৃষকদের আস্থার প্রতিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল ইমরান

নওগাঁর বলিহার বাজারে ভাঙা পা নিয়েও বৃদ্ধ মায়ের সেবায় বাদশা মিয়া, মানবিক সহায়তার আকুতি

মোঃ মমিন আলী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে

Oplus_131072

নওগাঁর বলিহার বাজারে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত সাবেক বিএস কোয়ার্টারে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বাদশা মিয়া। নেই নিজের কোনো ঘরবাড়ি, নেই স্থায়ী আশ্রয়। অভাব-অনটন আর শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করেই কাটছে তার জীবন।

দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ ও হৃদরোগে আক্রান্ত বাদশা মিয়া। অসুস্থতার কারণে কোনো ধরনের কাজ করতে পারেন না। মানুষের সহায়তা ও ভিক্ষার ওপর নির্ভর করেই চলছিল তার সংসার।

এরই মধ্যে সম্প্রতি হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে তার পায়ের গোড়ালিতে গুরুতর আঘাত লাগে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান, তার গোড়ালি স্থানচ্যুত হয়েছে এবং হাড়ে চিড় ধরেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও অর্থাভাবে তিনি প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারছেন না। বর্তমানে তার পা ফুলে গেছে এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে।

চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা না হলে বাদশা মিয়া স্থায়ী পঙ্গুত্বসহ আরও জটিল সমস্যায় পড়তে পারেন।

সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো—বাদশা মিয়ার বৃদ্ধ মা নিজেও চলাফেরা করতে অক্ষম। নিজের ভাঙা পা নিয়েই তিনি মায়ের সেবা করে যাচ্ছেন। এই পৃথিবীতে তার মা ছাড়া আর কোনো আপনজন নেই। জীবনের চরম দুঃসময়েও মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও ভালোবাসা থেকে তিনি একটুও পিছপা হননি।

বাদশা মিয়ার এই মাতৃভক্তি ও সংগ্রামী জীবন সমাজের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—তিনি কি আবার সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন?

সমাজের বিত্তবান, মানবিক ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সহৃদয় মানুষের প্রতি অনুরোধ—সামর্থ্য অনুযায়ী বাদশা মিয়ার পাশে দাঁড়ান। আপনার সামান্য সহযোগিতাই পারে একজন অসহায় মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে এবং তার বৃদ্ধ মায়ের একমাত্র অবলম্বনকে বাঁচিয়ে রাখতে।

আসুন, মানবতার হাত বাড়িয়ে দিই। মহান সৃষ্টিকর্তা যেন বাদশা মিয়াকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন—এই কামনা রইল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নওগাঁর বলিহার বাজারে ভাঙা পা নিয়েও বৃদ্ধ মায়ের সেবায় বাদশা মিয়া, মানবিক সহায়তার আকুতি

আপডেট সময় : ০৬:৫৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

নওগাঁর বলিহার বাজারে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত সাবেক বিএস কোয়ার্টারে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বাদশা মিয়া। নেই নিজের কোনো ঘরবাড়ি, নেই স্থায়ী আশ্রয়। অভাব-অনটন আর শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করেই কাটছে তার জীবন।

দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ ও হৃদরোগে আক্রান্ত বাদশা মিয়া। অসুস্থতার কারণে কোনো ধরনের কাজ করতে পারেন না। মানুষের সহায়তা ও ভিক্ষার ওপর নির্ভর করেই চলছিল তার সংসার।

এরই মধ্যে সম্প্রতি হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে তার পায়ের গোড়ালিতে গুরুতর আঘাত লাগে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান, তার গোড়ালি স্থানচ্যুত হয়েছে এবং হাড়ে চিড় ধরেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও অর্থাভাবে তিনি প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারছেন না। বর্তমানে তার পা ফুলে গেছে এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে।

চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা না হলে বাদশা মিয়া স্থায়ী পঙ্গুত্বসহ আরও জটিল সমস্যায় পড়তে পারেন।

সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো—বাদশা মিয়ার বৃদ্ধ মা নিজেও চলাফেরা করতে অক্ষম। নিজের ভাঙা পা নিয়েই তিনি মায়ের সেবা করে যাচ্ছেন। এই পৃথিবীতে তার মা ছাড়া আর কোনো আপনজন নেই। জীবনের চরম দুঃসময়েও মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও ভালোবাসা থেকে তিনি একটুও পিছপা হননি।

বাদশা মিয়ার এই মাতৃভক্তি ও সংগ্রামী জীবন সমাজের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—তিনি কি আবার সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন?

সমাজের বিত্তবান, মানবিক ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সহৃদয় মানুষের প্রতি অনুরোধ—সামর্থ্য অনুযায়ী বাদশা মিয়ার পাশে দাঁড়ান। আপনার সামান্য সহযোগিতাই পারে একজন অসহায় মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে এবং তার বৃদ্ধ মায়ের একমাত্র অবলম্বনকে বাঁচিয়ে রাখতে।

আসুন, মানবতার হাত বাড়িয়ে দিই। মহান সৃষ্টিকর্তা যেন বাদশা মিয়াকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন—এই কামনা রইল।