নাগেশ্বরীতে অসহায় বৃদ্ধার পাশে ‘মানবতার ডাক’ নতুন ঘর পেয়ে স্বস্তিতে খোতেজা বেওয়া
- আপডেট সময় : ০৪:৩৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ ২০৩ বার পড়া হয়েছে
মানবিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের তেলিয়ানীর পাড় গ্রামে অসহায় এক বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ‘মানবতার ডাক সামাজিক ফাউন্ডেশন’। সংগঠনটির উদ্যোগে মৃত উমর আলীর স্ত্রী খোতেজা বেওয়ার জন্য একটি নতুন টিনের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে খোতেজা বেওয়া অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। সামান্য বৃষ্টিতেই চাল দিয়ে পানি পড়ত, ফলে বর্ষার দিনে নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে পরিবারটির দুর্ভোগের শেষ ছিল না। বিষয়টি ‘মানবতার ডাক সামাজিক ফাউন্ডেশন’-এর বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মতিয়ার রহমানের নজরে আসে। এরপর সংগঠনের পক্ষ থেকে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বৃদ্ধার জন্য মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়।
শুক্রবার (১৯ জুন) জুমার নামাজের পর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— মতিয়ার রহমান, জাহাঙ্গীর আলম, নাজির হোসেন মাস্টার, মুফতি জামাল উদ্দীন, সেলিম (সাপখাওয়া), হাফিজুর রহমান, বাবু মিয়া, গোলাম মোস্তফা, মাহাবুব রহমান, আব্দুর রহিম লিটন, নাছিমুল হক, আশিক মিয়া, আসাদুজ্জামান আসাদ, সংবাদকর্মী মিজানুর রহমান ও শাওন আহম্মেদ লেবুসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ঘর হস্তান্তরের পাশাপাশি অসহায় পরিবারটির হাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী—যেমন চাল, ডাল, লবণ, পেঁয়াজ, আলু, সয়াবিন তেল, রসুন এবং মশলাজাতীয় সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত খোতেজা বেওয়া কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “অনেক কষ্টে দিন কাটছিল। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ত। এখন একটি নিরাপদ আশ্রয় পেলাম। যারা আমাকে এই সহযোগিতা করেছেন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন।”
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য। মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্থানীয়রা জানান, এমন মানবিক উদ্যোগ শুধু একটি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ই দেয়নি, বরং সমাজে সহমর্মিতা ও মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
















