ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ঈশ্বরদীর পদ্মাপাড়ে সন্ত্রাসের আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হবে: হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদীতে বসতবাড়ি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ: হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঈশ্বরদীতে পোল্ট্রি খামারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজের মান যাচাইয়ে মাঠে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি সফরের নামে স্ত্রী নিয়ে সচিবের ভ্রমণ কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২  ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা: সপ্তাহ পেরোলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে আসামি রুবেল

প্রাণঘাতী হামলা মামলার আসামিদের জামিনে মুক্তি: গৌরারংয়ে মানববন্ধন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

এম আর সজিব সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৩:৫২:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ৯৬ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের আহমদাবাদ গ্রামে গরুর ব্যবসায়ী সমর আলীর ওপর প্রাণঘাতী হামলা, নগদ ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিদের জামিনে মুক্তির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, গত ৬ জুন বিকেলে পারিবারিক ডিপ টিউবওয়েলে মাছ ধোয়া নিয়ে সমর আলীর স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে প্রতিবেশী রুবেল মিয়ার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কিশোরীকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের দাবি।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার জের ধরে একই দিন রাত প্রায় ৮টার দিকে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সমর আলীর গতিরোধ করে কয়েকজন সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা কাঠের টুকরা, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা, চোখ, বুক, হাত ও পায়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করে। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তার ডান হাতেও ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে।

স্থানীয়রা আহত সমর আলীকে উদ্ধার করে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলার সময় সমর আলীর কাছে গরু কেনাবেচার নগদ ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে মামলা করলে তাকে ও পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় সমর আলীর স্ত্রী মোছা. সুজান বেগম সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে জমির মিয়া, রুবেল মিয়া, রফিক মিয়া ও আলিম উদ্দিনসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সমর আলী যখন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তখন মামলার আসামিরা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। জামিনের পর তারা পুনরায় ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, গালিগালাজ এবং হামলার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন মানববন্দনে তারা।

এ সময় তারা আরও অভিযোগ করেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরিদ মিয়া যথাযথ তদন্ত ছাড়াই দ্রুত আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন, যার ফলে আসামিরা জামিন পেয়েছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে মানববন্ধনে কোনো প্রামাণ্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।

মানববন্ধন থেকে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, তদন্ত কর্মকর্তার ভূমিকা খতিয়ে দেখা, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তারা।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রতন শেখ পিপিএম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা এফআইআর গ্রহণ করেছি। আদালত জামিন দিয়েছেন, সেটি আদালতের বিষয়। পুলিশ আইন অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।এবং আবার যদি হামলা করে থানায় আসুন ব্যবস্থা নিব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

প্রাণঘাতী হামলা মামলার আসামিদের জামিনে মুক্তি: গৌরারংয়ে মানববন্ধন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আপডেট সময় : ০৩:৫২:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের আহমদাবাদ গ্রামে গরুর ব্যবসায়ী সমর আলীর ওপর প্রাণঘাতী হামলা, নগদ ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিদের জামিনে মুক্তির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, গত ৬ জুন বিকেলে পারিবারিক ডিপ টিউবওয়েলে মাছ ধোয়া নিয়ে সমর আলীর স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে প্রতিবেশী রুবেল মিয়ার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কিশোরীকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের দাবি।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার জের ধরে একই দিন রাত প্রায় ৮টার দিকে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সমর আলীর গতিরোধ করে কয়েকজন সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা কাঠের টুকরা, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা, চোখ, বুক, হাত ও পায়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করে। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তার ডান হাতেও ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে।

স্থানীয়রা আহত সমর আলীকে উদ্ধার করে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলার সময় সমর আলীর কাছে গরু কেনাবেচার নগদ ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে মামলা করলে তাকে ও পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় সমর আলীর স্ত্রী মোছা. সুজান বেগম সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে জমির মিয়া, রুবেল মিয়া, রফিক মিয়া ও আলিম উদ্দিনসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সমর আলী যখন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তখন মামলার আসামিরা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। জামিনের পর তারা পুনরায় ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, গালিগালাজ এবং হামলার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন মানববন্দনে তারা।

এ সময় তারা আরও অভিযোগ করেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরিদ মিয়া যথাযথ তদন্ত ছাড়াই দ্রুত আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন, যার ফলে আসামিরা জামিন পেয়েছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে মানববন্ধনে কোনো প্রামাণ্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।

মানববন্ধন থেকে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, তদন্ত কর্মকর্তার ভূমিকা খতিয়ে দেখা, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তারা।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রতন শেখ পিপিএম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা এফআইআর গ্রহণ করেছি। আদালত জামিন দিয়েছেন, সেটি আদালতের বিষয়। পুলিশ আইন অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।এবং আবার যদি হামলা করে থানায় আসুন ব্যবস্থা নিব।